বিএনপি ওই আসনটি তাদের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে ছেড়ে দিয়েছে।

রুমিন ফারহানা
শেষ আপডেট: 23 December 2025 20:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রুমিন ফারহানাকে (Rumin Farhana) শেষ পর্যন্ত টিকিট দিল না বিএনপি (BNP)। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পাননি ওই সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক রুমিন ফারহানা। বিএনপি ওই আসনটি তাদের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে ছেড়ে দিয়েছে।
ওই আসনটিতে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন বিএনপি'র সাবেক সাংসদ রুমিন। ২০১৮ সালে ওই সংরক্ষিত আসন থেকে সংসদে গিয়ে তিনি দলের বক্তব্য তুলে ধরাতে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। আওয়ামী লিগ সরকারের মন্ত্রীরা তাঁর প্রশ্ন বাণে রীতিমত তটস্থ হয়ে থাকতেন। এমনকি বহু প্রশ্নের জবাব দিতে উঠে দাঁড়াতেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে তাকে স্নেহ ও শ্রদ্ধা করতেন তাঁর প্রজ্ঞার জন্য। এছাড়া তিনি যে অলি আহাদের কন্যা, সেকথাও বিবেচনায় রাখতেন শেখ হাসিনা।
আবার ২০২৪ এ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলনেও বিএনপি নেতা-নেত্রীদের মধ্যে একমাত্র রুমিন সরাসরি ময়দানে নেমে পুলিশের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। পাশাপাশি তাঁর ইউটিউব চ্যানেল রুমিন স্পিকস-এ তিনি সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে ক্ষুরধার যুক্তিসম্পন্ন বক্তব্য তুলে ধরে দলের হয়ে লড়াই করেছেন। বাংলাদেশের সমস্ত জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেলেও প্রাইম টাইম আলোচনায় তিনি নিয়মিত বক্তা। 
তথ্য পরিসংখ্যান দিয়ে সরকারকে চেপে ধরার পাশাপাশি নিজের দলের বিরুদ্ধেও মুখর ছিলেন এই ব্যারিস্টার নেত্রী। পেশায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রুমিন সে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম সারির সৈনিক অলি আহাদের কন্যা। আওয়ামী লিগের কনিষ্ঠ নেতা ওলি আহাদের সঙ্গে একসময় শেখ মুজিবুর রহমান সহ প্রথম সারির নেতাদের নানা নীতিগত প্রশ্নের মতবিরোধ হলে তিনি দল থেকে বেরিয়ে আসেন। বাবা অলি আহাদের মতোই রুমিনও বরাবর বিরোধীদের আক্রমণের পাশাপাশি দলকে শোধরানোর বার্তা দিয়ে চলেছেন। তিনি একদিকে যেমন দলের কতিপয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সরব তেমনই মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান, অপমানেরও জোরালো প্রতিবাদ করেছেন। এমনকী ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির ভাঙ্গার ঘটনারও তিনি তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা করেন। আওয়ামী লিগের অনুপস্থিতিতে বিএনপি এবার নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের গরিমা তুলে ধরতে ব্যস্ত। অথচ তারা রুমিন ফারানাকে টিকিট দিল না। এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই বিএনপি'র দ্বিচারিতা বলছেন।
হাসিনা সরকারের পতনের পর বিএনপির একাংশ যেভাবে চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট রাজের মেতে ওঠে, রুমিন প্রকাশ্যে সেই অনাচারের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে সরব হন। আবার অন্তর্বর্তী সরকারেরও তিনি সুনজরে নেই। ইউনুস সরকারের একাধিক সিদ্ধান্তে যখন বিএনপি নেতৃত্ব মুখে কুলুপ এঁটে ছিল তখন রুমিন প্রকাশ্যেই সেগুলির বিরোধিতা করেন। তুমি বারে বারে বলেন এইরকম চলতে থাকলে বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। পরে তারেক জিয়া মীরজা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো মনে করা হচ্ছে সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত এই প্রতিবাদী নেত্রীকে বিএনপি টিকিট দিল না। যদিও তিনি ওই আসনে স্বতন্ত্র বা নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে ঘোষণা করেছেন। বিএনপি'র স্থানীয় নেতৃত্ব মনে করছে রুমিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে জোট প্রার্থী জয়ের কোন সম্ভাবনা নেই। তবে রুমিনকে সরকারিভাবে দল টিকিট না দেওয়ায় তোমার খবর তৈরি হয়েছে তৃণমূল স্তরে। বিএনপি কর্মী সমর্থকদের অনেকেই মনে করছেন এই নেত্রীর প্রতি দল অবিচার করল। প্রতিবাদী চরিত্রের কারণে বাংলাদেশের রাজনীতিতে রুমিন ফারহানাকে অনেকেই পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তুলনা করে থাকেন। মমতার সঙ্গে তুলনা টেনেই তাঁকে বাংলাদেশের অগ্নিকন্যা বলা হয়ে থাকে।
রুমিনকে যে তাঁর পছন্দের কেন্দ্রে প্রার্থী করা হচ্ছে না তা মঙ্গলবার বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট হয়। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান আসনটি শরিকদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আসনটিতে ইতিমধ্যে বিএনপির তিন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে দুই দফায় বিএনপি ২৭২টি আসনে তাঁদের প্রার্থী ঘোষণা করলেও আসনটি ফাঁকা রাখা হয়েছিল।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির প্রার্থীরা ছয়বার নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রতিবারই বিজয়ী হয়েছেন। আসনটিতে বিএনপির মনোনয়ন পেতে অন্তত চারজন প্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁদের মধ্যে রুমিন ফারহানা এবং বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব ও জেলা বিএনপির সদস্য এসএন তরুণ দে এবং জেলা বিএনপির সদস্য আক্তার হোসেন স্বতন্ত্র বা নির্দল প্রার্থী হবেন বলে ঘোষণা করেছেন। তাঁদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতায় রুমিন ফারহানা অনেক এগিয়ে বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানাচ্ছে। সেই করোনার সময় থেকে তিনি লাগাতার ওই এলাকার মানুষের সঙ্গে আপদে-বিপদে পড়ে আছেন। এলাকার মানুষকে আইনি সহায়তা দিয়েও তিনি সারা বছর পাশে থাকেন।