শনিবার রাতের বিস্ফোরণের ঘটনার পর নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ভেনেজুয়েলার আকাশে সব ধরনের বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

শেষ আপডেট: 3 January 2026 15:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (US President Donald Trump) শাসানির পরপরই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেল ভেনেজুয়েলায় (Venezuela Blast)। যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার গভীর রাতে রাজধানী কারাকাসের (Caracas) আকাশে খুব নীচ দিয়ে যুদ্ধবিমান উড়ে যাওয়ার শব্দও শোনা যায়। উল্লেখ্য, কিছু দিন আগেই ট্রাম্প (Trump) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা কার্যত বন্ধ বলে ধরে নিতে।
এই হুমকির পর শনিবার ভোরে একের পর এক মোট সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। এর জেরে ভেনেজুয়েলায় আমেরিকার সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তীব্র হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোও উপকূলবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেন।
ভেনেজুয়েলা থেকে আমেরিকায় মাদক পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে। আমেরিকার দাবি, মাদক পরিবহণে ব্যবহৃত জলযান হিসেবে চিহ্নিত করে ভেনেজুয়েলার কয়েকটি ছোট জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে এখনও পর্যন্ত ৮০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শনিবার রাতের বিস্ফোরণের ঘটনার পর নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ভেনেজুয়েলার আকাশে সব ধরনের বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
গত বছর ডিসেম্বর ভেনেজুয়েলায় তেল ট্যাঙ্কার চলাচলের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, ভেনেজুয়েলা সীমান্তে কোনও তেল ট্যাঙ্কার আসা-যাওয়া করতে পারবে না। সঙ্গে ভেনেজুয়েলা সরকারকে ‘জঙ্গি গোষ্ঠী’ তকমা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মধ্যরাতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা মাত্রই শহরের নানা এলাকার মানুষ আতঙ্কে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। বহু মানুষকে রাস্তায় ভিড় করতে দেখা যায়। একই সঙ্গে অনেকে বিস্ময় ও কৌতূহল নিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকেন। যদিও এই বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়, বিষয়টি ঘিরে অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বর্তমানে চরম উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যারিবিয়ান এলাকায় মার্কিন নৌবাহিনী মোতায়েনের কথা জানিয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষিতেই ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।