হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বোমাবর্ষণ করে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা যুদ্ধাপরাধের সামিল বলে অভিযোগ তুলেছেন মানবাধিকারকর্মীরা।

শেষ আপডেট: 25 August 2025 14:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুনরায় রক্তাক্ত হল গাজা। সোমবার ইজরায়েলের বিমান হামলায় দক্ষিণ গাজার (Israel attack on Gaza) নাসের হাসপাতালে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন তিন সাংবাদিকও।
প্যালেস্তিনীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রয়টার্সের চিত্র সাংবাদিক হুসাম আল-মাসরি। তিনি রয়টার্সের সঙ্গে চুক্তিতে কাজ করতেন। রয়টার্সের আরও এক সাংবাদিক গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁর নাম হাতেম খালেদ।
এই হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বোমাবর্ষণ করে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা যুদ্ধাপরাধের সামিল বলে অভিযোগ তুলেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। গাজায় ইজরায়েলি হামলায় সাংবাদিকের মৃত্যুর ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগে আল জাজিরার কয়েক জন সাংবাদিকের মৃত্যু হয়েছে। আল জাজিরার দাবি তাঁদের অন্তত ৫ জন সাংবাদিকের মৃত্যু ঘটেছে এ যাবৎ ইজরায়েলি হামলায়।
রয়টার্স জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথম বিস্ফোরণের পর যখন সাংবাদিক, উদ্ধারকর্মী ও সাধারণ মানুষ সাহায্যের জন্য ছুটে যান, তখনই ঘটে দ্বিতীয় হামলা। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ে। গাজার স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, নিহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন —হুসাম আল-মাসরি (রয়টার্সের চিত্র সাংবাদিক), মারিয়াম আবু দাগ্গা, মোহাম্মদ সালামা, মোয়াজ আবু তাহা। হামলার সময়ে রয়টার্সের লাইভ ভিডিও ফিড হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, যা হুসাম আল-মাসরিই পরিচালনা করছিলেন।
হাসপাতালে হামলা নিয়ে এখনও পর্যন্ত ইজরায়েলি সেনা ও প্রধানমন্ত্রীর দফতরের তরফে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্যালেস্তিনীয় সাংবাদিক সংঘের দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় ইজরায়েলি হামলায় ইতিমধ্যেই ২৪০ জনের বেশি সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। এই সংখ্যাই বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে তুলছে।