Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশু

খামেনেই-বিরোধী বিক্ষোভে টালমাটাল ইরান, কূটনৈতিক হিসেব কষছে ভারত

খামেনেই-বিরোধী বিক্ষোভে ইরানজুড়ে অস্থিরতা। পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রেখে কূটনৈতিক কৌশল নতুন করে সাজাচ্ছে ভারত।

খামেনেই-বিরোধী বিক্ষোভে টালমাটাল ইরান, কূটনৈতিক হিসেব কষছে ভারত

ইন্ডিয়া- ইরান

গার্গী দাস

শেষ আপডেট: 15 January 2026 15:41

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানে (Iran) জ্বলছে আগুন। অর্থনৈতিক চাপ, রাজনৈতিক ক্লান্তি আর সুপ্রিম লিডার (Supreme Leader) আয়াতোল্লা খামেনেই (Ayatollah Khamenei)-বিরোধী বিক্ষোভে টালমাটাল তেহরান (Tehran)। আর সেই পরিস্থিতিতে রীতিমতো উদ্বেগে নয়াদিল্লি (New Delhi)। কারণ ইরান শুধু আরেকটা পশ্চিম এশিয়ার দেশ নয়, ভারতের (India) কৌশলগত মানচিত্রে তার গুরুত্ব বহুস্তরীয়।

ভৌগোলিক বাস্তবতায় পাকিস্তান (Pakistan) ভারতের জন্য আফগানিস্তান (Afghanistan) ও মধ্য এশিয়ার (Central Asia) স্থলপথ বন্ধ করে রেখেছে। সেই জায়গায় বছরের পর বছর ভারতের একমাত্র পশ্চিমমুখী করিডর হয়ে উঠেছে ইরান। শিয়া (Shia) নেতৃত্বাধীন তেহরান আবার পাকিস্তানের প্রভাবের পাল্টা ভারসাম্যও তৈরি করেছে। ফলে পশ্চিম এশিয়া (West Asia) নিয়ে ভারতের হিসেবি কূটনীতিতে ইরান ছিল স্থিতিশীলতার এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।

কিন্তু যদি ইরান দুর্বল হয় বা ভেঙে পড়ে রাষ্ট্রীয় কাঠামো তাহলে ভারতের ঠিক কী হবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের কৌশলগত ‘ম্যানুভারিং স্পেস’ আরও সঙ্কুচিত হবে। অর্থাৎ বৈদেশিক, কূটনৈতিক ও বানিজ্যিক সম্পর্ক ইরানের সঙ্গে খারাপ হলেও হতে পারে। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে (Bangladesh) সরকার পরিবর্তন, পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাসের চাপ, চিনের (China) আঞ্চলিক বিস্তার আর ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) আমলে মার্কিন (US) নীতির অভিঘাতে এই স্পেস ইতিমধ্যেই চাপে রয়েছে।

এই সমীকরণের কেন্দ্রে ঠিক কী রয়েছে?

কূটনীতিকদের মতে, চাবাহার বন্দরকে (Chabahar Port) কেন্দ্র করে ঝামেলা হতে পারে। পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় পৌঁছনোর ভারতের স্বপ্নের দরজা এই বন্দর। ইরানের উপকূল ধরে স্থল ও রেলপথে সংযোগ তৈরির পরিকল্পনা বহুদিনের। কিন্তু এই ধরনের করিডরের জন্য দরকার রাজনৈতিক স্থিরতা, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। তেহরানে (Tehran) শাসন বদল হলে সেই গোটা কাঠামোই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jawaharlal Nehru University) অধ্যাপক রাজন কুমার (Rajan Kumar) এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, খামেনেই-পরবর্তী ক্ষমতার লড়াইয়ে চাবাহার কৌশলগত সম্পদ না হয়ে অস্থিরতার ‘পণবন্দি’ হয়ে যেতে পারে।

