প্রাক্তন আইপিএল কর্তা ললিত মোদী ২০১০ সালে ভারত ছাড়েন। তাঁর বিরুদ্ধে কর ফাঁকি দেওয়া, আর্থিক তছরুপ এবং আইপিএলের সম্প্রচার স্বত্ব বণ্টনে কারচুপির অভিযোগ রয়েছে।

লন্ডনের পার্টিতে বিজয়-ললিত
শেষ আপডেট: 24 December 2025 07:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক'দিন আগেই বন্ধু বিজয় মাল্যর (Vijay Malia) জন্মদিনের পার্টিতে একসঙ্গে উল্লাস করতে দেখা গিয়েছিল ললিত মোদীকে (Lalit Modi)। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই তুমুল সমালোচনা শুরু হয়। এবার আরও একটি ভিডিও হয়ে উঠল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে ললিত মোদী নিজেকে এবং বিজয় মাল্যকে 'ভারতের দুই সবচেয়ে বড় পলাতক' বলে উল্লেখ করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, তাঁরা ভারতের আইন, কেন্দ্রীয় সরকার এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে প্রকাশ্যে বিদ্রুপ করতেই এমন মন্তব্য করেছেন।
ভিডিওটি লন্ডনে বিজয় মাল্যর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তোলা। সেখানে হাসতে হাসতে ললিত মোদীকে বলতে শোনা যায়, “আমরা দু’জন পলাতক, ভারতের সবচেয়ে বড় পলাতক।” (Biggest Fugitives) এই ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে তিনি ক্যাপশনে লেখেন, “আবার ইন্টারনেট ভাইরাল হয়ে যাওয়ার মতো কিছু করলাম। তোমরা না হয় ঈর্ষা নিয়ে দেখো।”
এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পরই নেটদুনিয়ায় ক্ষোভ উগরে দেন বহু মানুষ। একজন লেখেন, 'ভারত সরকারের সঙ্গে এরা কী রকম ঠাট্টা করছে।' আরেকজনের মন্তব্য, 'ইন্টারনেট ভাঙছ না, চুপ করে বসো।' কেউ কেউ আবার প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়েও। একজন লেখেন, 'ভারতীয় আইনব্যবস্থার লজ্জা, এরা এমন ভিডিও বানানোর সাহস পাচ্ছে।' আরেকজনের কটাক্ষ, 'এরা সিবিআই আর ইডিকে নিয়ে হাসাহাসি করছে।'
এই ঘটনার মধ্যেই বিজয় মাল্যকে (Vijay Malia) নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছে বম্বে হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছে, ভারতে না ফিরলে মাল্যর আবেদন শোনা হবে না। আদালত স্পষ্ট করে বলে, তিনি কবে ভারতে ফিরবেন তা না জানালে ফিউজিটিভ ইকোনমিক অফেন্ডারস অ্যাক্টের বিরুদ্ধে করা আবেদন শুনবে না আদালত। মাল্যর আইনজীবীকেও জানানো হয়েছে, আদালতে নিজেকে সঁপে না দিলে তাঁর আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়।
বর্তমানে ব্রিটেনে থাকা বিজয় মাল্যর প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়েছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে একটি বিশেষ আদালত তাঁকে ‘ফিউজিটিভ ইকোনমিক অফেন্ডার’ ঘোষণা করে। ব্যাঙ্ক ঋণ খেলাপ, আর্থিক তছরুপ-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ২০১৬ সালের মার্চ মাসে তিনি ভারত ছেড়ে যান।
অন্যদিকে, প্রাক্তন আইপিএল কর্তা ললিত মোদী ২০১০ সালে ভারত ছাড়েন। তাঁর বিরুদ্ধে কর ফাঁকি দেওয়া, আর্থিক তছরুপ এবং আইপিএলের সম্প্রচার স্বত্ব বণ্টনে কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। ইডির দাবি, ২০০৯ সালে আইপিএলের সম্প্রচার স্বত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি অনিয়ম করেন এবং প্রায় ১২৫ কোটি টাকার ঘুষ নেন। সব মিলিয়ে, লন্ডনের একটি পার্টির ভিডিও ঘিরে আবারও সামনে এল ভারতের দুই আলোচিত পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধীর নাম, যা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে আইন ও বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে।