২১ জুন আমেরিকা সরাসরি ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষে মধ্যস্থতা করে। মধ্যরাতে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু কেন্দ্র, ফর্দো, নাতান্জ ও ইসফাহানে বিমান হামলা চালায়।

খামেনেই ও ট্রাম্প (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 26 June 2025 19:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১২ দিনের টানা সংঘর্ষের পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে ইরান-ইজরায়েলের মধ্যে। তারপরই প্রথমবার প্রকাশ্যে এলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে এক ভাষণে আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে খামেনেই জানালেন, 'আমরা জয় পেয়েছি। আমেরিকানদের মোক্ষম জবাব দেওয়া হয়েছে।'
খামেনেইর দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল মিলে যে আক্রমণ চালিয়েছিল, তাতে খুব একটা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি ইরানের। উলটে, ইরানই মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
ভাষণে তিনি ইরানের সকলকে আমেরিকার বিরুদ্ধে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানান। বলেন, 'আমেরিকা যুদ্ধ শুরু করেছিল শুধুমাত্র ইজরায়েলকে বাঁচানোর জন্য, কারণ ওরা জানত, না হলে ইজরায়েল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওরা কিছুই করতে পারেনি।'
এক্স-এ এদিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা পোস্ট করে লেখেন, 'আমরা আমেরিকানদের যোগ্য জবাব দিয়েছি। থাপ্পড় মারা হয়েছে। আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটি (কাতার) হামলা করেছি এবং নিশ্চিতভাবে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এটা একটা ঐতিহাসিক সাফল্য।' সেখানেই তিনি দাবি করেন, ভুয়ো ইহুদি শাসনের বিরুদ্ধে বিজয়। তার জন্য সকলকে অভিনন্দন। এত প্রচার, এত দাবি সত্ত্বেও ইজরায়েল ইসলামিক রিপাবলিক ইরানের আঘাতে বিধ্বংস্ত।
ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলিতে মার্কিন হামলা প্রসঙ্গেও খামেনেই মুখ খোলেন পোস্টে। বলেন, 'আমরা জানি, আমাদের পরমাণু কেন্দ্রে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু আমেরিকার তাতে কী। ওরা যা চেয়েছিল, তা করতে পারেনি। ট্রাম্প শুধু নাটক করতে জানে।' কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়ে দেন, যদি ভবিষ্যতে কেউ ইরানের দিকে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ করে, তার মাশুল গুনতে হবে। তাঁরাও আবার আঘাত হানবে।
উল্লেখ্য, ২১ জুন আমেরিকা সরাসরি ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষে মধ্যস্থতা করে। মধ্যরাতে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু কেন্দ্র, ফর্দো, নাতান্জ ও ইসফাহানে বিমান হামলা চালায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, এই হামলা ইরানের পরমাণু কর্মসূচি থামিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিয়েছে। যদিও খামেনেই কয়েক ঘণ্টা পরই জানিয়ে দেন, এতে ইরানের কিছুই হয়নি সেঅর্থে। এই আক্রমণ আদতে আমেরিকার জন্যই লজ্জা।
এদিকে গত এক সপ্তাহ ধরে খামেনেইকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তিনি বাঙ্কারে রয়েছেন। কোনওরকম যোগাযোগ তাঁর সঙ্গে বাইরের জগতের নেই। তিনি আদতে ইরানে আছেন কিনা সেই নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। জানা যাচ্ছে, তাঁকে নিরাপত্তা দিচ্ছে ইরানের অত্যন্ত গোপনীয় এলিট বাহিনী। খামেনেইয়ের সঙ্গে যাঁরা সর্বক্ষণ থাকতেন, তাঁরাও জানেন না তিনি কোথায়।
অন্যদিকে, খামেনেইয়ের ভাষণের কিছুক্ষণের মধ্যে আবার ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, 'শত্রুদের পরাজিত করতে আমরা ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করব।'