সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ দেওয়া পোস্টে তিনি জানান, “খুব শিগগিরই আমেরিকার মাটিতে, আমেরিকার আদালতেই তাঁদের বিরুদ্ধে পূর্ণ মাত্রার বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হবে।”

শেষ আপডেট: 3 January 2026 20:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত গুরুতর মামলার মুখোমুখি হতে চলেছেন ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো (Venezuelan President Nicolas Maduro) এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস। শনিবার তাঁদের গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই ঘোষণা করেছেন মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ দেওয়া পোস্টে তিনি জানান, “খুব শিগগিরই আমেরিকার মাটিতে, আমেরিকার আদালতেই তাঁদের বিরুদ্ধে পূর্ণ মাত্রার বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হবে।”
প্যাম বন্ডির দাবি, নিউইয়র্কে দায়ের হওয়া অভিযোগপত্রে নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে নার্কো-টেররিজমে ষড়যন্ত্র, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র, মেশিনগান ও বিধ্বংসী অস্ত্র রাখা এবং সেইসব অস্ত্র ব্যবহারের ষড়যন্ত্র। মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য, এই সমস্ত অভিযোগ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত।
এই ঘোষণার আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে একটি ‘বৃহৎ সামরিক অভিযান’ চালানো হয়েছে। সেই অভিযানে নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেফতার করে দেশ থেকে বাইরে নিয়ে আসা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, এই অভিযান মার্কিন আইনরক্ষী বাহিনীর সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে শীঘ্রই সাংবাদিক বৈঠক করা হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই মাদুরো সরকারকে ‘নার্কো-টেররিস্ট সরকার’ বলে আক্রমণ করে আসছেন। অতীতে ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগে সে দেশের নৌ বাহিনীর হামলার নির্দেশও দিয়েছিলেন তিনি। প্রয়োজনে ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে সরাসরি সামরিক হামলার হুঁশিয়ারিও দেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলা সরকার এই অভিযানকে তীব্র ভাষায় নিন্দা করে একে ‘সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন’ বলে আখ্যা দিয়েছে। সরকারের দাবি, এই অভিযানের আসল উদ্দেশ্য মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা। সরকার সমর্থকদের রাস্তায় নামার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার জেরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। লাতিন আমেরিকা থেকে ইউরোপ— সর্বত্রই প্রশ্ন উঠছে আন্তর্জাতিক আইন, সার্বভৌমত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে। এখন মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে মার্কিন আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার উপর।