মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন সামরিক বিকল্প নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করছেন, ঠিক সেই প্রেক্ষিতেই কড়া বার্তা দিল তেহরান।
.jpeg.webp)
চলতি অস্থিরতা ঘিরে উদ্বেগ বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ছবিতে এআই ব্যবহার করা হয়েছে।
শেষ আপডেট: 13 January 2026 15:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হামলার (Donald Trump) হুমকির জবাবে ইরান (Iran) জানিয়েছে, প্রয়োজনে তারা যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন সামরিক বিকল্প নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করছেন, ঠিক সেই প্রেক্ষিতেই কড়া বার্তা দিল তেহরান। ইরান জানিয়েছে, হামলা হলে সেই ভাষাতেই জবাব দেওয়া হবে। সোমবার আরব দুনিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ওয়াশিংটন যদি ইরানের শক্তি যাচাই করতে চায়, তবে তার জবাব দেওয়ার মতো প্রস্তুতি তাঁদের রয়েছে।
তাঁর কথায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের কিছু জানালা এখনও খোলা আছে, কিন্তু পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে ইরান সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য তৈরি। তিনি দাবি করেন, গত বছরের ১২ দিনের সংঘাতের তুলনায় এখন ইরানের সামরিক প্রস্তুতি অনেক বেশি বিস্তৃত ও শক্তিশালী। তাঁর এই মন্তব্যটি এমন সময় যখন ইরান জুড়ে চলা সরকারবিরোধী আন্দোলন (Iran protests crackdown) নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। রবিবার তিনি বলেন, ইরানে বিক্ষোভ দমনে সরকারের ভূমিকার জেরে তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সামরিক পদক্ষেপও থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
চলতি অস্থিরতা ঘিরে উদ্বেগ বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশ্লেষকদের সতর্কতা, পরিস্থিতি আরও ঘোরাল হলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড়সড় ধাক্কা লাগতে পারে। বার্কলেজ (Barclays oil outlook) এক নোটে জানিয়েছে, তাদের মতে ইরানের অশান্তির জেরে তেলের দামে ইতিমধ্যেই ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৩ থেকে ৪ ডলার পর্যন্ত দাম বেড়েছে। আইএনজি–র পণ্য বাজার বিশ্লেষকরা (ING commodities, oil market) জানিয়েছেন, ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র হওয়াতেই মূলত তেলের দামে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump Iran threat) বারবার সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দেওয়ায় বাজারে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
উল্লেখ্য, ওপেক (OPEC oil producer)–এর অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদক দেশ ইরান। বর্তমানে দেশটি গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখে। এই রাজনৈতিক অস্থিরতা তেল বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইরান একটি বড় কিন্তু নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত উৎপাদক। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতির অবনতি হলে একদিকে যেমন ইরানের তেল উৎপাদন ও রফতানি ব্যাহত হতে পারে, তেমনই অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তেলের দামে অতিরিক্ত দাম যোগ হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতিতেও।
এর মধ্যেই ইরানের গোয়েন্দা সংস্থা (Iran intelligence) জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন বাড়িতে লুকিয়ে রাখা মার্কিন অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের দাবি, এই সব অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কয়েকটি গোষ্ঠীর সদস্যদের কাছ থেকে। এর আগে বিদেশমন্ত্রী আরাঘচি জানিয়েছিলেন, কর্তৃপক্ষের হাতে এমন অডিও রেকর্ড রয়েছে, যেখানে বিদেশ থেকে বিক্ষোভকারীদের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল (US-Israel Iran accusations) ইচ্ছাকৃতভাবে বহিরাগত চর পাঠিয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরি করছে, যাতে পরবর্তীতে সামরিক হস্তক্ষেপের যুক্তি দাঁড় করানো যায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের শীর্ষ মহলে ইরান (US-Iran tensions) নিয়ে কূটনৈতিক ও সামরিক— দু’ধরনের পথই গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (JD Vance)–এর যোগাযোগ পরিচালক উইলিয়াম মার্টিন জানিয়েছেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স এবং বিদেশসচিব মার্কো রুবিও (Marco Rubio, US Secretary of State) যৌথভাবে প্রেসিডেন্টের সামনে একগুচ্ছ বিকল্প তুলে ধরছেন। এই বিকল্পগুলির মধ্যে যেমন কূটনৈতিক সমাধানের পথ রয়েছে, তেমনই প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনাও রয়েছে। ভ্যান্সের নেতৃত্বে ট্রাম্পের কিছু ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক হামলার অনুমোদনের আগে কূটনীতিক উদ্যোগে জোর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
তবে উইলিয়াম মার্টিন এই ব্যাখ্যাকে সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে যে বিকল্পগুলি তুলে ধরা হচ্ছে, সেগুলি কোনও পক্ষপাত বা পক্ষবিশেষের প্রতি ঝোঁক ছাড়াই উপস্থাপন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানকে বারবার সতর্ক করছে যে আমেরিকার হাতে “অত্যন্ত শক্তিশালী” বিকল্প রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ইরান নিয়ে হোয়াইট হাউসের ভিতরে (Trump Iran strategy) কূটনৈতিক সংযম ও সামরিক কঠোরতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। সব মিলিয়ে, ইরান-আমেরিকা সম্পর্ক (US-Iran relations) নতুন করে চরম উত্তেজনার দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। চলমান বিক্ষোভ, কূটনৈতিক চাপ ও সামরিক হুমকি—এই ত্রিমুখী সংকট আরব দুনিয়ায় আরও বড় অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।