Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: ‘তাহলে আমার তত্ত্ব ভুল ছিল না!’ বৈভবের বিরল ব্যর্থতা দেখে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য ইরফানের I PAC: ৫০ কোটির বেআইনি লেনদেন, আই প্যাক ডিরেক্টর ভিনেশের বিরুদ্ধে ৬ বিস্ফোরক অভিযোগ ইডিরWest Bengal Election 2026 | ‘৫০-আসন জিতে তৃণমূলকে ১৫০-আসনে হারাব’ মাতৃত্বের দুশ্চিন্তা, ‘ভাল মা’ হওয়ার প্রশ্ন—সদগুরুর পরামর্শে স্বস্তি পেলেন আলিয়ালক্ষ্য ২০২৯ লোকসভা ভোট, তড়িঘড়ি মহিলা সংরক্ষণ কার্যকরে মরিয়া মোদী! বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি কংগ্রেস?Gold investment: যুদ্ধের বাজারে সোনার দাম কমছে! এটাই কি বিনিয়োগের সেরা সময়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরারহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত

প্রয়াত কাঞ্চা শেরপা, ১৯৫৩ সালের প্রথম সফল এভারেস্ট অভিযানের শেষ জীবিত সদস্য ছিলেন তিনিই

১৯৫৩ সালের প্রথম সফল এভারেস্ট অভিযানের (Everest Expedition) শেষ জীবিত সদস্য কাঞ্চা শেরপা (Kancha Sherpa) ৯২ বছর বয়সে কাঠমান্ডুতে মারা গেলেন। তেনজিং নোরগে (Tenjing Norgay) ও এডমন্ড হিলারির (Edmund Hillary) ঐতিহাসিক অভিযানের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন তিনি।

প্রয়াত কাঞ্চা শেরপা, ১৯৫৩ সালের প্রথম সফল এভারেস্ট অভিযানের শেষ জীবিত সদস্য ছিলেন তিনিই

কাঞ্চা শেরপা।

তিয়াষ মুখোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: 17 October 2025 18:46

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯৫৩ সালের সেই ঐতিহাসিক এভারেস্ট অভিযানের শেষ জীবিত সদস্য কাঞ্চা শেরপা প্রয়াত হলেন। বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ২টোর দিকে নেপালের কাঠমান্ডুতে নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, জীবনের শেষ দিনগুলো কাটিয়েছিলেন নামচে বাজারে, যা এভারেস্টের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত।

নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের (এনএমএ) সভাপতি ফুর গ্যালজে শেরপা বলেন, “আমরা গভীরভাবে শোকাহত কাঞ্চা শেরপার প্রয়াণে। তিনি ১৯৫৩ সালের প্রথম সফল এভারেস্ট অভিযানের শেষ জীবিত সদস্য ছিলেন। নেপালের পর্যটন জগত আজ এক কিংবদন্তিকে হারালো। তাঁর অনুপস্থিতি এক অপুরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে।”

১৯৩২ সালে নামচেতে জন্ম নেওয়া আং ফুরবা ‘কাঞ্চা’ শেরপা মাত্র ১৯ বছর বয়সে পর্বতারোহণে পা রাখেন। কাজের সন্ধানে একদিন চুপিসারে বাড়ি ছেড়ে দার্জিলিংয়ে চলে যান। সেখানেই তাঁর দেখা হয় কিংবদন্তি তেনজিং নোরগের সঙ্গে। তেনজিং তাঁকে চিনে ফেলেন— কারণ কাঞ্চার বাবা ১৯৫২ সালের তিব্বতের এভারেস্ট অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। তরুণ কাঞ্চার উদ্যমে মুগ্ধ হয়ে তেনজিং তাঁকে সাহায্য করেন ১৯৫৩ সালে স্যার এডমন্ড হিলারির অভিযানে যোগ দিতে। সে দলে ছিলেন ১০৩ জন শেরপা। তাঁদেরই একজন কাঞ্চা। তিনি প্রতিদিন পাঁচ টাকা মজুরি পেতেন।

