দু’সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতির (Iran US ceasfire) পর শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দিতে চাইছে ইরান। এখানেই দেখা দিয়েছে বড় সমস্যা।

হরমুজ প্রণালী (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 11 April 2026 16:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যে (Middle East tension) উত্তেজনার আবহে এক অদ্ভুত সমস্যায় পড়েছে ইরান। হরমুজ প্রণালী (Hormuz Pronali) বন্ধ করতে নিজেরাই যে মাইন পেতেছিল, এখন সেই মাইনই যেন ‘বুমেরাং’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রণালী খুলে দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও বাস্তবে তা করতে পারছে না তেহরান। কারণ, নিজেদের পাতা মাইনই (Mines) খুঁজে পাচ্ছে না তারা। এই পরিস্থিতি ইরানের জন্য বড় কূটনৈতিক ও কৌশলগত অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে।
আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার (US Israel strikes) পর পাল্টা জবাব দিতে গিয়েই হরমুজ প্রণালী (Hormuz Pronali) অবরুদ্ধ করার পরিকল্পনা নেয় ইরান। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ এই প্রণালীতে মাইন পেতে দেয় ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড (Revolutionary Guard)। ছোট নৌকা ব্যবহার করে জলের নীচে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বিস্ফোরক মাইন। তবে পুরো পথ বন্ধ না করে একটি নির্দিষ্ট করিডর খোলা রাখা হয়েছিল, যার মাধ্যমে ইরানের অনুমতি নিয়ে কিছু পণ্যবাহী জাহাজ এখনও চলাচল করছে।
কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। দু’সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতির (Iran US ceasfire) পর শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দিতে চাইছে ইরান। এখানেই দেখা দিয়েছে বড় সমস্যা। মার্কিন আধিকারিকদের দাবি, ইরান ঠিক কোথায় কোথায় মাইন পেতেছে, তার সঠিক হিসাব তাদের কাছে নেই। ফলে সেগুলি চিহ্নিত করে সরানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
শুধু তাই নয়, মাইন পোঁতার সময় সঠিক রেকর্ড না রাখার ফলেও জটিলতা বেড়েছে। সমুদ্রের স্রোতে অনেক মাইন জায়গা বদলেছে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। এমনকি এই বিপজ্জনক বিস্ফোরকগুলিকে নজরে রাখার মতো পর্যাপ্ত প্রযুক্তি বা ব্যবস্থা ইরানের নেই বলেও অভিযোগ। ফলে হরমুজ পুরোপুরি নিরাপদ করে তোলা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে শনিবারের ইরান-আমেরিকা শান্তি বৈঠক। ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পৌঁছেছে ইরানের প্রায় ৭০ জনের প্রতিনিধি দল। নেতৃত্বে রয়েছেন বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ। তাদের সঙ্গে অর্থনীতি, নিরাপত্তা, রাজনীতি ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরাও রয়েছেন।
অন্যদিকে, আমেরিকার তরফেও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকছেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) জামাই জ্যারেড কুশনার এই বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন। আলোচনার আগে আমেরিকার কাছে কিছু শর্তও রেখেছে তেহরান।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালী (Hormuz Pronali) ঘিরে এই জটিল পরিস্থিতি শুধু ইরান নয়, গোটা বিশ্বের বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারের উপরেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।