Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

টার্গেট ট্রাম্প? ঝিনুকে লেখা '৮৬ ৪৭', প্রাক্তন এফবিআই ডিরেক্টরের পোস্ট ঘিরে কেন এত তোলপাড়?

ঝিনুক দিয়ে '৮৬ ৪৭' লিখে পোস্ট করায় প্রাক্তন এফবিআই ডিরেক্টর জেমস কোমির বিরুদ্ধে ট্রাম্প হত্যার ইঙ্গিতের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে সিক্রেট সার্ভিস ও এফবিআই।

টার্গেট ট্রাম্প? ঝিনুকে লেখা '৮৬ ৪৭', প্রাক্তন এফবিআই ডিরেক্টরের পোস্ট ঘিরে কেন এত তোলপাড়?

জেমস কোমি ও ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শেষ আপডেট: 16 May 2025 14:01

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট দিয়ে নিজেকে একেবারে বিতর্কের কেন্দ্রে এনে ফেলেছেন প্রাক্তন এফবিআই ডিরেক্টর জেমস কোমি। ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করেন তিনি, যেখানে দেখা যায় সমুদ্রতটে ঝিনুক দিয়ে সাজানো হয়েছে '৮৬ ৪৭'। যদিও তিনি এ ছবির ক্যাপশনে লেখেন, 'সমুদ্রতটে হাঁটার সময় দেখা এক দারুণ ঝিনুকের বিন্যাস', তবু এই নম্বর জোড়া নিয়ে আমেরিকায় শুরু হয়ে গেছে প্রবল জল্পনা। প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি ট্রাম্পকে হত্যার গোপন বার্তা?

কেন এই পোস্ট ঘিরে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছে মার্কিন প্রশাসনের বিভিন্ন মহল? কারণ, '৮৬' দিয়ে একটি আমেরিকান হুমকিকে বোঝানো হয়, যার অর্থ কাউকে বাদ দেওয়া, ছেঁটে ফেলা বা সরিয়ে দেওয়া। অন্যদিকে, '৪৭' মানে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি আমেরিকার ৪৭তম প্রেসিডেন্ট। ফলে সমালোচকদের দাবি, কোমি-র এই পোস্ট আসলে ট্রাম্পকে 'সরিয়ে দেওয়া' বা 'হত্যার' সংকেত।

২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্সির সময় এফবিআই ডিরেক্টর পদ থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন জেমস কোমি। সেই সময় কোমি ট্রাম্পের ২০১৬ নির্বাচনী প্রচার ও রাশিয়ার যোগসাজশ সংক্রান্ত তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন। সেই পুরনো সংঘাত মনে রেখেই কি এমন এক প্রতীকী বার্তা দিলেন তিনি? ব্যাপক বিতর্কের মুখে পোস্টটি দ্রুত মুছে ফেলে কোমি অবশ্য বিবৃতি দিয়ে বলেন, তাঁর পোস্টে কোনও বিশেষ বার্তার উদ্দেশ্য ছিল না।

তাঁর কথায়, 'আজ সকালে সমুদ্রতটে হাঁটার সময় ঝিনুকের কিছু আকৃতি দেখে মনে হয়েছিল এটা কোনও রাজনৈতিক বার্তা। কিন্তু আমি বুঝতে পারিনি যে, কিছু মানুষ এর সঙ্গে হিংসার যোগসূত্র খুঁজে পাবেন। আমার মনে এরকম কিছু আসেইনি। আমি যে কোনও রকম হিংসার বিরুদ্ধে। তাই পোস্টটি সরিয়ে দিয়েছি।'

কিন্তু তাতে মোটেই থেমে নেই বিতর্ক। রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান অ্যান্ডি ওগলেস এই পোস্টকে সরাসরি 'খুনের হুমকির কোড' বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এটি ‘৪৭’ অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ‘৮৬’ বা সরিয়ে দেওয়ার এক গোপন ইঙ্গিত। এটা স্পষ্টভাবে মারাত্মক এক সংকেত। তিনি এই ঘটনার তদন্তের দাবিও করেছেন। সেইসঙ্গে জানতে চেয়েছেন, জেমস কোমির কাছে এখনও কোনও গোপন কোনও তথ্য রয়ে গেছে কিনা।

এর পরেই এই বিতর্কে সরাসরি নাক গলিয়েছে প্রেসিডেন্ট সুরক্ষায় নিয়োজিত মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিক্রেট সার্ভিস। সংস্থার কমিউনিকেশনস প্রধান অ্যান্থনি গুগলিয়েলমি বলেন, 'আমরা যেকোনও ধরনের হুমকি বা ইঙ্গিতকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখি। প্রাক্তন এফবিআই ডিরেক্টরের পোস্ট সম্পর্কে আমরা জানি এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে। তবে গোপনীয়তার খাতিরে এর বেশি কিছু জানানো সম্ভব নয়।'

এফবিআই ডিরেক্টর কাশ প্যাটেলও এক্স-এ এই নিয়ে পোস্ট করেন। লেখেন, 'আমরা সিক্রেট সার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। প্রাথমিক দায়িত্ব সিক্রেট সার্ভিসের হলেও এফবিআই সবরকম সহযোগিতা করবে।' মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রধান ক্রিস্টি নোয়েম এক ধাপ এগিয়ে লিখেছেন, 'অপমানিত প্রাক্তন এফবিআই ডিরেক্টর জেমস কোমি সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের খুনের হুমকি দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ডিএইচএস এবং সিক্রেট সার্ভিস তদন্ত করছে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

এই ঘটনা ঘিরে মার্কিন রাজনীতিতে একদিকে যেমন নিরাপত্তা ও গোপন বার্তার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তেমনই প্রশ্ন উঠেছে, জেমস কোমি এমনটা করলেন কেন? তিনি কি জানতেন না এই সংখ্যাগুলোর অর্থ? নাকি সত্যিই এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার এক নিঃশব্দ প্রকাশ ছিল? এই নিয়ে আপাতত দ্বিধাবিভক্ত আমেরিকার রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ নাগরিক। কেউ এটিকে নিছক ভুল বা কাকতালীয় বলে মনে করছেন, কেউ আবার এটিকে চরম হিংসার উস্কানি বলে কড়া পদক্ষেপ চাইছেন।


```