ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রককে উল্লেখ করে সংবাদ সংস্থাগুলির দাবি, শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া ইজরায়েলি হামলায় এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২৪।

রবিবার রাতের ছবি
শেষ আপডেট: 16 June 2025 10:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃতীয় দিনেও অব্যাহত ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে মিসাইলের লড়াই। রবিবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত একাধিক জায়গায় চলেছে আকাশপথে হামলা। আন্তর্জাতিক স্তরে যুদ্ধবিরতির আবেদন উপেক্ষা করেই রণংদেহি মেজাজে দুই দেশ।
ইরান অভিযোগ করেছে, ইজরায়েল তাদের একাধিক তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে এবং ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর গোয়েন্দা প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মহম্মদ কাজেমি-সহ আরও দুই শীর্ষ জেনারেলকে হত্যা করেছে। এছাড়া আরও কয়েকটি জনবসতিপূর্ণ এলাকাতেও হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রককে উল্লেখ করে সংবাদ সংস্থাগুলির দাবি, শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া ইজরায়েলি হামলায় এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২৪। জখম হয়েছেন অন্তত ১,২৭৭ জন। তবে ঠিক কত জন সাধারণ মানুষ ও কত জন সেনা রয়েছে সেই তালিকায়, তা এখনও প্রকাশ করেনি ইরান।
অন্যদিকে, ইজরায়েল দাবি করেছে, শুক্রবার থেকে এখনও পর্যন্ত ইরান থেকে ২৭০টিরও বেশি মিসাইল ছোঁড়া হয়েছে। এর মধ্যে ২২টি মিসাইল তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে দেশের ভিতরে আঘাত হেনেছে। এসব হামলায় এপর্যন্ত ইজরায়েলে ১৪ জন নিহত এবং অন্তত ৩৯০ জন জখম হয়েছেন বলে জানাচ্ছে সংবাদ সংস্থা।
রবিবার গভীর রাতে জেরুজালেম শহরে বাজতে থাকে এয়ার রেড সাইরেন। ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্স (IDF) জানিয়েছে, 'ইরানি মিসাইল আসছে।' একাধিক ভিডিওতে ধরা পড়েছে সেই দৃশ্য। দেখা যায়, আকাশে ছুটে চলেছে মিসাইল, মাঝপথেই অনেকগুলোকে ধ্বংস করছে ইজরায়েলের বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
জবাবে ইজরায়েলও হামলা চালিয়েছে ইরানের অভ্যন্তরে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে তেহরান। ইজরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানে প্রবল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আকাশসীমায় প্রবেশ করে রবিবার রাতে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও এয়ার ডিফেন্স কম্পোনেন্ট তৈরির কারখানাগুলিতে হামলা চালায়।
ইরান স্বীকার করেছে, এই হামলায় আরও কয়েক জন শীর্ষ সামরিক কর্তা নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন IRGC গোয়েন্দা প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মহম্মদ কাজেমি ও তাঁর ডেপুটি জেনারেল হাসান মোহাকিক।
অন্য দিকে, আমেরিকার একটি সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইজরায়েল এই সংঘর্ষের আবহে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেইনিকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই পরিকল্পনায় স্থগিতাদেশ জারি করেন।
ইজরায়েলি হামলা শুধু সেনাঘাঁটি নয়, আঘাত হেনেছে সরকারের দফতর ও পরিকাঠামোয়ও। ইরানের দাবি, পররাষ্ট্র মন্ত্রক, শারহান তেলের ডিপো ও তেহরানের দক্ষিণে একটি জ্বালানির ট্যাঙ্কে আগুন লেগেছে। ইরানের উপ বিদেশমন্ত্রী সইদ খাতিবজাদে ও অন্য কূটনীতিকরা পররাষ্ট্র মন্ত্রকের ক্ষতিগ্রস্ত অফিস ও লাইব্রেরির ছবিও পোস্ট করেছেন।
এই আবহে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মহলের যুদ্ধবিরতির আহ্বানকে গুরুত্ব দেবে না তেল আভিভ। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'ইরানে শাসনব্যবস্থার পতন এই সংঘর্ষের ফল হতে পারে।' তাঁর দাবি, ইরান ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র তুলে দিতে চাইছে, এমন প্রমাণ পেয়েছে ইজরায়েলি গোয়েন্দারা।
বড়সড় সংঘাতের মুখে দাঁড়িয়ে পশ্চিম এশিয়া। এই যুদ্ধ ঠিক কতদূর যাবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন গোটা বিশ্ব।