জীবনের অবসর বিনোদনে বহু প্রৌঢ়-বৃদ্ধ দম্পতিও দুজনায় পাড়ি দিচ্ছেন নতুন করে প্রেমে পড়তে। মালয়েশিয়ায় কী নেই!

মালয়েশিয়া যাওয়া কঠিন কিছু নয়।
শেষ আপডেট: 28 November 2025 13:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে’ জীবনানন্দ দাশের কবিতার বনলতা সেনকে নিয়ে এই শীতেই ঘুরে আসা যাক মালয়েশিয়া থেকে। মালয়েশিয়া বেশ কিছুদিন ধরেই হানিমুন ও পোস্ট হানিমুন ডেস্টিনেশন হয়ে উঠেছে। জীবনের অবসর বিনোদনে বহু প্রৌঢ়-বৃদ্ধ দম্পতিও দুজনায় পাড়ি দিচ্ছেন নতুন করে প্রেমে পড়তে। মালয়েশিয়ায় কী নেই! কুয়ালা লামপুরের আধুনিকতম নাগরিক-জীবন খেকে সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জায়গা পেনাং এবং মালাক্কা। বোর্নিও-র স্বর্গীয় প্রাকৃতিক ছবির মতো এক জগৎ, যেখানে রয়েছে সবুজ বন ও সৈকত। আবার অন্যদিকে রয়েছে ক্যামেরন হাইল্যান্ডসের শীতল পাহাড়ি এলাকা।
পর্যটকরা দেখে নিতে পারেন পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার্স। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার খাবারের নানান আয়োজন, দ্বীপে দ্বীপে ছোঁ মেরে বেড়ানো। সঙ্গে মিলবে সমুদ্রের অতল খোঁজে নেমে বেড়ানো ও হাইকিং। মালয়েশিয়ার আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রগুলি হল- কুয়ালা লামপুর, পেনাং, লাংকায়ি, মালাক্কা, সাবা ও সারাওয়াক, ক্যামেরন হাইল্যান্ডস।
কুয়ালা লামপুর হল দেশের রাজধানী শহর। বেশিরভাগ লোকই কলকাতা থেকে কুয়ালা লামপুরে গিয়েই নামেন। এই শহরেই রয়েছে টুইন টাওয়ার্স। কেনাকাটা, বিনোদনের হরেক কিসিমের উপাদান। সঙ্গে চমকদার অথেনটিক এশীয় খাবারের ঝাঁক। পেনাং দ্বীপ বিখ্যাত হল তার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে। এখানে রয়েছে বাটু গুহা। যা একটি হিন্দু ক্ষেত্র। রয়েছে বেশ কিছু মন্দির। ঐতিহাসিক জর্জটাউন এবং সুস্বাদু স্ট্রিট ফুডে। লাংকায়ি হল ৯৯টি দ্বীপের একটি দ্বীপপুঞ্জ। এখানে রয়েছে একের পর এক নয়নাভিরাম সমুদ্র সৈকত। এবং স্কাই ওয়াকে হাঁটার অভিজ্ঞতা ভোলার নয়।
মালাক্কা একটি ঐতিহাসিক শহর। সেখানে রয়েছে অতি সুন্দরভাবে সংরক্ষিত ঔপনিবেশিক আমলের শিল্পকাঠামো। সাবা ও সারাওয়াক বোর্নিও দ্বীপে অবস্থিত। এই এলাকা বিখ্যাত জঙ্গল, বন্যপ্রাণ এবং নৈসর্গিক সৌন্দর্যের জন্য। মালয়েশিয়ার জনপ্রিয় পাহাড়ি এলাকা হল ক্যামেরন হাইল্যান্ডস। এখানে শীতল বাতাস, চা বাগান এবং ধাপ চাষের সবুজের সমারোহ দেখতে মিলবে।
মালয়েশিয়া যাওয়া কঠিন কিছু নয়। খুব দামিভাবে দেশের যে কোনও রাজ্য ভ্রমণের চেয়েও কম পয়সায় ঘুরে আসা যায় এই দেশ। বহু প্যাকেজও মেলে সস্তায়। বিশেষ করে হানিমুন প্যাকেজ। মালয়েশিয়া যেতে ভারতীয়দের পৃথক ভিসার প্রয়োজন নেই। এটা চালু থাকবে আগামী ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ভারতীয় ভ্রমণার্থীরা ৩০ দিনের অস্থায়ী অনুমোদন জোগাড় করেই চলে যেতে পারেন। মালয়েশিয়ায় যেতে লাগবে বৈধ পাসপোর্ট। যার অন্তত ৬ মাসের বৈধতা তারিখ রয়েছে। ফেরত আসার টিকিট (৩০ দিনের মধ্যে)। যেখানে থাকছেন সেই হোটেল বুকিংয়ের প্রমাণ এবং থাকাখাওয়ার মতো পর্যাপ্ত অর্থ। তবে ফিরে আসার সময় অভিবাসনের ছাড়গুলি দেখে নিয়েই কেনাকেটা করবেন।
কলকাতা থেকে মালয়েশিয়ার বিমানভাড়া আসা-যাওয়া মিলিয়ে ১১ হাজার ৬০০ টাকার মতো। তবে তা ওঠানামা করে। তবে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের বিমানভাড়া সব সময়েই বেশি থাকে, প্রায় ১৫ হাজার টাকার কাছাকাছি। সব মিলিয়ে যাওয়া-আসার খরচ পড়বে ১১,৬০০ টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকার মতো। থাকার জন্য ৩ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকার (প্রতি রাত) হোটেল মিলবে। মালয়েশিয়ার ভিতরে ঘোরাঘুরির জন্য খরচ পড়তে পারে আপনার ভ্রমণসারণি অনুযায়ী হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে। মালয়েশিয়া যাওয়ার পিক সিজন হল- ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস। এই সময় সবকিছুই দামি হয়ে ওঠে। চিনা নববর্ষ ও থাইপুসাম উৎসব এই সময়ের মধ্যেই হয়।
তাহলে আর দেরি কেন, এখনই খুলে খেলুন ল্যাপটপ। মারুন সার্চ, আর বুক করে ফেলুন আপনার স্বপ্নের দুনিয়ায় পা রাখার। যেমন করেই কবি বলেছিলেন,
সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন
সন্ধ্যা আসে;...তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল;...থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।