অসমের করবি আংলং জেলায় দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে প্রাণ গেল দু’জনের। আহত হয়েছেন একাধিক পুলিশ কর্মী।

অসমের পরিস্থিতি
শেষ আপডেট: 24 December 2025 00:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি অসমের। করবি আংলং (Karbi Anglong) জেলায় বিক্ষোভকারী দুই গোষ্ঠীর হঠাৎ সংঘর্ষ। প্রাণ গেল দু’জনের। আহত ৪৫ জনেরও বেশি, যার মধ্যে ৩৮ জন পুলিশকর্মী।
পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জ করে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে নিরাপত্তাবাহিনী। অশান্তির জেরে করবি আংলং ও পশ্চিম করবি আংলং (West Karbi Anglong) জেলায় মঙ্গলবার থেকে সাময়িকভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার।
ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister) হিমন্ত বিশ্বশর্মা (Himanta Biswa Sarma) জানান, পরিস্থিতির উপর তিনি কড়া নজর রাখছেন। তাঁর কথায়, “পশ্চিম করবি আংলংয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। আজকের অশান্তিতে দু’জনের মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শান্তি ফেরাতে আগামীকাল খেরানি (Kherani) এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হবে। সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।” মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, 'রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে থাকবে।'
কীভাবে ছড়াল হিংসা?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উপজাতি বেল্ট থেকে দখলদার উচ্ছেদের দাবিতে চলা আন্দোলনের মধ্যেই দু’টি বিক্ষোভকারী গোষ্ঠীর সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করতে হয়। অগ্নিসংযোগের ঘটনায় একটি পুড়ে যাওয়া ভবন থেকে বিশেষভাবে সক্ষম ২৫ বছরের যুবক সুরেশ দে (Suresh Dey)-এর দেহ উদ্ধার হয়। সংঘর্ষে আরও এক জন, আথিক টিমুং (Athik Timung), প্রাণ হারান।
ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ
রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দফতর (Home and Political Department) জানায়, জনশান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। নির্দেশে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে। তবে ল্যান্ডলাইনভিত্তিক ভয়েস কল ও ব্রডব্যান্ড পরিষেবা চালু রয়েছে।
পুলিশের ক্ষয়ক্ষতি
অসমের ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (DGP) হরমিত সিং (Harmeet Singh) বলেন, “সরকার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলছে, একটি তারিখও ঠিক হয়েছে। দোকানপাটে আগুন দেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৪৮ জন পুলিশকর্মী আহত।”
প্রশাসনের আশঙ্কা
করবি আংলং ও পশ্চিম করবি আংলং জেলার জেলা শাসকরা (District Magistrate) আইনশৃঙ্খলার গুরুতর অবনতির রিপোর্ট দিয়েছেন। প্রশাসনের আশঙ্কা, পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়া ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে গুজব ও উস্কানিমূলক বার্তা ছড়াতে পারে—এই আশঙ্কায় ইন্টারনেট বন্ধেরই সিদ্ধান্ত, জানিয়েছেন দফতরের কমিশনার ও সেক্রেটারি বিস্বজিৎ পেগু (Biswajit Pegu)। নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।