পাকিস্তান ফ্যাক্টর

মুসলিম-প্রধান দেশ হলেও ইরান দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের প্রভাবের ভারসাম্য রক্ষা করেছে। সেখানকার সুন্নি (Sunni) চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে তেহরানের শিয়া অবস্থান ভারতের পক্ষে গেছে। নব্বইয়ের দশক ও ২০০০-এর শুরুর দিকে, পাকিস্তান-সমর্থিত তালিবান (Taliban) যখন আফগানিস্তানে ‘স্ট্র্যাটেজিক ডেপথ’ চাইছিল, তখন ভারত ও ইরান একসঙ্গে তালিবান-বিরোধী শক্তিকে সমর্থন করে। এতে পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ একচেটিয়া করতে পারেনি। এমনকি কাশ্মীর (Kashmir) ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তান চাপ বাড়ালে, তেহরান তখন দিল্লির পাশে দাঁড়ায়।

ইরান ভিতরে ভিতরে দুর্বল হলে, সেই শূন্যতার সুযোগ নিতে পারে পাকিস্তান- বলছে কূটনৈতিক মহল।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ঝুঁকি

ইরান ভারতের অষ্টম বৃহত্তম বাণিজ্যসঙ্গী। গত বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১.৩–১.৭ বিলিয়ন ডলার। চাবাহার ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে ভারত ইতিমধ্যেই ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা (US sanctions) মেনে চলতে গিয়ে কিছু প্রকল্প ঢিমেতালে চলেছে। কিন্তু যদি তেহরানে শাসন বদল হয়, সেই বিনিয়োগ সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়বে-যার প্রভাব পড়বে করদাতার টাকায়।

চিনের ছায়া

পাকিস্তানের প্রশ্নে ইরান ভারতের দিকে ঝুঁকলেও, চিনের সঙ্গে তেহরানের ঘনিষ্ঠতা চোখ এড়ায় না। ২০২১ সালে বেজিং (Beijing) ও তেহরানের মধ্যে ২৫ বছরের কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি হয়। ২০২৫ সালে চিন ছিল ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যসঙ্গী, প্রায় ১৪.৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত ইরান সস্তা তেল বিক্রি ও পরিকাঠামো প্রকল্পে ক্রমশ চিনের উপর নির্ভরশীল। চাবাহারে ভারতের উপস্থিতি সেই চিনা প্রভাবের বিরুদ্ধে সামান্য হলেও পাল্টা ভারসাম্য।

অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে, নতুন কোনও শাসনও নিরাপত্তা ও বিনিয়োগের জন্য চিনের দিকেই ঝুঁকতে পারে। খুজেস্তান (Khuzestan)-এ চিনা অর্থে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বন্দর প্রকল্প নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা চলছে।

ভারতের পরবর্তী চাল

আমেরিকা (United States), চিন ও শ্রীলঙ্কায় (Sri Lanka) ভারতের রাষ্ট্রদূত ছিলেন প্রাক্তন কূটনীতিক নিরুপমা মেনন রাও। তাঁর এনিয়ে মত, এই মুহূর্তে ভারতের পথ হওয়া উচিত সংযত ও হিসেবি। বলেন, 'ইরানের পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে বাইরের শক্তি ফলাফল নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। প্রথম দায়িত্ব হওয়া উচিত ইরানে ও গোটা অঞ্চলে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষা।'

রাও আরও জানান, একক কোনও অনুমানের বদলে একাধিক সম্ভাব্য দৃশ্যপট ধরে প্রস্তুতি নেওয়াই বুদ্ধিমানের। পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা হলে তার অভিঘাত শক্তির বাজার, নৌপথ, প্রবাসী নিরাপত্তা আর জঙ্গি নেটওয়ার্ক হয়ে দ্রুত দক্ষিণ এশিয়ায় পৌঁছতে পারে। তাই ভারতের কৌশল হওয়া উচিত, সতর্ক থাকা, স্থির যোগাযোগ আর লাগাতার মূল্যায়ন।


```