চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানকে সিএম-৩০২ সুপারসনিক অ্যান্টি-শিপ মিসাইল বিক্রির কোনও চুক্তি চিন চূড়ান্ত করেনি। এই ধরনের দাবি ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘ভ্রান্ত তথ্যের প্রচার’ বলেই অভিহিত করেছে বেজিং।

শেষ আপডেট: 2 March 2026 23:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে তীব্র সংঘাতের আবহে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, ইরান কি চিনের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে (Iran using China missiles claim)? চিনা সরকারি মাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ইরানের হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়েছে এবং নৌবাহিনীর কিছু জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সূত্র ধরেই শুরু হয় জল্পনা, তাহলে এই হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস কি বেজিং?
তবে সেই জল্পনাকে একেবারে নস্যাৎ করে দিয়েছে চিন।
চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানকে সিএম-৩০২ সুপারসনিক অ্যান্টি-শিপ মিসাইল (CM-302 missile Iran China) বিক্রির কোনও চুক্তি চিন চূড়ান্ত করেনি। এই ধরনের দাবি ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘ভ্রান্ত তথ্যের প্রচার’ বলেই অভিহিত করেছে বেজিং।
মাও নিং বলেন, “একটি দায়িত্বশীল শক্তিধর দেশ হিসেবে চিন সব সময় আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চিনকে জড়ানো বা ভুল তথ্য ছড়ানোর বিরোধিতা করি আমরা।” একইসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলি উত্তেজনা কমানোর পথ বেছে নেবে (Middle East conflict China reaction)।
সংঘাতের প্রেক্ষাপট
আরব দুনিয়ায় বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলের কাছে বিমানবাহী রণতরী-সহ একাধিক নৌবহর মোতায়েন করেছে। এই সামরিক অভিযানের লক্ষ্য ইরানের ওপর চাপ বাড়ানো।
এই পরিস্থিতিতে যদি ইরানের হাতে সত্যিই উন্নত অ্যান্টি-শিপ মিসাইল থাকে, তবে তা মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে, এমনটাই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
ইরান-চিন সম্পর্ক
ইরান ও চিনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বহুদিনের। বিশেষ করে জ্বালানি ক্ষেত্রে, ইরান চিনের অন্যতম বড় তেল সরবরাহকারী। ফলে এই সংঘাতে বেজিংয়ের ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-র মৃত্যুর পর চিন কি শুধু নিন্দাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখবে?
এখনও পর্যন্ত চিনের অবস্থান বেশ সতর্ক বলেই মনে করা হচ্ছে। এমনকি মার্কিন অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো গ্রেফতার হওয়া কিংবা খামেনেই হত্যার ঘটনাতেও বেজিং খুব বেশি আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
ট্রাম্প সফর ও কূটনৈতিক ভারসাম্য
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ৩১ মার্চ চিন সফরের কথা রয়েছে। তবে বর্তমান উত্তেজনার আবহে সেই সফর আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই প্রসঙ্গে মাও নিং জানিয়েছেন, দুই দেশের রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রয়েছে।
চিনের অবস্থান: যুদ্ধ নয়, সংলাপ
এক ইরানি সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে মাও নিং পুনরায় জানিয়ে দেন, চিন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বলপ্রয়োগ বা অন্য দেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপের বিরোধী।
তাঁর কথায়, “চিন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত, যাতে সংঘাত থামে, সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয় এবং আরব দুনিয়া-সহ গোটা বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।”