সংগঠনের সরকারি প্রচারমাধ্যম আমাক নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে হামলাকারীর নাম জানানো হয়েছে সইফুল্লা আনসারি। ঘটনায় অসংখ্য মানুষের মৃত্যু ও আহত হওয়ার খবর মিলেছে। নিহতের সংখ্যা ১০০ ছুঁতে পারে।
.jpeg.webp)
বিবৃতিতে হামলাকারীর নাম জানানো হয়েছে সইফুল্লা আনসারি।
শেষ আপডেট: 7 February 2026 10:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার, জুম্মার নমাজ চলাকালীন পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট পাকিস্তান প্রভিন্স (ISPP)। সংগঠনের সরকারি প্রচারমাধ্যম আমাক নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে হামলাকারীর নাম জানানো হয়েছে সইফুল্লা আনসারি। ঘটনায় অসংখ্য মানুষের মৃত্যু ও আহত হওয়ার খবর মিলেছে। নিহতের সংখ্যা ১০০ ছুঁতে পারে। ঘটনার পর থেকেই ইসলামাবাদে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং তদন্ত চালাচ্ছে পাক নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।
আইএসপিপি-র দাবি অনুযায়ী, ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদকে লক্ষ্য করেই আত্মঘাতী হামলাটি চালায় সইফুল্লা আনসারি। সংগঠনটি এই হামলাকে তাদের তথাকথিত ‘ধর্মীয় শত্রুদের’ বিরুদ্ধে অভিযানের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে পাক প্রশাসন এখনও পর্যন্ত হামলাকারীর পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করে নিশ্চিত করেনি। নিরাপত্তা সংস্থার বক্তব্য, হামলার ধরন ইসলামিক স্টেট-ঘনিষ্ঠ জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির চেনা ছকের সঙ্গে মিলে যায়। আত্মঘাতী পোশাকের ব্যবহার এবং স্পষ্টতই সংখ্যালঘু শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষই লক্ষ্যবস্তু ছিল। এই ঘটনার ফলে ফের পাকিস্তানের শহরাঞ্চলে জঙ্গি হুমকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ল। হামলার পর থেকেই ইসলামাবাদে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে।
ইসলামিক স্টেট পাকিস্তান প্রভিন্স বা ISPP হল ইসলামিক স্টেটের পাকিস্তান শাখা। ২০১৯ সালের মে মাসে আমাক নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে এই গোষ্ঠী। ইসলামিক স্টেট–খোরাসান গোষ্ঠী (ISKP) থেকে বিভাজনের ফলেই আইএসপিপির জন্ম। বিভাজনের পর আইএসকেপি মূলত খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে সক্রিয় থাকলেও, আইএসপিপি ধীরে ধীরে দেশের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
আইএসপিপির সক্রিয়তা মূলত পাক পাঞ্জাব, বালুচিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীর জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। পাশাপাশি ইরানের সিস্তান ও বালুচেস্তান প্রদেশেও তাদের ঘাঁটির খবর রয়েছে। আইএসজেকে নামের একটি গোষ্ঠী থেকে আইএসপিপি আলাদা এবং তারা একাধিকবার নির্দিষ্ট নিশানা করে খুন ও বোমা হামলার ক্ষমতা দেখিয়েছে। সংগঠন গঠনের কিছুদিনের মধ্যেই মাস্তাং ও কোয়েটায় হামলার দায় নিয়েছিল তারা।
শিয়া হাজারা শরণার্থীদের উপর হামলার সঙ্গেও আইএসপিপির নাম জড়িয়েছে, যা তাদের স্পষ্ট ধর্মীয় শত্রুতার চরিত্র তুলে ধরে। প্রাথমিক পর্যায়ের হামলার পর পাক পাঞ্জাব সরকার সংগঠনটির বিরুদ্ধে কড়া সন্ত্রাসদমন ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, বড় ছাতার সংগঠনের তুলনায় আইএসপিপির স্বাধীন কাঠামো তাদের শনাক্ত করা আরও কঠিন করে তুলেছে।
এর আগে ২০২৪ সালে সিবি শহরের বোমা হামলা এবং একই বছরে বালুচিস্তানের একাধিক বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছিল আইএসপিপি। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পাকিস্তানি নিরাপত্তাকর্মীদের বহনকারী একটি বাসে হামলার দাবি তোলে তারা। সেই ঘটনায় তিন সেনার মৃত্যু ও কুড়িজনের বেশি আহত হয়। এই হামলাকে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হয়।
ইসলামাবাদের সাম্প্রতিক বিস্ফোরণও আইএসপিপির সেই ধারাবাহিক কৌশলেরই অংশ। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংগঠনটি ইদানীং বেশি করে আত্মঘাতী হামলা চালাচ্ছে। যাতে দেশের অভ্যন্তরে প্রভাব ও আন্তর্জাতিক প্রচার ও দৃষ্টি আকর্ষণ সবই হয়। তাদের প্রচার বার্তায় প্রায়শই সাম্প্রদায়িক ও ভূ-রাজনৈতিক শত্রুতার কথা তুলে ধরা হয়।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী-সহ নিরাপত্তা বাহিনী গোটা দেশে গোয়েন্দা-নির্ভর অভিযান জোরদার করেছে। প্রশাসনের দাবি, প্রদেশগুলির মধ্যে সমন্বয় করে সম্ভাব্য পরবর্তী হামলা ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি সীমান্তপারের যোগাযোগ ও প্রভাব খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
আইএসপিপির দায় স্বীকার নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—কীভাবে ইসলামাবাদের মতো কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় হামলা চালাতে পারল জঙ্গিরা। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বড় শহরগুলিতে ঘুমন্ত জঙ্গি কোষ সক্রিয় থাকলে সাম্প্রদায়িক হিংসা আরও বাড়তে পারে। এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন গোটা অঞ্চলে নানা জঙ্গি নেটওয়ার্কের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ তুঙ্গে।
প্রশাসন সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ করেছে এবং জানিয়েছে, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চলবে। আইএসপিপির দেওয়া সাইফুল্লাহ আনসারির নামকে আপাতত তাদের প্রচার কৌশলের অংশ হিসেবেই দেখছে সরকার। ফরেনসিক ও গোয়েন্দা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই তথ্যকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে মানতে নারাজ কর্তৃপক্ষ।