ইরানের নিরাপত্তা নেতৃত্বের অন্যতম প্রভাবশালী মুখ আলি লারিজানি (Ali Larijani) স্পষ্ট জানিয়েছেন, খামেনেইকে হত্যার জন্য ট্রাম্পকে “মূল্য চোকাতে হবে”। তবে এই হুঁশিয়ারির পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে দেরি করেননি ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই মন্তব্য নিয়ে তাঁর কোনও মাথাব্যথাই নেই (Trump reaction after Iran's Warning)।

আলি লারিজানি - ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 8 March 2026 16:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ সংঘাতে (US Israel attack on Iran) ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর (Khamenei killing in US Iran war) পর ইরানের পাল্টা জবাব এবং তারপর থেকেই আরব দুনিয়ায় পরিস্থিতি ক্রমশ গুরুতর দিকে মোড় নিচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতেই এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিল তেহরান (Tehran warning Trump)।
ইরানের নিরাপত্তা নেতৃত্বের অন্যতম প্রভাবশালী মুখ আলি লারিজানি (Ali Larijani) স্পষ্ট জানিয়েছেন, খামেনেইকে হত্যার জন্য ট্রাম্পকে “মূল্য চোকাতে হবে”। তবে এই হুঁশিয়ারির পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে দেরি করেননি ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই মন্তব্য নিয়ে তাঁর কোনও মাথাব্যথাই নেই (Trump reaction after Iran's Warning)।
‘ট্রাম্পকে ছেড়ে কথা বলব না’
শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে খামেনেইয়ের শীর্ষ উপদেষ্টা লারিজানি বলেন, ইরান কোনওভাবেই ট্রাম্পকে ছেড়ে দেবে না। ইরান এই হত্যার প্রতিশোধ নিতেই বদ্ধপরিকর। তাঁর দাবি, ট্রাম্প ইরানের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সম্পূর্ণ ভুল হিসাব করেছিলেন এবং তিনি ভেবেছিলেন খুব দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ফেলতে পারবেন।
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই।
লারিজানির কথায়, “ভেনেজুয়েলায় যা ঘটেছিল, ট্রাম্প তার স্বাদ পেয়েছিলেন এবং ভেবেছিলেন ইরানেও একইভাবে খুব দ্রুত কাজটা করে ফেলবেন। এখন তিনি নিজেই সমস্যায় পড়ে গেছেন।”
এরপরই তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা তাঁকে ছেড়ে কথা বলব না। তিনি যা করেছেন তার মূল্য তাঁকে দিতেই হবে। তিনি আমাদের নেতাকে হত্যা করেছেন এবং আমাদের এক হাজারেরও বেশি মানুষকে শহিদ করেছেন। এটা কোনও সাধারণ বিষয় নয়।”
পরে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এও একই বার্তা দেন লারিজানি। সেখানে তিনি লিখেছেন, ইরান প্রতিশোধ না নেওয়া পর্যন্ত ট্রাম্পকে ছেড়ে দেবে না।
প্রসঙ্গত, খামেনেই নিহত হওয়ার পর থেকেই তাঁর শীর্ষ উপদেষ্টা লারিজানি ইরানের নেতৃত্বে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন।
ট্রাম্পের পাল্টা জবাব
লারিজানির মন্তব্যকে কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। CBS News-কে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প সাফ জানান, তিনি জানেনই না লারিজানি কে। ট্রাম্পের কথায়, “উনি কী বলছেন বা উনি কে, আমি কিছুই জানি না। আমি একেবারেই পরোয়া করি না।” তিনি আরও দাবি করেন, লারিজানি ইতিমধ্যেই পরাজিত।
ইরানের অন্যান্য নেতাদের সমালোচনাকেও তিনি গুরুত্ব দিতে চাননি। ট্রাম্পের মতে, আরব দুনিয়ায় ইরানের নেতৃত্ব ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং তাদের প্রভাবও কমছে। তিনি আবারও জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান চলবে এবং শেষ পর্যন্ত তেহরানকে “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” করতে হবে।
প্রতিবেশী দেশগুলিকে বার্তা
শনিবারই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের পাল্টা হামলার কারণে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় তিনি প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন। একইসঙ্গে জানান, আগে আক্রমণ না হলে ইরান পারস্য উপসাগরের অন্য কোনও দেশকে লক্ষ্য করবে না।
তবে কিছুক্ষণ পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন পোস্ট করে তিনি পরিষ্কার করেন, ইরান তার প্রতিবেশী বা বন্ধু রাষ্ট্রগুলিকে আক্রমণ করেনি। বরং এই হামলার লক্ষ্য ছিল অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, স্থাপনা এবং অন্যান্য অবকাঠামো।
তবে এই পোস্টে আর ক্ষমা চাওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়নি।
পেজেশকিয়ানের এই মন্তব্যকেও কটাক্ষ করেন ট্রাম্প। তিনি ইরানকে “আরব দুনিয়ার পরাজিত দেশ” বলে উল্লেখ করেন, যখন তেহরান জানায় যে, প্ররোচনা না পেলে তারা উপসাগরীয় দেশগুলিকে লক্ষ্য করবে না।
যুদ্ধের সপ্তম দিন
ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে এমন সময়ে, যখন ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এই হামলাতেই নিহত হন খামেনেই। তার পর থেকেই ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে। ফলে গোটা অঞ্চলে বড়সড় সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং উপসাগরীয় একাধিক দেশ উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা
তবে উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে না তেহরান। পেজেশকিয়ান জানান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ থামাতে কিছু দেশ ইতিমধ্যেই মধ্যস্থতার চেষ্টা শুরু করেছে। যদিও তিনি সেই দেশগুলির নাম প্রকাশ করেননি। তবে জানা যাচ্ছে, আঞ্চলিক কয়েকটি শক্তি - কাতার, তুরস্ক, মিশর এবং ওমান এই সংঘাত থামাতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে।
আরও বাড়তে পারে হামলা
তবে বাস্তবে সামরিক অভিযান থামার কোনও লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না। ইজরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান এখন একটি “নতুন পর্যায়ে” প্রবেশ করছে এবং সামনে আরও হামলা হতে পারে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথও জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সামরিক অভিযান “এখনও সবে শুরু”। আগামী কয়েক দিনে হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।