বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে সিদ্ধান্ত এখন কী পর্যায়ে রয়েছে, সেটা এখনও ঠিক পরিষ্কার নয়। তার মধ্যেই এমন নির্দেশিকা এবং সতর্কতা সামনে এসেছে ইরানের তরফে।

শেষ আপডেট: 9 April 2026 09:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মাঝেই হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করল ইরান। গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন নৌ-নির্দেশিকা জারি করে তেহরান জানিয়ে দিয়েছে - কিছু এলাকায় সমুদ্রে পাতা মাইন বিস্ফোরণের ঝুঁকি রয়েছে, তাই নির্দিষ্ট বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হবে।
ইরানের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির শর্ত ভেঙেছে লেবাননে হিজবোল্লার ঘাঁটিতে ইজরায়েল হামলা চালিয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে ইরান জানায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল “সম্পূর্ণ বন্ধ” থাকবে। যদিও প্রথমে দু’টি জাহাজকে পার হতে দেওয়া হয়েছিল, পরে সেই সিদ্ধান্ত বদলে দেয় তেহরান।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী, যার মাধ্যমে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বৈশ্বিক তেল সরবরাহ হয়, নিয়ে সিদ্ধান্ত এখন কী পর্যায়ে রয়েছে, সেটা এখনও ঠিক পরিষ্কার নয়। তার মধ্যেই এমন নির্দেশিকা এবং সতর্কতা সামনে এসেছে ইরানের তরফে।
মাইন আতঙ্কে নতুন নৌপথ
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও AFP-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের শক্তিশালী বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি কর্পস জানিয়েছে, জাহাজগুলিকে নতুন নির্ধারিত ট্রাফিক প্যাটার্ন মেনে চলতে হবে।
এই নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য, সমুদ্র মাইনের সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানো এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। নির্দিষ্ট প্রবেশ ও প্রস্থান করিডরও চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে, যাতে জাহাজগুলি বিপজ্জনক অঞ্চল এড়িয়ে চলতে পারে।
কীভাবে চলবে জাহাজ?
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওমান সাগর দিক থেকে প্রবেশকারী জাহাজগুলিকে প্রথমে লারাক দ্বীপের উত্তরের দিক দিয়ে যেতে হবে, তারপর উপসাগরে ঢুকতে হবে। আর উপসাগর থেকে বেরনো জাহাজগুলিকে লারাক দ্বীপের দক্ষিণ দিক দিয়ে নির্দিষ্ট রুট ধরে ওমান সাগরের দিকে যেতে বলা হয়েছে।
এই রুটগুলি এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলি এড়ানো যায়।
যুদ্ধবিরতি, তবু সতর্কতা
মঙ্গলবারই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তিতে মধ্যস্থতা করেছে পাকিস্তান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল, ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহণে বাধা দেবে না।
রয়টার্স সূত্রে জানা গিয়েছে, ইরানের তত্ত্বাবধানে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ আংশিকভাবে শুক্রবারের মধ্যে খুলে দেওয়া হতে পারে।
টোল বসানোর ভাবনা?
ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের উপর চার্জ বা টোল বসানো হতে পারে। এই প্রণালীটি ইরান ও ওমানের মধ্যে অবস্থিত মাত্র ৩৪ কিলোমিটার চওড়া একটি সংকীর্ণ জলপথ, কিন্তু বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
তবে এই প্রস্তাব নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কিছু রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওমান এই টোল ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছে। আবার অন্য সূত্রে দাবি, ইতিমধ্যেই কোনও না কোনওভাবে ফি নেওয়া শুরু হয়েছে। এমনকি ট্রাম্প নিজেও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজগুলির উপর যৌথভাবে ট্রানজিট চার্জ বসানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে।
প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতের আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হত। ফলে এই জলপথে সামান্য বিঘ্নও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, মাইন আতঙ্ক, নতুন রুট, এবং সম্ভাব্য টোল - সব মিলিয়ে হরমুজ ঘিরে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি।