মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের যুদ্ধবিরতির (Iran US ceasefire) এই 'নাজুক' সময়টা এখন কূটনীতির জন্য এক বিরল সুযোগ। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগাতেই ওয়াশিংটন (Washington) যেন একটু বেশি ব্যস্ত হয়ে উঠেছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 9 April 2026 23:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির (Iran US ceasefire) পর দু'সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালী (Hormuz Pronali) খোলার ঘোষণা করেছিল ইরান (Iran)। আশা করা হয়েছিল, এবার হয়তো জ্বালানি পরিবহণ সহজ হবে। কিন্তু দু'দিনের মধ্যেই চাপল নতুন নিয়ম। এবার থেকে দিনে ক'টা জাহাজ পারাপার করতে পারবে, সেই সংখ্যা বেঁধে দিল তেহরান।
রাশিয়ান সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে প্রতিদিন সর্বাধিক ১৫টি জাহাজই পারাপার হতে পারবে। প্রতিটি জাহাজকে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর অনুমোদন নিতে হবে। প্রতিটি পারাপারের জন্য নির্দিষ্ট প্রোটোকল মানতেই হবে। তবে ভারত-সহ অন্যান্য 'বন্ধু' দেশকে এই একই নিয়ম মানতে হবে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।
জানা গিয়েছে, ইসলামাবাদে (Islamabad) শান্তি-আলোচনার (Iran US Peace Talk) আগই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এমনকি ইরান এই দুটি শর্ত যোগ করেছিল যে দৈনিক জাহাজ সংখ্যা সীমিত করা এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে (US) ইরানের জমা থাকা অর্থ বা সম্পদ ফিরিয়ে দিতে হবে।"
এই সময়ে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি একটি ক্ষীণ ভারসাম্যের ওপর দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে, ইজরায়েল বেইরুটে বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে, যা লেবাননে সবচেয়ে প্রাণঘাতী দিন হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। যদিও তারপরই লেবাননের সঙ্গে আলোচনায় রাজি হয়েছেন ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, হরমুজ প্রণালীতে (Hormuz Pronali) জাহাজ চলাচল কবে স্বাভাবিক হবে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ কী হবে এবং ইরানের রকেট ও আঞ্চলিক সহযোগী গোষ্ঠীর ক্ষমতার উপর এর প্রভাব কী হবে।
এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের যুদ্ধবিরতির (Iran US ceasefire) এই 'নাজুক' সময়টা এখন কূটনীতির জন্য এক বিরল সুযোগ। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগাতেই ওয়াশিংটন (Washington) যেন একটু বেশি ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী (Hormuz Pronali) যেন আর বেশি দিন অচল না থাকে, এ জন্যই আমেরিকা এখন ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
হরমুজ (Hormuz Pronali) প্রায় বন্ধ। তেল-গ্যাসের পরিবহন ব্যাহত। দাম ওঠানামা করছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসনের সাফ বার্তা, শুধু সমর্থনের কথা বললেই হবে না, এবার কাজের পরিকল্পনা চাই।
ট্রুথ সোশ্যালে ক্ষোভ উগরে ট্রাম্প লেখেন, “চাপ না দিলে নেটো কিছুই বোঝে না!” তাঁর মতে, মিত্ররা শুধু কথা বলে, কিন্তু দায়িত্ব নেয় না।"
এই ইস্যুতে ন্যাটোর মধ্যেও তৈরি হয়েছে অস্বস্তি। ইউরোপের অনেক দেশ আমেরিকার ইরানবিরোধী সামরিক পদক্ষেপে যোগ দিতে অস্বীকার করেছে। হরমুজ নিয়েও তারা সতর্ক ছিল, যুদ্ধ থামার পরেই পদক্ষেপ নিতে চাইছিল।
ট্রাম্প সেই ‘দ্বিধা’ একদমই পছন্দ করছেন না। ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি লিখেছেন, "আমাদের যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখন ন্যাটো ছিল না। ভবিষ্যতেও তারা আমাদের বিপদে পাশে থাকবে না।"