প্রশ্ন হচ্ছে এই বর্ষবিদায় ও নববর্ষ বরণে কী করছেন আপনি? বাড়ির ছাদে নাকি বন্ধুদের সঙ্গে আমোদ-উল্লাসে।

বর্ষবিদায়কে এক উচ্ছ্বাস-অনুভূতির সঙ্গে পালন করা হয়, যেমনটি আপনি চান।
শেষ আপডেট: 29 November 2025 12:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছর শেষ হতে চলল। ইংরেজি নববর্ষ ২০২৬ সালকে স্বাগত জানানোর ঘড়ির টিকটিক শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু, প্রশ্ন হচ্ছে এই বর্ষবিদায় ও নববর্ষ বরণে কী করছেন আপনি? বাড়ির ছাদে নাকি বন্ধুদের সঙ্গে আমোদ-উল্লাসে। তবে যদি একটু অন্যভাবে নতুন বছরের আগমনের স্বাদ নিতে চান, রইল তার ঠিক-ঠিকানা। তাহলে আর দেরি কেন, ব্যাগ প্যাক করে ফেলুন। আর চলুন গোয়া, কাসৌলি। যেখানে বর্ষবিদায়কে এক উচ্ছ্বাস-অনুভূতির সঙ্গে পালন করা হয়, যেমনটি আপনি চান।
গোয়ার সমুদ্র সৈকত আপনার জন্য অপেক্ষা করছে অত্যন্ত উদ্দীপনা, কাঠের আগুনের ধারে হুল্লোড়, গোয়ানিজ-কোঙ্কনি মিউজিকের ফিউশন এবং বিশ্ব-পর্যটকের স্পর্শ। অন্যদিকে, কাসৌলিতে পাবেন পাইনের গন্ধমাখা বনপথ, মিঠেল ঠান্ডা বাতাস এবং তারাদের সখ্য ভরা শান্ত সন্ধ্যা। দুটোতেই রয়েছে এক উদ্দামতা ও রোমান্টিসিজমের মিশেল। একটিকে বেছে নিতেই পারেন।
ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকেই গোয়ার সমুদ্র তরঙ্গে লাগে উত্তেজনার উষ্ণতার। গোটা সৈকতরেখা জুড়ে যেন নতুন প্রাণ পেয়ে যায়। সৈকতগুলি আচমকাই ঘুমন্ত দৈত্যের মতো জেগে উঠে মুক্ত পার্টি জোনে পরিণত হয়ে যায়। পাশাপাশি ক্লাবগুলি আয়োজন করে বিশেষ অনুষ্ঠানের। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ডিজেরা এসে হাজির হন এই শহরে। আপনি যদি সারারাত নাচগান, খানাপিনা, গানবাজনার মধ্য দিয়ে কাঠের আঁচের উত্তাপ নিতে আগ্রহী, তাহলে এখনই তল্পিতল্পা গুছিয়ে ফেলুন।
তিনদিনে গোয়া ভ্রমণ
প্রথম দিন: ২৯ ডিসেম্বর
গোয়ায় পৌঁছে হোটেলে অথবা বিচ স্যাকে ঢুকে পড়ুন।
জলক্রীড়ার জন্য চলে যান বাগা বিচে
ডিনার করুন সৈকতের ধারে যে কোনও সমুদ্রমুখী দোকানে।
দ্বিতীয় দিন: ৩০ ডিসেম্বর
ঘুরে নিন ব্যাসিলিকা অফ বম জেসাস ও সে ক্যাথিড্রাল
আঞ্জুনা ফ্লিয়া মার্কেটে কেনাকাটা সেরে ফেলুন
বাগাটোর থেকে দেখুন সূর্যাস্ত ও স্বাদ নিক গ্রিক-গোয়ান খাবারের।
তৃতীয় দিন: ৩১ ডিসেম্বর
যে কোনও কাফেতে ব্রাঞ্চ (ব্রেকফাস্ট ও লাঞ্চের মধ্যবর্তী সময়) সেরে ফেলুন।
যেখানে পছন্দ ও পকেট পারমিট করে এমন বিচ পার্টি অথবা ক্লাব নাইটের টিকিট বা পাস সংগ্রহ করে ফেলুন।
সন্ধ্যা থেকে যোগ দিন পার্টিতে।
ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে গোয়া সবথেকে দামি হয়ে ওঠে। ওই সময়ে থাকার ভাড়া পড়বে ৬ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা প্রতি রাত। একেকটি পার্টি পাসের খরচ হবে ৫ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকার মতো। খাবার ও পানীয় বাবদ গচ্চা যাবে দেড় হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা দিনপ্রতি।
হিমাচল প্রদেশের শান্ত পরিবেশ কসৌলির ঠান্ডায় উপভোগ্য করে তুলুন নববর্ষকে শুভাগমন জানানোর প্রস্তুতি। পাইনের জঙ্গল, ব্রিটিশ যুগের স্থাপত্য, হিমেল বাতাস এবং নির্জন পথে হাতে হাত রেখে ঘোরার মজা নিতে পারেন এখানে।
২৯ ডিসেম্বর পৌঁছেই মাথা গোঁজার ঠিকানায় ঢুকে পড়ুন। বুটিক হোটেল ও হোম স্টে দুটোই মিলবে। ৩০ ডিসেম্বর ট্রেক করে চলুন গিলবার্ট ট্রেলে। সেখানে নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করতে করতে দুপুরের খাবার সেরে ফেলুন। রিসর্টে থাকলে তাদের বনফায়ারে গিয়ে আলোয়ান জড়িয়ে বসুন এবং হিমাচলী মুখরোচকের স্বাদ নিন।
৩১ ডিসেম্বর সকালেই দেখে নিন মাঙ্কি পয়েন্ট। এখান থেকে দূরদিগন্তকে আপনার স্বজন মনে হবে। যেখানে রয়েছেন সেখানেই মোমের আলোয় বর্ষশেষের নৈশভোজ করতে পারেন। এবং ঘড়ির ঠিকানা যখন ১২টায় ছোঁবে তখন ঘনিষ্ঠের সঙ্গে ঠোঁটে ঠেকিয়ে নিন একটু চুমুক। কসৌলিতে প্রতিরাতের থাকা খরচ পড়বে ৩ থেকে ৮ হাজার টাকা। খাবার খরচ প্রতিদিন ৮০০ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা। তবে এই সময় কসৌলির তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রির নীচে থাকবে। সেই মতো গরম পোশাক নিন। বিমানে চণ্ডীগড়ে পৌঁছে সেখান থেকে গাড়িতে ২ ঘণ্টায় পৌঁছে যেতে পারেন কসৌলি।