এই দাবি সত্যি হলে, চলমান সংঘাতে আমেরিকার অন্তত ছ’টি যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়ার ঘটনা ঘটল বলে ধরে নেওয়া হবে (US Iran air conflict)।

প্রমাণ হিসেবে একটি ভিডিও পোস্ট করেছে ইরানের সংবাদমাধ্যম।
শেষ আপডেট: 22 March 2026 17:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালী খোলা নিয়ে ডেডলাইনের পরই কড়া পদক্ষেপ ইরানের। হরমুজের কাছে কাছে ‘শত্রুপক্ষে’র একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করল তেহরান (Iran shoots down F-15)। শুধু তাই নয়, প্রমাণ হিসেবে একটি ভিডিও পোস্ট করেছে ইরানের সংবাদমাধ্যম।
রবিবার ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, দেশের দক্ষিণ উপকূল এবং হরমুজ দ্বীপের কাছে একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান (F-15 fighter jet) তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাহায্যে ধ্বংস করা হয়েছে। এই দাবি সত্যি হলে, চলমান সংঘাতে আমেরিকার অন্তত ছ’টি যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়ার ঘটনা ঘটল বলে ধরে নেওয়া হবে (US Iran air conflict)।
ইরানের সংবাদ সংস্থা Fars News Agency জানিয়েছে, অত্যাধুনিক এই যুদ্ধবিমানটিকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাহায্যে লক্ষ্যভেদ করা হয়েছে।
এই দাবির সমর্থনে একটি ভিডিও-ও প্রকাশ করেছে ইরানি মিডিয়া। সেখানে দেখা যাচ্ছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি যুদ্ধবিমানকে ‘লক’ করছে, যা F-15 বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এই ভিডিওর সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
#BREAKING
An enemy's F-15 fighter jet was shot down by Iranian air defense systems near Hormuz Island after being intercepted over the country’s southern coast. pic.twitter.com/jmrFuUQKbd— Tehran Times (@TehranTimes79) March 22, 2026
এখনও পর্যন্ত আমেরিকা বা তার মিত্র দেশগুলির পক্ষ থেকে এই ঘটনার কোনও নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। উল্লেখযোগ্য, আমেরিকা ছাড়াও সৌদি আরব, ইজরায়েল এবং কাতার - এই দেশগুলির কাছেও F-15 যুদ্ধবিমান রয়েছে।
এর কয়েকদিন আগেই ইরান দাবি করেছিল, তারা বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে একটি F-35 Lightning II যুদ্ধবিমান আঘাত করেছে। এই প্রসঙ্গে CNN-এর একটি রিপোর্টে মার্কিন প্রতিরক্ষা আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে জানানো হয়, একটি F-35 জরুরি অবতরণ করেছিল। পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে আসেন এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
চার সপ্তাহে চতুর্থ F-15 ঘটনা
বর্তমান মার্কিন-ইরান সংঘাতের চার সপ্তাহে এটি F-15 যুদ্ধবিমান সংক্রান্ত চতুর্থ ঘটনা।
১ মার্চ, তিনটি F-15E Strike Eagle বিমান আলাদা আলাদা ঘটনায় ভুলবশত ভূপাতিত হয়। মার্কিন সেনার CENTCOM জানিয়েছিল, কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী অপারেশনের সময় ভুল করে ওই বিমানগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করে ফেলে।
শুধু F-15 বা F-35 নয়, এর আগে একটি মার্কিন জ্বালানি ভরার বিমান KC-135 Stratotanker-ও দুর্ঘটনার শিকার হয়। মার্কিন সেনার দাবি, “অজ্ঞাত কারণে” দুটি বিমানের মধ্যে একটি ঘটনায় সেটি ভেঙে পড়ে, যদিও তা ‘বন্ধুসুলভ আকাশসীমা’-র মধ্যেই ঘটেছিল।
অন্যদিকে, ইরান আরও দাবি করেছে যে তারা দেশের মধ্যভাগে একটি F-16 fighter jet লক্ষ্য করে সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল নিক্ষেপ করেছে।
সব মিলিয়ে, আকাশপথে সংঘাতের মাত্রা দ্রুত বাড়ছে। তবে ইরানের একের পর এক দাবির সত্যতা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। আন্তর্জাতিক মহল এখন নজর রাখছে - এই তথ্যগুলো কতটা সত্যি, আর কতটা মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির কৌশল।