ন্যাটোর (NATO) এক মুখপাত্র জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকা তার ইউরোপীয় অংশীদারদের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে একটা স্পষ্ট পরিকল্পনা জমা দিতে বলেছে। তারা কীভাবে হরমুজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। হোয়াইট হাউস, প্রতিরক্ষা দফতর ও স্টেট ডিপার্টমেন্টে শীর্ষ বৈঠকগুলোতেই এই দাবি তোলা হয়েছে।
.jpeg.webp)
ডোনাল্ড ট্রাম্প (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 9 April 2026 22:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের যুদ্ধবিরতির (Iran US ceasefire) এই 'নাজুক' সময়টা এখন কূটনীতির জন্য এক বিরল সুযোগ। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগাতেই ওয়াশিংটন (Washington) যেন একটু বেশি ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী (Hormuz Pronali) যেন আর বেশি দিন অচল না থাকে, এ জন্যই আমেরিকা এখন ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
হরমুজ (Hormuz Pronali) প্রায় বন্ধ। তেল-গ্যাসের পরিবহন ব্যাহত। দাম ওঠানামা করছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসনের সাফ বার্তা, শুধু সমর্থনের কথা বললেই হবে না, এবার কাজের পরিকল্পনা চাই।
ন্যাটোর (NATO) এক মুখপাত্র জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকা তার ইউরোপীয় অংশীদারদের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে একটা স্পষ্ট পরিকল্পনা জমা দিতে বলেছে। তারা কীভাবে হরমুজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। হোয়াইট হাউস, প্রতিরক্ষা দফতর ও স্টেট ডিপার্টমেন্টে শীর্ষ বৈঠকগুলোতেই এই দাবি তোলা হয়েছে। ন্যাটো সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুটে নিজেও ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর বিভিন্ন রাজধানীতে এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন।
এদিকে ট্রুথ সোশ্যালে ক্ষোভ উগরে ট্রাম্প লেখেন, “চাপ না দিলে নেটো কিছুই বোঝে না!” তাঁর মতে, মিত্ররা শুধু কথা বলে, কিন্তু দায়িত্ব নেয় না।"
এরই মধ্যে ব্রিটেনের নেতৃত্বে ৪০টিরও বেশি দেশ হরমুজ খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিলেও, বাস্তব পরিস্থিতি তেমন বদলায়নি। ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও হামলা পুরোপুরি থামেনি। ইরান বলছে, লেবাননে ইজরায়েলের বোমাবর্ষণ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে, যা পুরো চুক্তিকে ঝুঁকিতে ফেলছে। ফলে প্রণালীতে এখনও স্বাভাবিক যাতায়াত শুরু হয়নি।
তাইই আমেরিকার তাড়াহুড়ো- যদি যুদ্ধবিরতি টিকে থাকে, তবে যেন আর দেরি না হয়, জাহাজ চলাচল দ্রুত শুরু করতে হবে।
ন্যাটো–আমেরিকা টানাপড়েন
এই ইস্যুতে ন্যাটোর মধ্যেও তৈরি হয়েছে অস্বস্তি। ইউরোপের অনেক দেশ আমেরিকার ইরানবিরোধী সামরিক পদক্ষেপে যোগ দিতে অস্বীকার করেছে। হরমুজ নিয়েও তারা সতর্ক ছিল, যুদ্ধ থামার পরেই পদক্ষেপ নিতে চাইছিল।
ট্রাম্প সেই ‘দ্বিধা’ একদমই পছন্দ করছেন না। ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি লিখেছেন, "আমাদের যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখন ন্যাটো ছিল না। ভবিষ্যতেও তারা আমাদের বিপদে পাশে থাকবে না।"
এরই মধ্যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসছেন, স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে। সবকিছু এখন নির্ভর করছে একটি প্রশ্নে, যুদ্ধবিরতি টিকবে তো? আর ইউরোপ কত দ্রুত সাড়া দেবে? হরমুজ এখনও চাপের কেন্দ্র, এবং বিশ্ব তাকিয়ে আছে এই কূটনৈতিক দৌড়ের দিকে।