আর এই ঘটনা উস্কে দিল কলকাতার রবিনসন স্ট্রিটের স্মৃতিও। পরে কসবাতেও একই ধরনের একটি ঘটনা হয়। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই মানসিক সমস্যা ও সমাজকে কাঠগড়ায় তুলেছেন মনোবিদরা।

শেষ আপডেট: 23 July 2025 18:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাপানের কোবে শহরে এক ফ্ল্যাটের টয়লেট থেকে কঙ্কাল উদ্ধারের পর ছড়ায় চাঞ্চল্য। পরে খোঁজ নিয়ে পুলিশ জানতে পারে, সেটি এক বৃদ্ধার দেহাবশেষ। মৃত্যু হয়েছিল ১০ বছর আগে।
এত বছর ধরে কেন বিষয়টি গোপন ছিল? পুলিশের প্রশ্নের উত্তরে ওই বৃদ্ধার ছেলে জানিয়েছেন, তিনি ‘সোশ্যাল ফোবিয়া’তে ভুগছিলেন, তাই কারও সঙ্গে যোগাযোগ করার সাহস পাননি।
ঘটনাটি সামনে আসে চলতি বছরের মে মাসে। এক সরকারি কর্মীর রাস্তায় ৬০ বছরের এক প্রৌঢ়কে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখে সন্দেহ হয়। নাম জিজ্ঞেস করলে তিনি নিজেকে তাকেহিসা মিয়াওয়াকি বলে পরিচয় দেন। কিন্তু তাঁর মায়ের সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে একেবারে চুপ করে যান। এই আচরণে সন্দেহ আরও বাড়ে। পুলিশে খবর দেন তিনি।
জুন মাসে পুলিশ পৌঁছয় কোবের সেই ফ্ল্যাটে, যা রেজিস্টার্ড ছিল মিয়াওয়াকির মায়ের নামে। দরজা খুলেই চোখ কপালে ওঠে তদন্তকারীদের। চার দিকে আবর্জনার স্তূপ। তার মধ্যেই টয়লেটে পাওয়া যায় একটি কঙ্কাল।
পুলিশি জেরায় মিয়াওয়াকি জানান, প্রায় ১০ বছর আগে তাঁর মা টয়লেটে পড়ে মারা যান। পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়। কোনও পাওয়া যায়নি। প্রৌঢ় বলেন, 'আমি একজন সাধারণ মানুষ, ভয় লাগছিল। পুলিশে ফোন করতে সাহস পাইনি।'
তাঁর দাবি, বহু বছর ধরেই কোনও কাজ করেন না তিনি। নেই কোনও নির্দিষ্ট ঠিকানাও। এই ঘটনাটি সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় চরম নিন্দা। অনেকেই বলেন, মিয়াওয়াকি ইচ্ছা করেই মায়ের মৃত্যুর কথা চেপে গিয়েছিলেন, যাতে মায়ের পেনশন চালিয়ে যেতে পারেন। কেউ আবার অবাক হয়ে প্রশ্ন করেছেন, '১০ বছর ধরে এক ফ্ল্যাটে মৃতদেহ পড়ে ছিল, অথচ প্রতিবেশীরা কিছু টের পেল না?'
জুলাইয়ের শুরুতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, টয়লেট থেকে উদ্ধার হওয়া দেহটি মিয়াওয়াকির মায়েরই। তবে ময়নাতদন্তে কোনও খুনের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবুও পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে।
এ ঘটনায় নতুন করে জাপানের ‘সোশ্যাল আইসোলেশন’ বা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার সমস্যাটিই সামনে উঠে এল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। বৃদ্ধদের একাকীত্ব, মানসিক সমস্যা এবং সমাজের নজরদারির অভাব, এই মিলিত সংকটই যে এক একটি ভয়ঙ্কর পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তা আরও একবার স্পষ্ট হল।
আর এই ঘটনা উস্কে দিল কলকাতার রবিনসন স্ট্রিটের স্মৃতিও। পরে কসবাতেও একই ধরনের একটি ঘটনা হয়। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই মানসিক সমস্যা ও সমাজকে কাঠগড়ায় তুলেছেন মনোবিদরা।