ভারতের কাছ থেকে ব্যাপক মার খেয়ে এখন দেশের ভিতরেই নিন্দা-ঠাট্টার পাত্র হয়ে উঠেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির।

আড়াই বছরের বেশি জেলবন্দি পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টির প্রধান ইমরান খান
শেষ আপডেট: 15 May 2025 15:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'মাছ না পেয়ে ছিপে কামড়' দিতে চলেছে পাকিস্তান সরকার। ভারতের কাছ থেকে ব্যাপক মার খেয়ে এখন দেশের ভিতরেই নিন্দা-ঠাট্টার পাত্র হয়ে ওঠা পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির ইমরান খানের উপর দিয়ে গায়ের ঝাল মেটাতে চলেছেন।
আড়াই বছরের বেশি জেলবন্দি পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টির প্রধান ইমরান খানের দুই ছেলে কাসিম ও সুলেমান খান বাবার মুক্তির আর্জি জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। 'বিশ্বদাদা' আমেরিকা ছাড়াও কিংবদন্তি প্রাক্তন ক্রিকেটার ইমরানের দুই ছেলে বিশ্বের সমস্ত প্রভাবশালীদের কাছে বাবার মুক্তির আবেদন জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ভারতের শান্তি নষ্ট করার প্রচেষ্টায় মুখ থুবড়ে পড়ার পর থেকে শাহবাজ ও আসিমের জোড়া ফলা ঝাল মেটাচ্ছে ইমরানের উপর। তাঁর দলের তরফেও বলা হয়েছে, বিচারের নামে প্রহসন চালিয়ে অত্যাচার শুরু হয়েছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর উপর। আদালতেও নিষ্কৃতি জুটছে না ইমরানের। আড়াই বছর জেলে রাখার পরেও এখন ইমরানকে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ দমন বিশেষ আদালত পলিগ্রাফ টেস্টের অনুমতি দিয়েছে।
আদালতের নির্দেশে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে সন্ত্রাসবাদ দমন আইনে লাই ডিটেক্টরে বসিয়ে জেরা করা হবে এবং তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করা হবে। প্রশ্ন উঠেছে, যা কিছু গতিপ্রকৃতি তা কেন আড়াই বছর পর ঘটতে চলেছে। দলের তরফে বলা হয়েছে, জেলে ভিতরে অত্যাচার, হেনস্তা করা হচ্ছে পিটিআই প্রধানের উপর। সরকার চাইছে, ওদের কথামতো ইমরান বয়ান দিন। এর জন্য পাকিস্তানি সেনার সঙ্গে ইমরানের দফায় দফায় বৈঠক ব্যর্থ হয়ে গিয়েছে।
বাবার হয়ে মুক্তির সেই একই আবেদন শোনা গিয়েছে ইমরানের ব্রিটিশ নাগরিক দুই ছেলের আর্তিতেও। এই প্রথম বাবার জন্য মুখ খুললেন কাসিম ও সুলেমান। তাঁরা জানিয়েছেন, সমস্ত আইনি ও কূটনৈতিক চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তাঁরা আর মুখ বুজে সহ্য করতে পারছেন না। আমরা কখনও এর আগে কিচ্ছু বলিনি। কিন্তু, বাবার সঙ্গে যা চলছে তা দেখে আমরা চুপ করে থাকতে পারছি না। তাঁদের দাবি, বাবাকে মিথ্যা অভিযোগ ফাঁসানো হয়েছে।
গারদের পিছনে বন্দি ইমরানের ছবি দিয়ে তাঁরা লিখেছেন, বাবাকে জেলের ভিতরেও নির্বাসনে রাখা হয়েছে। যাকে তাঁরা 'মৃত্যুকূপ' বলে বর্ণনা করেন। বাইরের আলো দেখার তাঁর অধিকার নেই। ডাক্তার দেখানোর সুযোগ নেই। মাসের পর মাস ধরে একাকী ঘরবন্দি করে রাখা হয়েছে। বড় ছেলে সুলেমান বলেন, আদালত আমাদের প্রতি সপ্তাহে কথা বলার অনুমতি দিলেও আমরা দু-তিন মাস অন্তর কথা বলতে পারি।