ইরানে ডিসেম্বরে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভের মূল কারণ মুদ্রাস্ফীতি ও ভেঙে পড়া অর্থনীতি। বহু বিশ্লেষকের মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটাই ইরানের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী অস্থিরতা। সর্বোচ্চ নেতা খামেনেই সরাসরি পশ্চিম, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেছেন।

ট্রাম্প-খামেনেই
শেষ আপডেট: 19 January 2026 09:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যুক্তরাষ্ট্রের (United States) সঙ্গে ক্রমবর্ধমান টানাপড়েন, তার মধ্যে দেশজুড়ে ভয়াবহ বিক্ষোভ ও রক্তক্ষয়, এই পরিস্থিতিতে ইরানের (Iran) সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে (Ayatollah Ali Khamenei) লক্ষ্য করে কোনও হামলা হলে তা ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে ধরা হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিল তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (Masoud Pezeshkian) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের সর্বোচ্চ নেতার উপর আঘাত মানেই গোটা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা।
এক্স (X)-এ করা পোস্টে পেজেশকিয়ান লেখেন, ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনও ‘অন্যায় আগ্রাসনে’র জবাব হবে কঠোর ও অনুশোচনাযোগ্য। সর্বোচ্চ নেতাকে টার্গেট করা মানে ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ঘারেই ইরানের অর্থনৈতিক দুরবস্থার দায় ঠেলে দেন। দীর্ঘদিনের শত্রুতা ও ‘অমানবিক নিষেধাজ্ঞা’ সাধারণ ইরানিদের দুর্দশার মূল কারণ বলে দাবি করেন।
এই মন্তব্যের সূত্রপাত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) বক্তব্য ঘিরে। ট্রাম্প আগেই সতর্ক করেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা বা ফাঁসি চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারে। পলিটিকোকে (Politico) দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ইরানের নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে।” তাঁর অভিযোগ, তেহরানের শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতায় টিকে থাকতে দমন-পীড়ন আর হিংসার উপর নির্ভর করছে। দেশের নেতারা হাজার হাজার মানুষকে মেরে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছেন, এমন নজির আগে দেখা যায়নি।
অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চলছিল, হঠাৎ শুক্রবার আচমকা সুর বদলান ট্রাম্প। ৮০০-র বেশি বন্দির নির্ধারিত ফাঁসি বাতিল করায় ইরানি প্রশাসনের প্রকাশ্যে প্রশংসা করেন তিনি। হোয়াইট হাউসের (White House) সাউথ লন থেকে ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো (Mar-a-Lago) যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, 'এই সিদ্ধান্তের বড় প্রভাব পড়েছে।' এতে পরিস্থিতি কিছুটা ঠান্ডা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন।
তবে, শীর্ষ এক ইরানি কর্মকর্তার বক্তব্য, চলমান অশান্তিতে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৫,০০০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৫০০ জন নিরাপত্তারক্ষী। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি উত্তর-পশ্চিম ইরানের কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলে, যেখানে কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষে উত্তেজনা তুঙ্গে।
ইরানে ডিসেম্বরে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভের মূল কারণ মুদ্রাস্ফীতি ও ভেঙে পড়া অর্থনীতি। বহু বিশ্লেষকের মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের (Islamic Revolution) পর এটাই ইরানের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী অস্থিরতা। সর্বোচ্চ নেতা খামেনেই সরাসরি পশ্চিম, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেছেন। শনিবারের ভাষণে তিনি ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, ‘বিদ্রোহীদের’ উস্কে দেওয়া হচ্ছে। মার্কিন ‘ফুট সোলজার’রা মসজিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করছে। এক সংবাদ সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে খামেনেই বলেন, 'মার্কিন প্রেসিডেন্টের কারণে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ গিয়েছে।'