নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারটিই ট্রাম্পকে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মাচাদো। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই শেষ পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হয়েছে নোবেল কমিটি (Nobel Committee statement)।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 10 January 2026 22:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে উত্তাপ ফের বৃদ্ধি পেয়েছে বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর (Maria Corina Machado) সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে (Venezuela President Nicolas Maduro capture) আটক করার পর থেকেই তিনি প্রকাশ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করে আসছেন। এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারটিই ট্রাম্পকে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মাচাদো। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই শেষ পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হয়েছে নোবেল কমিটি (Nobel Committee statement)।
গত বছর মাচাদো নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। তাঁর আগে ট্রাম্প নিজেও দাবি করেছিলেন যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাত থামানোর প্রচেষ্টার জন্য তাঁর নোবেল পাওয়া উচিত (Trump Nobel controversy)। কিন্তু পুরস্কারটি ট্রাম্প নয়, বরং ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের জন্য মাচাদোকেই দেওয়া হয় (Machado Nobel Peace Prize)। পুরস্কার হাতে পাওয়ার পরেই তিনি সেটি ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেছিলেন। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের পর আবারও সেই বক্তব্য আরও জোরাল করেন তিনি। এমনকি মাচাদো জানিয়েছেন, তিনি আমেরিকায় গিয়ে পুরস্কারটি ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পের হাতে দেবেন।
এই অবস্থায় নোবেল কমিটি একটি বিবৃতি দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, একবার নোবেল পুরস্কার জয়ীর নাম ঘোষিত হলে তা আর বদলানো যায় না এবং অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করাও সম্ভব নয়। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর কোনও ব্যক্তিগত ঘোষণা সেই পুরস্কারের অবস্থা পাল্টাতে পারে না বলেই জানিয়েছে কমিটি।
মাচাদো দীর্ঘদিন ধরেই মাদুরো সরকারের (Maduro Govt) তীব্র সমালোচক। তাঁর অভিযোগ, সাম্প্রতিক ভেনেজুয়েলা নির্বাচনে তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রার্থী হতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। ভোটের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁকে দেশ ছাড়তে হয়। বর্তমানে তিনি নরওয়ের রাজধানী অসলোতে রয়েছেন।
এদিকে মাচাদোর মন্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি বলেন, “উনি আগামী সপ্তাহে আমেরিকা আসবেন। তখন তাঁর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। তিনি আমাদের দেশকে, আসলে আমাকেই সম্মান জানাতে চান। তবে আমি তো শুধু এই দেশের প্রতিনিধি।”
রাজনীতিতে এই নতুন উত্তাপ অনেকেই ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সংকটের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন। মাদুরোর গ্রেফতার, মাচাদোর নির্বাসন ও আন্তর্জাতিক সমর্থনের চেহারা- সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিচ্ছে।
মাদুরোকে আটক করার পরই স্পষ্ট করে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump), মাচাদোর নেতৃত্বে তিনি ভরসা রাখতে চান না। ট্রাম্পের কথায়, “ওঁর পক্ষে দেশের নেতৃত্ব দেওয়া খুব কঠিন হবে। দেশের ভিতরে ওঁর যথেষ্ট সমর্থন বা সম্মান নেই। খুব ভাল মানুষ, কিন্তু নেতৃত্ব দেওয়ার মতো গ্রহণযোগ্যতা নেই।”
তবে সংকটের মুহূর্তে ট্রাম্পের সমর্থন পাননি মাচাদো। সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, অক্টোবরের পর আর ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর কোনও কথা হয়নি। এমনকি মাদুরোকে আটক করার অভিযানের বিষয়েও তিনি আগে কিছু জানতেন না।
বর্তমানে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মাদুরোর ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। মার্কিন প্রশাসনের মতে, তাঁর সঙ্গে কাজ করাই আপাতত বেশি বাস্তবসম্মত। তেল শিল্পের বড় সংস্থাগুলিও তাঁকেই পছন্দ করছে।