Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অন্ধকারে কিউবা, লাতিন আমেরিকার এই দেশটিও গ্রাস করতে ট্রাম্পের ‘মাস্টারপ্ল্যান’ কী?

এক সপ্তাহের মধ্যেই দ্বিতীয়বার অন্ধকারে ডুবে গেল কিউবা (Cuba Blackout)। প্রায় এক কোটি মানুষের জীবন থমকে দাঁড়াল বিদ্যুৎহীনতায়। যে বিপর্যয় কোনও প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা নয়—আন্তর্জাতিক রাজনীতির নির্মম বাস্তব। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) নীতিই এই সংকটকে চরমে ঠেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে।

অন্ধকারে কিউবা, লাতিন আমেরিকার এই দেশটিও গ্রাস করতে ট্রাম্পের ‘মাস্টারপ্ল্যান’ কী?

অর্পিতা দাশগুপ্ত

শেষ আপডেট: 22 March 2026 15:50

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক সপ্তাহের মধ্যেই দ্বিতীয়বার অন্ধকারে ডুবে গেল কিউবা (Cuba Blackout)। প্রায় এক কোটি মানুষের জীবন থমকে দাঁড়াল বিদ্যুৎহীনতায়। যে বিপর্যয় কোনও প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা নয়—আন্তর্জাতিক রাজনীতির নির্মম বাস্তব। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) নীতিই এই সংকটকে চরমে ঠেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যেই বলেছেন, কিউবাকে ‘দখল’ করার ‘শিরোপা’ পেতে পারেন তিনি। এমনকি তিনি এও বলেন, ‘আমি যা চাই তাই করতে পারি’।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য নিয়ে ছিঃ ছিঃ পড়ে গেছে। অনেকের মতে, এটা শুধু কূটনৈতিক শিষ্টাচার ভঙ্গ নয়, বরং একটি স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত।  ট্রাম্পের এই মনোভাবকে অনেকেই ঔপনিবেশিক মানসিকতার পুনরুত্থান বলে ব্যাখ্যা করছেন—যেখানে একটি শক্তিধর দেশ দুর্বল রাষ্ট্রের সংকটকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে।

শনিবার রাতে বস্তুত কিউবার জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। বিদ্যুৎ মন্ত্রক জানায়, “ন্যাশনাল ইলেকট্রিক সিস্টেম সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে”—ফলে গোটা দ্বীপ অন্ধকারে ডুবে যায়। 
এর আগে সপ্তাহের শুরুতেই একবার একই রকম সর্বাত্মক ব্ল্যাকআউট হয়েছিল। অর্থাৎ মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার এই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হল।

কিউবার বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সবচেয়ে বড় কারণ জ্বালানির তীব্র ঘাটতি। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণেই এই চরম দুর্ভোগ। ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবার জ্বালানি সরবরাহ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। শুধু তা নয়, অন্য দেশগুলিকেও তেল না দিতে চাপ দিচ্ছে আমেরিকা। ফলে কিউবা এখন নিজের চাহিদার মাত্র ৪০% জ্বালানি উৎপাদন করতে পারছে। জ্বালানি না পাওয়ায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো একের পর এক অচল হয়ে পড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে।

রাষ্ট্রসঙ্ঘের পর্যবেক্ষণেও উঠে এসেছে এই সংকটের কথা। এই জ্বালানি সংকট শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়—খাদ্য সরবরাহ, হাসপাতালের পরিষেবা, পানীয় জল—সব কিছুতেই ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে।

ব্ল্যাকআউটের ফলে কিউবার শহর ও গ্রাম—সব জায়গাতেই জীবন কার্যত স্তব্ধ। হাসপাতালের পরিষেবা ব্যাহত, স্কুল-কলেজ বন্ধ, খাবার সংরক্ষণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে, এমনকি কৃষকরা বাজারে পণ্য পৌঁছতে পারছেন না। অনেক জায়গায় দিনে ১২ থেকে ৪০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। হাভানার রাস্তায় মানুষকে টর্চ, মোমবাতির আলোয় চলাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে—যা একবিংশ শতাব্দীতে কার্যত এক মানবিক বিপর্যয়ের ছবি।

ওয়াশিংটনের দাবি—কিউবার উপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তা তাদের ভালোর জন্যই। এই নিষেধাজ্ঞা কিউবায় রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটাবে। কিন্তু ঘটনা হল, বাস্তবে এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছেন, এই পরিস্থিতি “বাহ্যিক আগ্রাসন”-এর ফল, তাই দেশকে সম্ভাব্য আক্রমণের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেই কিউবাকে ভবিষ্যতে “মার্কিন ভূখণ্ড” বানানোর আলোচনা শুরু হয়েছে—যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। একদিকে কিউবা অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের আগ্রাসী মন্তব্য—এই দুই মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক জটিল আন্তর্জাতিক সংকট।

সমালোচকদের মতে, ট্রাম্পের নীতি কিউবার সরকারকে নয়, বরং সাধারণ মানুষকে শাস্তি দিচ্ছে। জ্বালানি বন্ধ করে একটি দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া—এটি কার্যত ‘ইকোনমিক ওয়ারফেয়ার’-এরই সামিল। প্রশ্ন উঠছে—একবিংশ শতাব্দীতে আন্তর্জাতিক রাজনীতি কি এখনও শক্তির প্রদর্শনেই আটকে থাকবে? নাকি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিই হবে প্রধান? কিউবার অন্ধকার যেন সেই প্রশ্নটাই নতুন করে সামনে এনে দিল।


```