প্রায় তিন বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শুরু হল ইজরায়েল-হামাসের বন্দি বিনিময় প্রক্রিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করলেন, ‘যুদ্ধ শেষ, সবাই খুশি।’

ছবি- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 13 October 2025 10:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় তিন বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করল ইজরায়েল ও হামাস। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে আজ, সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে পণবন্দি ও আটক বিনিময় প্রক্রিয়া। এই চুক্তিকে ঘিরে উত্তেজনা ও প্রত্যাশা দুই'ই ছড়িয়ে পড়েছে ইজরায়েল ও গাজায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, 'যুদ্ধ শেষ। এটা এক বিশেষ সময়। সবাই একসঙ্গে আনন্দ করছে, এমনটা আগে কখনও হয়নি। এতে অংশ নিতে পেরে আমি গর্বিত।' আরও বলেন, 'ইহুদি, মুসলিম বা আরব, সবাই খুশি। এই প্রথমবার সকলে একত্র হয়েছে। ইসরায়েলের পর মিশরে যাচ্ছি, সেখানকার শক্তিশালী ও ধনী দেশগুলির নেতাদের সঙ্গেও দেখা করব। সবাই এই শান্তি চুক্তির পাশে রয়েছে।'
বহুদিন ধরে আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ চলছে। ফলে দুই দেশই খুব ক্লান্ত। এই পরিস্থিতিতে শান্তি ফেরানোই ছিল একমাত্র উপায়। ওরা ক্লান্ত বলেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হবে না বলে আশাবাদী আমেরিকার প্রেসিডেন্ট।
ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) এই বন্দি ফেরত প্রক্রিয়ার নাম দিয়েছে ‘অপারেশন রিটার্নিং হোম’। সেনাবাহিনীর চিফ অফ জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির এক বিবৃতিতে বললেন, 'আর কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা সবাই এক হয়ে যাব, এক জাতি, ঐক্যবদ্ধ। গত প্রায় তিন বছরে আমরা যে সামরিক চাপ তৈরি করেছি, তার সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সমন্বয়ই হামাসের ওপর আমাদের বিজয় নিশ্চিত করেছে। আমরা এমন এক নিরাপত্তা বাস্তবতা গড়ে তুলব, যাতে গাজা উপত্যকা আর কখনও ইজরায়েল ও তার নাগরিকদের জন্য হুমকি না হয়।'
সূত্র বলছে, হামাস তিন দফায় বন্দি মুক্তি দেবে, জীবিত ও মৃত উভয়কেই। আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের মাধ্যমে এই বিনিময় হবে। প্রথম দুটি দল সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে মুক্তি পাওয়ার কথা, তৃতীয় দল ছাড়ার কথা তার এক ঘণ্টা পরে। তবে এক ইজরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামাসের হাতে থাকা সব মৃত বন্দিকে আজ ফেরত পাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। তাঁর কথায়, 'দুঃখজনকভাবে আমরা অনুমান করছি, সব নিহত বন্দিদের মরদেহ আজ ফিরবে না।'