রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, মার্কিন বিমানহানার ঠিক পরদিন সোমবার সকালে তিনি মস্কোয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন।

মেদভেদেভ ও পুতিন
শেষ আপডেট: 22 June 2025 18:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন হামলার পর এবার রাশিয়ার দুয়ারে ইরান। রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে ইরানের (Iran) বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, মার্কিন বিমানহানার ঠিক পরদিন সোমবার সকালে তিনি মস্কোয় (Moscow) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের (Vladimir Putin) সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন।
ইস্তানবুলে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (OIC) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আরাগচি বলেন, “রাশিয়া আমাদের বন্ধু। আমাদের মধ্যে নিয়মিত পরামর্শ হয়। আজই আমি মস্কো রওনা হচ্ছি, কাল সকালে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় বসব।”
এর ঠিক আগেই শনিবার রাতে আমেরিকা ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণু ঘাঁটিতে হামলা চালায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে চালানো এই হামলার যুক্তি হিসেবে হোয়াইট হাউস বলেছে—ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনাকে রুখতেই ‘এই পদক্ষেপের প্রয়োজন ছিল’।
এই হামলাকে ‘গভীর লঙ্ঘন’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে আমেরিকা সীমা পেরিয়ে গিয়েছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘ সনদের ৫১ নম্বর ধারা অনুযায়ী এবার আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে ইরান।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই ছিলাম। জেনেভায় ইউরোপীয় মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। কিন্তু ইজরায়েল ও আমেরিকা সেই আলোচনা বানচাল করে দিল। এবার আর আমেরিকার সঙ্গে কূটনীতি সম্ভব নয়।”
এদিকে মস্কো থেকে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এবং বর্তমান নিরাপত্তা পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ। তাঁর দাবি, “ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র দিতে রাজি বহু দেশ।’’ যদিও তিনি কোনও দেশের নাম বলেননি।
টেলিগ্রামে প্রকাশিত বার্তায় মেদভেদেভ বলেন, “শান্তির দূত বলে পরিচিত ট্রাম্প আসলে আর একটা যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছেন। মার্কিন হামলা ইরানের পরমাণু পরিকাঠামোয় কোনও কার্যকর ক্ষতি করতে পারেনি। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “এই হামলায় ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষ এখন দেশের শীর্ষ ধর্মীয় নেতৃত্বের পাশে দাঁড়িয়েছে—বরং যাঁরা আগে সমর্থক ছিলেন না, তাঁরাও পাশে থাকছেন।”
মেদভেদেভ জানান, “ইজরায়েলের একাধিক জায়গায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। আমেরিকা এমন এক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে, যার শেষ নেই। স্থলসেনা নামানোর সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।”
ইরান এই মুহূর্তে কূটনৈতিক পথে না গিয়ে আন্তর্জাতিক মহলকে কার্যত চাপে রাখার কৌশল নিচ্ছে। মস্কোয় পুতিনের সঙ্গে বৈঠক তারই ইঙ্গিত। আবার মেদভেদেভের বক্তব্য যে রাশিয়ার অবস্থানকে অনেকটাই কঠোর করে তুলেছে, তা স্পষ্ট।
মার্কিন হামলা পারমাণবিক ইস্যুতে ইরানকে একঘরে করতে চেয়েছিল। কিন্তু পাল্টা চাপে ইরান এখন ‘নতুন জোট গঠনের’ পথে হাঁটতে পারে—এই আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্দরে।