ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান পদ থেকে ইস্তফা দিলেন জো কেন্ট। ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তুললেন বড় প্রশ্ন।

ছবি: এআই
শেষ আপডেট: 17 March 2026 23:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন জো কেন্ট (Joe Kent)। ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টার-এর প্রধান পদে থাকা কেন্ট জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসনের ইরান নীতি এবং যুদ্ধের বিরোধিতার কারণেই তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন।
মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে কেন্ট বলেন, তিনি “নৈতিকভাবে” এই যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারছেন না। তাঁর দাবি, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনও তাত্ক্ষণিক হুমকি ছিল না। বরং ইজরায়েল এবং তাদের প্রভাবশালী মার্কিন গোষ্ঠীর চাপে এই যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এই ইস্তফার ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। পরিস্থিতি যত জটিল হচ্ছে, ততই এই পদত্যাগের গুরুত্ব বাড়ছে।
ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের প্রধান হিসেবে কেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থার নেতৃত্বে ছিলেন। এই সংস্থা দেশের সন্ত্রাসবাদী হুমকি বিশ্লেষণ এবং তা মোকাবিলার কাজ করে। পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, প্রতিরক্ষা দফতর এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।
ইস্তফার পাশাপাশি কেন্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একটি চিঠিও পাঠান। সেখানে তিনি লেখেন, ২০১৬, ২০২০ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প যে নীতির কথা বলেছিলেন, তা তিনি সমর্থন করলেও ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি একমত নন। তিনি ট্রাম্পকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
এদিকে, এই ঘটনার কয়েকদিন আগেই ট্রাম্পের একটি মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার ক্ষেত্রে আমেরিকা আগে পদক্ষেপ নিয়েছে। তাঁর দাবি, “আমরা না করলে ইরানই আগে হামলা চালাত।” পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে তিনিই ইজরায়েলকে আগে আঘাত হানতে উৎসাহিত করেছিলেন।
উল্লেখ্য, কেন্ট গত বছর জুলাই মাসে মার্কিন সিনেটে ৫২-৪৪ ভোটে অনুমোদন পেয়ে এই পদে বসেন। তাঁর নিয়োগ নিয়ে কিছু বিতর্কও ছিল, কারণ অতীতে ডানপন্থী চরমপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
রাজনীতিতে আসার আগে কেন্ট মার্কিন সেনাবাহিনীতে বিশেষ বাহিনীর সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন এবং ১১ বার বিদেশে মোতায়েন ছিলেন। পরে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা-তেও কাজ করেন তিনি।
তাঁর এই পদত্যাগে ওয়াশিংটনে ইরান যুদ্ধের যৌক্তিকতা এবং মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।