জাহাজে বর্তমানে মাত্র প্রায় ৬০ দিনের খাদ্যসামগ্রী মজুত রয়েছে। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সমস্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা Great Eastern Shipping Company এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক ভারতীয় নৌবাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।

শেষ আপডেট: 14 March 2026 08:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরবদুনিয়ার সংঘাতের (Middle East Tension) জেরে বন্ধ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz crisis), ফলে অনেক জাহাজ তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। আটকে রয়েছে একটি এলপিজি বোঝাই ভারতীয় জাহাজও (LPG tanker)। এতে প্রায় ৩৪ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছে (34 Indian crew trapped)। যুদ্ধের আকাশে মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মাথার উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে। আতঙ্কের মধ্যেই মাঝ সমুদ্রে প্রাণসংশয়ে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা।
এই ট্যাঙ্কারটিতে যে পরিমাণ এলপিজি (LPG) রয়েছে, তা দিয়ে ৩৬ লক্ষ গৃহস্থের গ্যাস সিলিন্ডার ভরা যাবে। জাহাজটি কুয়েতের মিনা আল আহমাদি বন্দর (Mina Al Ahmadi port in Kuwait) থেকে রওনা দিয়েছিল ভারতের দীনদয়াল কান্দলা বন্দরের (Deendayal Kandla Port in Gujarat) উদ্দেশে। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারির পর সমুদ্রে নানা বিধিনিষেধ জারি হওয়ায় জাহাজটি আর এগোতে পারেনি (Middle East shipping crisis)। বর্তমানে এটি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মিনা সাকর বন্দরের কাছাকাছি নোঙর করেছে।
“আমাদের মাথার উপর দিয়ে টানা ক্ষেপণাস্ত্র (Missiles) ও ড্রোন (Drone) উড়ে যাচ্ছে। চারদিকে সাইরেন বাজছে। যে কোনও সময় বড় কিছু ঘটতে পারে বলে মনে হচ্ছে। আমরা শুধু ভারতীয় নৌবাহিনীর নিরাপত্তা সঙ্গীর অপেক্ষা করছি, যাতে নিরাপদে দেশে ফিরতে পারি।” জাহাজ থেকে পাঠানো এক আবেগঘন বার্তায় ক্যাপ্টেন বীরেন্দ্র বিশ্বকর্মা আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন।
এদিকে মুম্বইয়ের বাসিন্দা ওই ক্যাপ্টেনের পরিবারও ভীষণ উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে। তাঁর স্ত্রী নীলপা বিশ্বকর্মা জানান, কয়েক দিন ধরে তিনি ঠিকমতো ঘুমোতে পারছেন না। তাঁদের ১০ বছরের ছেলে বেদাংশ এবং ১২ বছরের মেয়ে নিরবীও বাবার নিরাপদে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে। ইন্টারনেট দুর্বল হওয়ায় পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও করতে পারছেন না ক্যাপ্টেন, ফলে চিন্তা আরও বাড়ছে।
জাহাজে বর্তমানে মাত্র প্রায় ৬০ দিনের খাদ্যসামগ্রী মজুত রয়েছে। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সমস্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা Great Eastern Shipping Company এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক ভারতীয় নৌবাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
ক্যাপ্টেন ও তাঁর পরিবারের একটাই দাবি, যত দ্রুত সম্ভব ভারতীয় নৌবাহিনী হস্তক্ষেপ করে জাহাজটিকে নিরাপদে ভারতের দিকে নিয়ে আসুক। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এই জাহাজে থাকা নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।