জাতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের বিচারবিভাগ বলেছে, সোলতানির বিরুদ্ধে ইসলামি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছিল। যা দেশের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে। বিচারক বলেছেন, এই অপরাধে কারও মৃত্যুদণ্ডের বিধান নেই।

এরফান সোলতানির (Erfan Soltani) ফাঁসি রদ।
শেষ আপডেট: 15 January 2026 16:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানে (Iran) আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-বিরোধী (Anti-Khamenei) চলতি গণআন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ২৬ বছরের এরফান সোলতানির (Erfan Soltani) ফাঁসি রদ করা হল। জাতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের বিচারবিভাগ বলেছে, সোলতানির বিরুদ্ধে ইসলামি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছিল। যা দেশের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে। বিচারক বলেছেন, এই অপরাধে কারও মৃত্যুদণ্ডের বিধান নেই। আইনানুসারে তাঁর জেল হতে পারে। কিন্তু এই ধরনের অপরাধে মৃত্যুদণ্ড হয় না।
এর আগে জানানো হয়েছিল, সোলতানির ফাঁসি কার্যকর হলে তা হতে পারে চলতি আন্দোলনের জেরে প্রথম প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড। মানবাধিকার সংগঠনগুলির আশঙ্কা, আন্দোলন দমন করতেই দ্রুত বিচার ও একের পর এক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পথে হাঁটতে পারে তেহরান। নরওয়ের কুর্দি মানবাধিকার সংগঠন হেংগাও (Hengaw Organisation for Human Rights) জানিয়েছে, সোলতানির বিরুদ্ধে চলা আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ। তাঁকে গ্রেফতারের পর থেকে মৌলিক আইনি অধিকার দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ। আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ, আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার— সবই অস্বীকার করা হয়েছে। এদিকে লেবানন-অস্ট্রেলীয় উদ্যোক্তা মারিও নওফাল (Mario Nawfal) তাঁর অফিসিয়াল এক্স (X) অ্যাকাউন্টে দাবি করেছেন, এই ফাঁসি হলে তা হবে ‘শুরু মাত্র’। তাঁর বক্তব্য, ভয় দেখিয়ে জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতেই এই কৌশল নিয়েছে ইরানি শাসকগোষ্ঠী।
হেংগাও-এর দাবি অনুযায়ী, সোলতানির পরিবারকেও ফাঁসির বিষয়ে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। কে তাঁকে গ্রেফতার করেছে, কী অভিযোগে— সেসব তথ্য দীর্ঘদিন জানানো হয়নি। গত ১১ জানুয়ারি পরিবারকে জানানো হয়, তাঁর মৃত্যুদণ্ড চূড়ান্ত হয়েছে। তারপর মাত্র ১০ মিনিটের জন্য তাঁর সঙ্গে পরিবারকে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয় বলেও জানানো হয়েছে।
সোলতানির বোন একজন আইনজীবী হলেও তাঁকে মামলার নথি দেখতে দেওয়া হয়নি। এমনকী তিনি ভাইয়ের পক্ষে আইনগত লড়াই চালানোর অনুমতিও পাননি বলে অভিযোগ। তেহরানের উপকণ্ঠ কারাজের (Karaj) ফারদিস এলাকার বাসিন্দা এরফান সোলতানিকে ৮ জানুয়ারি গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ, তিনি খামেনেই-বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়। ইরানি রিয়ালের ভয়াবহ দরপতন, লাগামছাড়া মুদ্রাস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের আকাশছোঁয়া দামের জেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ মানুষ। প্রথমে তেহরানের বাজারগুলিতে প্রতিবাদ শুরু হলেও দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে দেশের নানা শহরে। দোকানদার, ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ— সবাই রাস্তায় নামেন।
অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকেই শুরু হওয়া এই আন্দোলন ধীরে ধীরে রূপ নিয়েছে খামেনেই ও শিয়া শাসনের বিরুদ্ধে বৃহত্তম গণআন্দোলনে। শাসনব্যবস্থার সংস্কার এবং শিয়া নেতৃত্বের অবসানের দাবিতেই এখন সরব ইরানের রাজপথ।