২২ মে সন্ধেয় মনোজ দোকান বন্ধ করে বাড়ির ফেরার রাস্তা ধরেন। সেই সময় তাঁকে একা পেয়ে লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। ওই ব্যক্তি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে পাঁচজন তাঁকে রাস্তায় ফেলে রেখেই চলে যায়।
_0.jpg.webp)
প্রতিশোধ নিতে খুন লখনউয়ে
শেষ আপডেট: 22 July 2025 17:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দশ বছর আগে রাস্তায় জনসমক্ষে তাঁর মাকে অপমান করে বেধড়ক মারধর করেছিলেন এক ব্যক্তি। সেই অপমান ভুলতে পারেননি যুবক। এক দশক ধরে ঘুরে বেড়িয়েছে লখনউয়ের অলিগলি (Lucknow Murder case)। উদ্দেশ্য ছিল একটাই, সেই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে খুন করা। অবশেষে সেই প্রতিশোধের গল্প রূপ পেল এক বলিউড সিনেমার মত রক্তাক্ত ক্লাইম্যাক্সে।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তর নাম সোনু কাশ্যপ। বছর দশেক আগে মাকে মারধরের ঘটনার পর থেকেই প্রতিশোধের অঙ্গীকারে বেঁচে ছিলেন তিনি। কেবল একা নয়, এই পরিকল্পনায় শামিল হয় তার আরও চার বন্ধু—রঞ্জিত, আদিল, সালামু এবং রহমত আলি। সবাই মিলে মদ আর মাংসের পার্টির প্রতিশ্রুতিতে নামল খুনে!
১০ বছর আগে সোনুর মা ও মনোজ নামে এক নারকেল বিক্রেতার মধ্যে কোনও একটি বিষয়ে ঝামেলা হয়। বচসার মধ্যেই মনোজ রেগে গিয়ে সোনুর মাকে অপমান করেন। এমনকি রাস্তায় ফেলে মারধরও করেন। তারপরই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান ওই ব্যক্তি। সেই থেকেই সোনুর ভিতরে প্রতিশোধের আগুন জ্বলতে শুরু করে।
সময় কেটে যায়। কিন্তু ক্ষত শুকোয় না। কেটে যায় প্রায় ১০ বছর পর। জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে, সোনু হঠাৎ একদিন লখনউয়ের মুন্সি পুলিয়া এলাকায় মনোজকে দেখতে পায়। এরপরই তাঁর উপর শুরু হয় নজরদারি। দিনরাত রেকি চালায় সোনু। মনোজের দোকান কখন খুলছে, কখন বন্ধ হচ্ছে, কখন তিনি একা থাকেন- সব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে নেয় সোনু।
প্রতিশোধ নিতে মনোজকে খুন করার পরিকল্পনা করেন সোনু। কিন্তু একার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই চার বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। 'খুনের পর সকলকে মদের পার্টি দেব', এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে সকলকে রাজি করায় ওই যুবক।
২২ মে সন্ধেয় মনোজ দোকান বন্ধ করে বাড়ির ফেরার রাস্তা ধরেন। সেই সময় তাঁকে একা পেয়ে লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। ওই ব্যক্তি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে পাঁচজন তাঁকে রাস্তায় ফেলে রেখেই চলে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মনোজকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মৃত্যু হয় তাঁর।
এই ঘটনায় পুলিশের কাছে কোনও স্পষ্ট সূত্র ছিল না। সিসিটিভি ফুটেজে খুনিদের দেখা গেলেও নাম-পরিচয় জানা যাচ্ছিল না। তদন্ত প্রায় অন্ধকারে ডুবে গিয়েছিল। এরই মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজে যে পাঁচজনকে দেখা গিয়েছিল, তাঁদের মধ্যে একজনের ফেসবুক প্রোফাইল খুঁজে পায় পুলিশ। তারপর একে একে ধরা পড়ে যায় পাঁচজনই।
বছরের পর বছর ধরে যে প্রতিশোধের জন্য বেঁচে ছিল সে, তা সফল হল ঠিকই, কিন্তু পুলিশি তদন্ত আর সোশ্যাল মিডিয়ার ফাঁদে শেষরক্ষা হল না। এখন পাঁচ বন্ধুই খুনের অভিযোগে জেল হেফাজতে।