ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কাতারে একটি খাদ্য গুদামে আগুন ধরে যায় এবং আগুন ছড়িয়ে পাঁচটি বিল্ডিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোট ১৬ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।

কাতারে ইরান হামলা
শেষ আপডেট: 3 March 2026 07:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরবদুনিয়ায় ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকার সংঘাত (Iran-Israel-US Tension) দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। কয়েকদিন ধরে চলা এই হামলা-প্রতিহামলার পর এখন দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি সামরিক মোকাবিলা শুরু হয়েছে। মার্কিন বাহিনী (US Force) ইরানের সরকার (Iran Govt) ও সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে একের পর এক বিমান হামলা চালাচ্ছে। অপরদিকে ইরানও পাল্টা আঘাত হানছে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে (US military base)।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump) জানিয়ে দিয়েছেন, প্রয়োজনে আমেরিকা স্থলবাহিনী পাঠাতেও পিছপা হবে না। তাঁর দাবি, এই লড়াই দীর্ঘদিন চললেও ওয়াশিংটন প্রস্তুত। তবে ইরান বলেছে, তারা কোনও চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। একই সঙ্গে তেহরান জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইলে আলোচনায় বসতে তারা প্রস্তুত।
ইরান ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বন্ধের ঘোষণা করেছে। তেহরানের (Tehran) স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, "এই জলপথ দিয়ে কোনও জাহাজ যাওয়ার চেষ্টা করলে সেটিকে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হবে। বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ভিন্ন সুর শোনা গেল মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের (JD Vance) গলায়। তিনি জানান,আমেরিকা কোনওভাবেই ইরানের সঙ্গে বহু বছরের যুদ্ধে জড়াবে না। তবে তিনি এও বলেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের লক্ষ্য হল ইরানের কাছে থেকে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া। তাঁরা যেন অস্ত্র তৈরিও না করতে পারে।"
ভ্যান্স আরও বলেন, “ইরানের শাসন ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন না এলে এই সমস্যা শেষ হবে না। তবে আমরা ইরাক–আফগানিস্তানের মতো দীর্ঘ যুদ্ধ চাই না।”
সংঘাত আরও তীব্র হয় যখন ইরান কাতারের দিকে ৯২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৭টি ড্রোন ছোড়ে (Iran Qatar Missile Attack)। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নামানো গেলেও দু'টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আল উদেইদ মার্কিন বিমানঘাঁটিতে আঘাত হানে। এছাড়া একটি ড্রোন রাডার স্টেশন লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
তবে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কাতারে একটি খাদ্য গুদামে আগুন ধরে যায় এবং আগুন ছড়িয়ে পাঁচটি বিল্ডিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোট ১৬ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। কাতারের বিদেশ মন্ত্রক এই হামলাকে তাদের সার্বভৌমত্বের 'স্পষ্ট লঙ্ঘন' বলে নিন্দা করেছে। দেশটি জানিয়েছে, তাদের 'উপযুক্ত পাল্টা জবাব' দেওয়ার অধিকার আছে।