Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনের

ট্রাম্পকে শেষ করার হুমকি দিয়েছিলেন! নিহত সেই ইরানি নিরাপত্তা প্রধান, মাথার দাম ঘোষণা করেছিল আমেরিকা

তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রী, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থার প্রধান, সংসদের স্পিকার-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

ট্রাম্পকে শেষ করার হুমকি দিয়েছিলেন! নিহত সেই ইরানি নিরাপত্তা প্রধান, মাথার দাম ঘোষণা করেছিল আমেরিকা

নিহত আলি লারিজানি

অর্পিতা দাশগুপ্ত

শেষ আপডেট: 18 March 2026 10:23

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাতের (Iran US Israel War) আবহে আরও এক বড় ধাক্কা খেল তেহরান। ইজরায়েলের হামলায় (Israeli Attack) ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ আলি লারিজানি (Ali Larijani) নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির সরকার-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম (Iranian Media)। একই হামলায় তাঁর ছেলে মোর্তেজা লারিজানি (Morteza Larijani) এবং তাঁর নিরাপত্তা দলের প্রধানও মারা গিয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বিমান হামলাতেই এই মৃত্যু হয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করার পর তিনি ‘শহিদের মর্যাদা’ অর্জন করেছেন।

ইরানি সংবাদমাধ্যমে আরও এক শীর্ষ কর্তা গোলাম রেজা সোলেইমানির (Gholam Reza Soleimani) মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে। অন্যদিকে, ইজরায়েল দাবি করেছে, ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) পরিকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হামলায় এই দুই নেতাকে নিশানা করা হয়েছিল।

কে ছিলেন আলি লারিজানি?

আলি লারিজানি (Ali Larijani) ইরানের রাজনীতির অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব (Secretary of Iran’s Supreme National Security Council) হিসেবে তিনি দেশের নিরাপত্তা ও কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতেন।

তিনি এমন এক রাজনৈতিক পরিবারে জন্মেছিলেন, যাদের অনেকেই ইরানের প্রশাসন ও বিচার ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। তাঁর পরিবারকে অনেক সময় ‘ইরানের কেনেডি পরিবার’-এর সঙ্গেও তুলনা করা হত।

লারিজানির রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগও ছিল শক্তিশালী। তিনি ইরানের বিপ্লবের অন্যতম নেতা রুহওল্লা খোমেনেইর (Ruhollah Khomeini) ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোর্তেজা মোতাহহারির মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন।

শুধু রাজনীতি নয়, পড়াশোনাতেও তিনি ছিলেন এগিয়ে। গণিত ও কম্পিউটার সায়েন্সে পড়াশোনা করার পর তিনি পাশ্চাত্য দর্শন, বিশেষ করে ইমানুয়েল কান্তের (Immanuel Kant) দর্শন নিয়ে গবেষণা করেন।

তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রী, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থার প্রধান, সংসদের স্পিকার-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

২০২৫ সালে আবার সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান লারিজানি। দেশের রাজনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় রক্ষায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতেন।

এই হামলায় লারিজানির মৃত্যু ইরানের রাজনীতিতে বড় শূন্যতা তৈরি করল বলেই মনে করা হচ্ছে। চলতি সংঘাতের মধ্যে এই ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইজরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইর নিহত (Khamenei death) হওয়ার পর 'শত্রু' দেশগুলিকে একের পর এক হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন আলি লারিজানি। দেশের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেইকে টার্গেট করার ট্রাম্পের (US President Donald Trump) হুমকিতে লারিজানি বলেছিলেন, 'আপনার থেকে বড় বড়রাও ইরানের কিছু করতে পারেনি। আপনি নিজের কথা ভাবুন। হতে পারে আপনিই নির্মূল হয়ে গেলেন।'

তিনি কেবল ট্রাম্পকে হুমকি দিয়েই ক্ষান্ত হননি, ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলিকেও কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। "দেশগুলি নিজেদের মাটি ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার হাতে ব্যবহার হওয়া থেকে আটাক, নয়তো ইরান নিজেই ব্যবস্থা নেবে।," জীবিতকালে সর্বশক্তি দিয়ে ইরানকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন নিরাপত্তা প্রধান।

কিছুদিন আগেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই-সহ (Mojtaba Khamenei) দেশের প্রশাসনের শীর্ষ ১০ জন কর্মকর্তার ছবি প্রকাশ করে তাঁদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছিল আমেরিকা। সেই তালিকার একেবারে উপরের দিকেই ছিলেন ইরানের নিরাপত্তা উপদেষ্টা। তাহলে কি সেই তালিকা ধরে ধরেই লক্ষ্যপূরণের অভিযান করছে আমেরিকা-ইজরায়েল, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা বাড়ছে।


```