জাকার্তার সাততলা ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ২০ জনের মৃত্যু। টেরা ড্রোন ইন্দোনেশিয়ার অফিসে আগুন দ্রুত ছড়ায় কাচ গলে। দমকলের দীর্ঘ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও অনেকে ভিতরে আটকে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

জাকার্তায় আগুন
শেষ আপডেট: 9 December 2025 16:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইন্দোনেশিয়ার (Indonesia) জাকার্তা (Jakarta) শহরের বহুতলে ভয়াবহ আগুন (Fire Incident)। মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের। মঙ্গলবার দুপুরে প্রথম তলায় আগুন দেখতে পান কয়েকজন, নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার আগেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে উপরের তলাগুলিতে। ঠিক সেই সময় বিল্ডিং কর্মীদের একটি বড় অংশ দুপুরের লাঞ্চ (Lunch Break) করছিলেন, বাকিরা অফিস ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন, ফলে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও এখনও পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপে কতজন আটকে আছে, তাদের আদৌ সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হবে কি না তা বোঝা যাচ্ছে না।
আগুন লাগে ‘টেরা ড্রোন ইন্দোনেশিয়া’র (Terra Drone Indonesia) অফিসে। সংস্থাটি মূলত ড্রোনের সাহায্যে এরিয়াল সার্ভে (Aerial Survey) করে এবং খনি (Mining) থেকে শুরু করে কৃষি (Agriculture)–সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিষেবা দেয়। এটি জাপানি ড্রোন কোম্পানি ‘টেরা ড্রোন কর্পোরেশন’–এর ইন্দোনেশীয় ইউনিট।
দমকল কর্মীরা বিল্ডিংটির ভিতরে আটকে থাকা লোকজনকে উদ্ধারের চেষ্টা করছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, অনেকে উপরের তলা থেকে পোর্টেবল ল্যাডার (Portable Ladder) ব্যবহার করে প্রাণ বাঁচাতে নেমে আসছেন। বহু দমকলকর্মীকে বডি ব্যাগে (Body Bag) করে মৃতদেহ নামিয়ে আনতেও দেখা গিয়েছে।
জাকার্তা সেন্ট্রাল পুলিশের কর্তা সাসাত্যো পুরনোমো কন্দ্রো জানিয়েছেন, আগুন আপাতত সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত। তবে সার্চ অপারেশন (Search Operation) চলছে, কারণ বিল্ডিংটির ভিতরে আরও অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “বর্তমানে প্রধান লক্ষ্য উদ্ধার (Evacuation) এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”
হংকং–এর সাম্প্রতিক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে মিল
কয়েক দিন আগেই হংকং (Hong Kong)–এ সাতটি বহুতলে আগুন লেগে মৃত্যু হয়েছিল ১৬০ জনের। তদন্তে উঠে আসে, পুনর্নির্মাণের সময় বাঁশের মাচা ঢেকে রাখা স্ক্যাফোল্ডিং নেটিং (Scaffolding Netting) যথেষ্ট মানসম্মত ছিল না। ২৬ নভেম্বর আগুন শুরু হওয়ার পর তা নেভাতে লেগেছিল প্রায় দুই দিন। নীচের তলার নেটিংয়ে আগুন লেগে তা উপরে ছড়িয়ে যায়। জানলার ধারে ব্যবহৃত ফোম প্যানেল (Foam Panel) আগুনে পুড়ে বিস্ফোরিত হয়ে কাঁচ গলে ফ্ল্যাটের ভিতরে আগুন ঢুকে পড়ে।
পর্যটকদের জন্য সতর্কতা কেন জরুরি
এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি পর্যটকদের (Tourist Safety) জন্যও বড় সতর্কবার্তা। দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন শহরে বহুতল অফিস–বাণিজ্যিক ভবনেই আগুন লাগার ঘটনা বাড়ছে। ফলে বিদেশ সফরে গেলে নিরাপত্তা, বিল্ডিংয়ের ফায়ার এক্সিট (Fire Exit), অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং ইমারজেন্সি সিঁড়ির অবস্থান আগেভাগে জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।
জাকার্তার এই মর্মান্তিক ঘটনায় যে প্রশ্নটা ফের সামনে উঠে এল, তা হল এশিয়ার দ্রুত এগিয়ে চলা নগরগুলিতে ফায়ার সেফটি (Fire Safety) ব্যবস্থার ফাঁকফোকর এখনও ভয়ংকরভাবে থেকে গেছে। আগুনের তাণ্ডব থেমে গেলেও তদন্তে পাওয়া যাবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও দায়িত্ব।