ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। বহু ব্যবহারকারীর মতে, এই মন্তব্য ভারতের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও আইনকে প্রকাশ্যে বিদ্রুপ করার শামিল। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, আর্থিক অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিদেশে বসে এমন আচরণ করলে সরকারের অবস্থান কী হওয়া উচিত।

ললিত মোদী এবং বিজয় মালিয়া
শেষ আপডেট: 29 December 2025 16:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লন্ডনে পলাতক ভারতীয় শিল্পপতি বিজয় মালিয়ার (Vijay Mallya) সঙ্গে পার্টির একটি ভিডিও ঘিরে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চাইতে হল প্রাক্তন আইপিএল চেয়ারম্যান ললিত মোদীকে (Lalit Modi)। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দু’জন নিজেদের ‘ভারতের সবচেয়ে বড় পলাতক’ (India;s Biggest Fugitives) বলে উল্লেখ করেন, যা নিয়ে দেশে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক স্তরে প্রবল প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা ওই ভিডিওতে (Viral Video) দেখা যায়, লন্ডনের বেলগ্রেভ স্কোয়ারে নিজের বাসভবনে আয়োজিত এক পার্টিতে বিজয় মালিয়ার ৭০তম জন্মদিন উদযাপন করছেন ললিত মোদী। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমরা ভারতের সবচেয়ে বড় দুই ফিউজিটিভ (পলাতক)।” এই কথা শুনে পাশে দাঁড়িয়ে হাসতে দেখা যায় মালিয়াকেও। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা ছিল, “ভারতে আবার ইন্টারনেট ভেঙে দিই। শুভ জন্মদিন, বন্ধু।”
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। বহু ব্যবহারকারীর মতে, এই মন্তব্য ভারতের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও আইনকে প্রকাশ্যে বিদ্রুপ করার শামিল। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, আর্থিক অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিদেশে বসে এমন আচরণ করলে সরকারের অবস্থান কী হওয়া উচিত।
এই বিতর্কের মধ্যেই এক্স হ্যান্ডেলে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন ললিত মোদী (Lalit Modi)। তিনি লেখেন, “আমার মন্তব্যে যদি কারও অনুভূতিতে আঘাত লেগে থাকে, বিশেষ করে ভারত সরকার যদি কষ্ট পেয়ে থাকে, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। বক্তব্যটির ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে। উদ্দেশ্য কখনওই এমন ছিল না।”
ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল (Randhir Jaiswal) স্পষ্ট জানান, ললিত মোদী ও বিজয় মালিয়া - দু’জনকেই দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনার জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে আইনি প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। তাঁর কথায়, “এই ধরনের মামলায় একাধিক স্তরের আইনি প্রক্রিয়া থাকে, তবে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
প্রসঙ্গত, কিংফিশার এয়ারলাইন্স সংক্রান্ত ঋণ জালিয়াতি ও অর্থপাচারের মামলায় বিজয় মালিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, আইপিএলের প্রাথমিক পর্বে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ললিত মোদী এখনও ভারতের তদন্তকারী সংস্থার নজরে।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “ভারতে যারা আইনের চোখে পলাতক কিংবা যাদের খোঁজ চলছে, তাদের সবাইকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের মুখোমুখি করানোই সরকারের লক্ষ্য।” তিনি জানান, এই বিষয়ে একাধিক দেশের সঙ্গে ভারতের আলোচনা চলছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াও এগোচ্ছে।
তবে জয়সওয়াল এটাও স্পষ্ট করে দেন, এই ধরনের প্রত্যর্পণ মামলায় বহুস্তরীয় আইনি জটিলতা থাকে। তাঁর কথায়, “এতে বেশ কয়েকটি আইনি স্তর জড়িত। তবুও আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এদের দেশে ফিরিয়ে এনে ভারতের আদালতে বিচার নিশ্চিত করব।”