ইজরায়েলের সামরিক বাহিনী তেহরান ও তার আশপাশে তিনটি তেল ভাণ্ডার এবং একটি পরিশোধন কেন্দ্রে আঘাত হানে। হামলার পর শহরের নানা জায়গায় বিশাল আগুন জ্বলতে দেখা যায়। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আকাশ।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 9 March 2026 18:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সপ্তাহান্তে ইরানের তেল সংরক্ষণ (Iran Oil Centre) কেন্দ্রগুলিতে ইজরায়েলের বিমান হামলার (Iran Israel Conflict) জেরে তীব্র আগুন ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী তেহরান ও আশপাশের এলাকায়। ওই হামলায় অন্তত চার জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশাল অগ্নিকাণ্ডের পাশাপাশি এই হামলা ঘিরে আমেরিকা ও ইজরায়েলের (US Israel Relations) মধ্যে মতপার্থক্যও সামনে এসেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম বড় ধরনের মতভেদ তৈরি হয়েছে দুই মিত্র দেশের মধ্যে।
সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামলার আগে ইজরায়েল প্রশাসন ওয়াশিংটনকে বিষয়টি জানিয়েছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, ওই তেল ভান্ডারগুলি নাকি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জ্বালানি সরবরাহে ব্যবহার করা হচ্ছিল। তবে হামলার ব্যাপ্তি আমেরিকার প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি ছিল বলে অভিযোগ। এক মার্কিন আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, আক্রমণের পরিধি দেখে তারা বিস্মিত এবং এই পদক্ষেপকে সঠিক বলে মনে করছে না। রিপোর্ট বলছে, আমেরিকার তরফে 'WTF' মেসেজ পাঠানো হয়েছে।
ইজরায়েলের সামরিক বাহিনী তেহরান ও তার আশপাশে তিনটি তেল ভাণ্ডার এবং একটি পরিশোধন কেন্দ্রে আঘাত হানে। হামলার পর শহরের নানা জায়গায় বিশাল আগুন জ্বলতে দেখা যায়। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আকাশ। একটি ভাণ্ডার থেকে তেল বেরিয়ে এসে আগুন ধরে যায়। স্থানীয়দের দাবি, সেই আগুন রাস্তায় বয়ে যাওয়া আগুনের নদীর মতো দৃশ্য তৈরি করেছিল।
CRAZY FOOTAGE 🔴
Apocalyptic scenes coming out of Tehran right now pic.twitter.com/VVejLZfaVq— Open Source Intel (@Osint613) March 7, 2026
বিস্ফোরণের পর আকাশ থেকে যে বৃষ্টি পড়ছিল তা ছিল কালচে রঙের। তেলের সঙ্গে ধোঁয়া ও কালির মিশ্রণে ওই জল দূষিত হয়ে পড়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে বাড়ির ভিতরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষাক্ত বৃষ্টির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
এই হামলার ফলে শুধু মানবিক ও পরিবেশগত ক্ষতি নয়, আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব পড়েছে। আক্রমণের পরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। আরব দুনিয়ায় যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার কারণে তেলের সরবরাহ নিয়ে আগেই উদ্বেগ ছিল। তার মধ্যে নতুন করে এই হামলা বাজারকে আরও অস্থির করে তোলে।
সোমবার আন্তর্জাতিক মানের অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৭.৯৭ ডলারে পৌঁছয়, যা আগের তুলনায় প্রায় সাড়ে ১৬ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে আমেরিকায় উৎপাদিত অপরিশোধিত তেলের দামও ব্যারেল প্রতি ১০৬.২২ ডলারে ওঠে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেল অবকাঠামোর উপর হামলা যুদ্ধকে আরও বিপজ্জনক দিকে ঠেলে দিতে পারে। এর ফলে ইরানের সাধারণ মানুষও আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে পড়তে পারেন। একই সঙ্গে তেলের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
ইরান ইতিমধ্যেই সতর্ক করে দিয়েছে, তাদের তেল স্থাপনায় আরও হামলা হলে তারা একই ধরনের পাল্টা আঘাত হানতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তেহরান।