ইজরায়েলের এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন বায়ুসেনা 'অপারেশন মিডনাইট হ্যামার' অভিযানে জিবিইউ-৫৭ ‘বাঙ্কার বস্টার’ বোমা ও টমাহক ক্রুজ মিসাইল দিয়ে হামলা চালিয়েছিল ফোর্ডো, নতাঞ্জ ও ইসফাহানের পরমাণু ঘাঁটিতে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 23 June 2025 16:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার হামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফের ইরানের ফোর্ডো পারমাণবিক কেন্দ্রে আঘাত হানল ইজরায়েল (Iran Israel Conflict)। তেহরান ও নতাঞ্জে একের পর এক হামলার পর এবার ইজরায়েল (Israel) দাবি করেছে, এই অভিযান ছিল ইরানের (Iran) সামরিক পরিকাঠামোর ওপর সবচেয়ে জোরালো ও পরিকল্পিত আঘাতগুলির মধ্যে একটি! এদিকে ইরানের এক সংবাদ সংস্থাও জানিয়েছে, আমেরিকার পর ফের ফোর্ডো পারমাণবিক কেন্দ্রে (Fordow Nuclear Site) হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল।
ইজরায়েলের এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন বায়ুসেনা 'অপারেশন মিডনাইট হ্যামার' (Operation Midnight Hammer) অভিযানে জিবিইউ-৫৭ ‘বাঙ্কার বস্টার’ বোমা ও টমাহক ক্রুজ মিসাইল দিয়ে হামলা চালিয়েছিল ফোর্ডো, নতাঞ্জ ও ইসফাহানের পরমাণু ঘাঁটিতে। এরপরই ইজরায়েল একইভাবে হামলা চালাল সেখানে। মনে করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে এই হামলা করেছে আমেরিকা-ইজরায়েল।
ইরানের ফোর্ডো পারমাণবিক কেন্দ্রটি প্রায় ৮০–৯০ মিটার গভীরে, পাহাড়ের নিচে অবস্থিত। সেখানে ইউরেনিয়াম দ্রুত সমৃদ্ধ করার ক্ষমতা রয়েছে। এত গভীরে অবস্থিত পরমাণুকেন্দ্রকে ধ্বংস করতে শুধু আমেরিকার মতো শক্তিধর দেশের বাঙ্কার-বস্টার অস্ত্র প্রয়োজন — এ কথা একপ্রকার মেনেই নিয়েছিল ইজরায়েল। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁরা ফের হামলা চালাল কেন?
আসলে মনে করা হচ্ছে, ইরান পুরোপুরি ধোঁকা খাইয়ে দিয়েছে আমেরিকাকে। ইজরায়েলি চর সংস্থা মোসাদের অনুমান, আমেরিকার হামলার আগেই তেহরান ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যক সামগ্রী ও সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলেছিল। সে কারণেই মার্কিন হামলার পরেও কোনও তেজষ্ক্রিয়তা লক্ষ্য করা যায়নি। এতএব, ওই পরমাণুকেন্দ্রের ক্ষতি হলেও ইরান 'আসল জিনিস' বাঁচিয়ে নিয়েছে।
এদিকে রাষ্ট্রপুঞ্জের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা IAEA-র প্রধান রাফায়েল গ্রোসি জানাচ্ছেন, “বিস্ফোরণের ক্ষমতা ও সেই সঙ্গে স্পর্শকাতর সেন্ট্রিফিউজ যন্ত্রগুলির কম্পন-সহনশীলতার কথা মাথায় রাখলে ধরে নেওয়া যায়, ফোর্ডো কেন্দ্রের নিচু তলার পরিকাঠামো ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।” তবে তিনি জানান, হামলার পর আশপাশে কোনও রকম তেজস্ক্রিয় বিকিরণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ মেলেনি। এটি আপাতভাবে স্বস্তিদায়ক।
স্যাটেলাইট ছবিতেও ধরা পড়েছে এই ধ্বংসস্তূপের চিহ্ন। এক আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থার হাতে থাকা উপগ্রহচিত্র বলছে, ফোর্ডোর ভেতরের অনেক অংশই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক সেন্ট্রিফিউজ মেশিনগুলিও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। যদিও সরকারিভাবে ইরানের পক্ষ থেকে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু জানানো হয়নি।