২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবের ‘শাজারেহ তয়্যিবেহ’ নামের একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দিনের আলোয় হামলা চালানো হয়। তখন স্কুলে পড়ুয়ারা উপস্থিত ছিল। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল বা বেসামরিক স্থাপনায় ইচ্ছাকৃত হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 27 March 2026 19:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ (Middle East War) এক মাস পেরোতেই নতুন করে উত্তেজনা বাড়াল ইরানের বিস্ফোরক অভিযোগ। একটি স্কুলে হামলাকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইজরায়েলের (US-Israel Attack On Iran) বিরুদ্ধে সরাসরি ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’-এর অভিযোগ তুললেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার পরিষদে ভার্চুয়াল ভাষণে তিনি দাবি করেন, দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা ছিল পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর অভিযোগ, ওই হামলায় ১৭৫ জনেরও বেশি পড়ুয়া ও শিক্ষক নিহত হয়েছেন।
আরাঘচির বক্তব্য, আমেরিকা ও ইজরায়েল নিজেদের অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তির কথা বলে। সেই প্রেক্ষিতে এত বড় একটি হামলাকে ‘ভুল’ বা ‘অসাবধানতা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না। তাঁর কথায়, “এই হামলা ইচ্ছাকৃত - এটা কোনও দুর্ঘটনা নয়।” তিনি এই ঘটনাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ ও ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ বলে অভিহিত করেন এবং আন্তর্জাতিক মহলের কাছে এর নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবের ‘শাজারেহ তয়্যিবেহ’ নামের একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দিনের আলোয় হামলা চালানো হয়। তখন স্কুলে পড়ুয়ারা উপস্থিত ছিল। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল বা বেসামরিক স্থাপনায় ইচ্ছাকৃত হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী সায়েদ আব্বাস আরাঘচি (Seyed Abbas Araghchi) সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি শেয়ার করেন, যেখানে বহু কবর খোঁড়ার ছবি দেখা যায়। তাঁর দাবি, নিহত ‘নিরীহ’ কিশোরীদের কবর দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। একই পোস্টে তিনি মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে ঘটনাকে ‘নির্মম হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেন। তবে প্রকাশিত ছবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
উল্লেখ্য, সংঘাতের প্রথম দিনেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে মার্কিন সামরিক তদন্তে জানা গিয়েছে, একটি টমাহক ক্রুজ মিসাইল ইরানের একটি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয়েছিল। কিন্তু পুরনো তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্য নির্ধারণ করায় ভুলবশত সেই মিসাইল স্কুল ভবনে আঘাত হানে। তবে এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ ইরান। তাদের দাবি, এত উন্নত প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও এমন ‘ভুল’ হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমদিকে দাবি করেছিলেন, ইরান নিজেই হয়তো এই হামলা চালিয়েছে - যদিও ইরানের হাতে ওই ধরনের মিসাইল নেই বলে জানা যায়। সব মিলিয়ে, স্কুলে হামলার এই ঘটনা ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে চাপানউতোর আরও তীব্র হচ্ছে, আর পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ক্রমেই জটিল আকার নিচ্ছে।