গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল সফরে যান নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় সফর। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর (Benjamin Netanyahu) সঙ্গে একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনাও হয়। ২৬ তারিখ দিল্লি ফিরে আসেন।
.jpg.webp)
মোদীর ইজরায়েল সফর নিয়ে বিতর্ক
শেষ আপডেট: 16 March 2026 15:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েল জোটের (Iran Israel US War) সংঘাতের টানটান উত্তেজনার মধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইজরায়েল সফর (PM Modi Israel visit) নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলেছে। কারণ, তাঁর সফর শেষ হওয়ার দু'দিনের মাথায় হামলা চালায় ইজরায়েল (Israel)। তবে নেতানিয়াহুর সরকার সব জল্পনা উড়িয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই যুদ্ধে ভারত কিংবা মোদী কোনওভাবেই জড়িত নয়।
ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত আজার জানিয়েছেন, 'নরেন্দ্র মোদী ইজরায়েলে আসার আগেই পরিস্থিতি অস্থির ছিল। কিন্তু তখনও ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের কোনও পরিকল্পনা ছিল না। ভারতের প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পরই সামরিক সুযোগ তৈরি হয়। মন্ত্রিসভার অনুমোদনও আসে দু'দিন পরে।'
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল সফরে যান নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় সফর। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর (Benjamin Netanyahu) সঙ্গে একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনাও হয়। ২৬ তারিখ দিল্লি ফিরে আসেন।
এরপরই ২৮ ফেব্রুয়ারির ভোরে ইরানে যৌথভাবে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Furry) অভিযান চালায় ইজরায়েল-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (Israel-US Strikes on Iran)। ইজরায়েলের অভিযোগ ছিল, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও সামরিক কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে যায়।
তার কয়েক ঘণ্টা পর ইরান (Iran) পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে, যা দুবাই, আবুধাবি, কাতার, বাহরাইনসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে আঘাত হানে। ইরান জানায়, সর্বোচ্চ নেতার হত্যার প্রতিশোধ না নিয়ে তারা পিছু হটবে না।
এরপর কেটে গেছে ১৬ দিন। আরব দুনিয়ার সংঘাত এখনও অব্যাহত। যুদ্ধ কবে শেষ হবে, তার কোনও নিশ্চিত উত্তর কোনও দেশের কাছে নেই।
ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূতের (Israeli Ambassador) কথায়, বহু বছর ধরেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতার নিরাপত্তা কাঠামো এবং তাঁর অবস্থান বুঝতে গোয়েন্দা বিভাগে শক্তি বাড়িয়েছে ইজরায়েল। এরজন্য বিলিয়ন ডলার খরচ করে অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি তৈরি করতে হয়েছে।
সংঘাতের আবহে বন্ধ হরমুজ প্রণালী (Starit of Hormuz)। ইজরায়েল, আমেরিকাকে চাপে ফেলতে বাণিজ্যিক তেল ও গ্যাস পরিবহণের অন্যতন গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই (Mojtaba Khamenei)। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সঙ্কট বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভারতকে এক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে ইরান। ইতিমধ্যেই একাধিক এলপিজি (LPG) ও তেলের ট্যাংকার (Oil Tanker) হরমুজ পেরিয়েছে। তেহরানের বার্তা, তারা মনে করে এই যুদ্ধে ভারতের হাত নেই, তাই বন্ধুত্বের খাতিরেই ভারতকে (Iran India Relation) ছাড় দিতে প্রস্তুত। যদিও হরমুজে আটকে থাকা বাকি জাহাজগুলি ভারতে ফেরাতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বিদেশমন্ত্রক।