সংবাদপত্রটির সম্পাদকীয়তে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলতে থাকা সামরিক আক্রমণ প্রসঙ্গে ট্রাম্পের মন্তব্যে একাধিক ভ্রান্ত তথ্য রয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 9 March 2026 16:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের মিনাব শহরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় (US Iran War) বহু শিশুর মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক স্তরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। হামলার পর ইরানের এক ইংরেজি ভাষার সংবাদপত্র ‘তেহরান টাইমস’-এর (Tehran Times) প্রথম পাতাজুড়ে প্রকাশ করা হয়েছে নিহত শিশুদের ছবি। সেই ছবির উপরেই বড় অক্ষরে লেখা হয়েছে - ট্রাম্প, এঁদের চোখের দিকে তাকাও (Trump, Look Them In The Eyes)।
সংবাদপত্রটির সম্পাদকীয়তে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) বক্তব্যকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলতে থাকা সামরিক আক্রমণ প্রসঙ্গে ট্রাম্পের মন্তব্যে একাধিক ভ্রান্ত তথ্য রয়েছে। পাশাপাশি নৃশংস ঘটনার দায় এড়ানোর চেষ্টা এবং কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাকে অস্বীকার করার অভিযোগও তোলা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, মিনাবের ওই বিদ্যালয়ে হামলার জন্য ইরানই দায়ী। তাঁর বক্তব্য, ইরানের ব্যবহৃত অস্ত্রের লক্ষ্যভেদ ক্ষমতা অত্যন্ত কম, ফলে তাদেরই হামলায় এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

তবে নিউইয়র্ক টাইমসের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাটির জন্য সম্ভবত আমেরিকার সামরিক বাহিনীই দায়ী। যদিও এই ঘটনার দায় এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি আমেরিকা বা ইজরায়েল - কোনও দেশই। ইরানের সরকারি সূত্রের দাবি, ওই হামলায় অন্তত দেড়শোরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যদিও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ঘটনাস্থলে পৌঁছতে না পারায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি ঘটে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। মিনাব শহরের একটি সামরিক ঘাঁটির ভেতরে বা তার লাগোয়া একটি বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ইরানের দাবি, এতে অন্তত ১৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিহতদের অধিকাংশই শিশু।
সংঘাত বিষয়ক গবেষক ট্রেভর বল, যিনি নেদারল্যান্ডসের তথ্য যাচাইকারী সংস্থা বেলিংক্যাটের সঙ্গে যুক্ত, রবিবার রাতে জানান যে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি সম্ভবত টমাহক শ্রেণির একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক বিশ্লেষণে তিনি একটি ভিডিওর উল্লেখ করেছেন, যা প্রথম সম্প্রচার করেছিল ইরানের মেহর সংবাদ সংস্থা।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি ক্ষেপণাস্ত্র সামরিক ঘাঁটির একটি ভবনে আঘাত হানছে। ওই ঘাঁটির সঙ্গে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর যোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। ট্রেভর বলের দাবি, এই ভিডিও প্রথমবার প্রমাণ দিচ্ছে যে হামলাটি আমেরিকার দিক থেকেই হয়ে থাকতে পারে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে চলমান সংঘাতে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ক্ষমতা কেবল আমেরিকারই রয়েছে। ইজরায়েলের কাছে এই ধরনের অস্ত্র থাকার তথ্য নেই। ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে আঘাতের সঠিক স্থানও নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান, যা ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে স্পষ্ট বিরোধ তৈরি করছে।