The last of the first | Nepali Times

অভিযানের পর তিনি ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন পর্বতারোহণ অভিযানে কাজ চালিয়ে যান। পরে অবসর নেন। তবে থেমে থাকেননি। পরবর্তীতে ট্রেকিং গ্রুপের সঙ্গে কাজ করে বহু পর্যটককে হিমালয়ের পথে পথপ্রদর্শন করেছেন, যদিও আর উচ্চতর শৃঙ্গে ওঠেননি।

হিলারি ও তেনজিংয়ের সঙ্গে তিনি যদিও এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছাতে পারেননি, তবে অভিযানের সাফল্যে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তিনি পৌঁছেছিলেন শেষ ক্যাম্প পর্যন্ত— যা আজকের ‘সাউথ সামিট’।

২০২০ সালে নেপালের সরকারি সংবাদ সংস্থা রাষ্ট্রীয় সংবাদ সমিতি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাঞ্চা স্মৃতিচারণা করেন সেই ঐতিহাসিক অভিযানের দিনগুলোর। তিনি বলেন, “আমরা ভক্তপুর থেকে রওনা দিয়েছিলাম ৩৫ জন আরোহী ও প্রায় ৪০০ জন বাহক নিয়ে। প্রতিদিন ১০০ জন করে দলের সদস্য ভারী বোঝা বহন করত পায়ে হেঁটে। তখন কোনও রাস্তা ছিল না, হোটেল তো দূরের কথা। কাঁচা রাস্তায় হাঁটা আর ভাজা ভুট্টাই ছিল খাবার।”

Kanchha Sherpa is the last surviving member of the first expedition to  summit Everest | National Geographic

দলটি ১৬ দিনে পৌঁছায় নামচে বাজারে। সেখান থেকে কেবল আরোহী ও স্থানীয় শেরপারাই এগিয়ে যান, ইয়াকের পিঠে মালপত্র বহন করে আর ৬ দিন পর পৌঁছান এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে। কাঞ্চা জানান, তাঁদের সঙ্গে ছিল ২৫টি বস্তা ভর্তি টাকা—অভিযানের ব্যয় মেটানোর জন্য!

সবচেয়ে কঠিন অংশ ছিল ক্যাম্প ১ পর্যন্ত পথ তৈরি করা। খুম্বু আইসফলে পৌঁছে তাঁরা পড়েন এক বিশাল ফাটলের মুখে, যা পেরোনোর কোনো উপায় ছিল না। “আমাদের কাছে কোনো মই ছিল না,” বলেন কাঞ্চা। “তাই আমরা ফিরে গিয়ে নামচে থেকে দশটা পাইনগাছ কেটে এনেছিলাম, আর সেই গাছ দিয়ে বানিয়েছিলাম কাঠের সেতু।”

Kanchha Sherpa, last remaining member of original Mount Everest expedition  team, dead at 92

তখনও এভারেস্টকে নেপালি ভাষায় ‘সাগরমাথা’ বলা শুরু হয়নি। স্থানীয়রা তাকে চিনত ‘চোমোলুংমা’ নামে। পরে, যখন চতুর্থ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়, স্যার এডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগে শুরু করেন চূড়ান্ত আরোহণ। ১৯৫৩ সালের ২৯ মে দুপুর প্রায় ১টার দিকে রেডিও বার্তা আসে, তাঁরা সফল। কাঞ্চা তখনকার মুহূর্ত স্মরণ করে বলেছিলেন, “আমরা নাচছিলাম, সবাই সবাইকে জড়িয়ে ধরে চুমু খাচ্ছিলাম। ছিল খাঁটি আনন্দের মুহূর্ত।”

অভিযানে তিনি চুড়োয় না পৌঁছলেও, তাঁর অবদান ছিল অমূল্য। কাঞ্চা শেরপা শুধু এক আরোহী ছিলেন না, তিনি ছিলেন ইতিহাসের এক জীবন্ত সাক্ষী। সেই দলের শেষ কণ্ঠস্বর, যারা মানবজাতির সীমা ভেঙে পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছেছিল।


```