আমেরিকার তরফে জানানো হয়েছে, পশ্চিমী দুনিয়ায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের বক্তব্য, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কৌশলগত নমনীয়তা বজায় রাখা।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 31 March 2026 19:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ায় (Middle East Conflict) ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে উত্তেজনা। সেই আবহেই নতুন করে সংঘাতের আগুনে ঘি ঢালল ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রকাশ করা একটি ভিডিও (Iran Millitary Video)। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে সরাসরি বার্তা দেওয়া হয়েছে - আমেরিকার সেনাবাহিনীর (US Army) মোকাবিলায় তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
প্রায় এক মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখানো হয়েছে ইরানের বিশেষ বাহিনীর মহড়া। যুদ্ধসজ্জায় সজ্জিত কমান্ডোদের কঠোর অনুশীলন, দুর্গম ভূখণ্ডে অগ্রসর হওয়ার দৃশ্য এবং ভারী অস্ত্র ব্যবহারের ঝলক ফুটে উঠেছে তাতে। ভিডিওর একাধিক অংশে দেখা যায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপকারী যান থেকে অস্ত্র ছোড়া হচ্ছে এবং তার পরেই বিস্ফোরণের দৃশ্য। পটভূমিতে তীব্র সুরের সংগীতের সঙ্গে স্পষ্ট বার্তা - “আমাদের কাছে আসুন, আমরা অপেক্ষা করছি।”
এই ভিডিও প্রকাশের সময়ই আমেরিকার তরফে জানানো হয়েছে, পশ্চিমী দুনিয়ায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের বক্তব্য, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কৌশলগত নমনীয়তা বজায় রাখা। একই সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যাতে সংঘাতের অবসান ঘটানো যায়।
এক সাংবাদিক বৈঠকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থলস্তরে থাকা বাহিনীর লক্ষ্যপূরণে মনোনিবেশ করছেন। তাঁর কথায়, সামরিক দফতরের কাজ হল এমন পরিস্থিতি তৈরি করা যাতে প্রয়োজনে বিভিন্ন বিকল্প খোলা রাখা যায় এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা মাথায় রেখে পরিকল্পনা তৈরি করছে প্রতিরক্ষা দফতর। সূত্রের খবর, যদি সংঘাত আরও তীব্র করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থল অভিযানের প্রস্তুতিও রাখা হচ্ছে।
তবে এই সম্ভাব্য অভিযান পূর্ণমাত্রার আক্রমণের পর্যায়ে যাবে না বলেই ইঙ্গিত মিলেছে। বরং নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে সীমিত আকারে অভিযান চালানো হতে পারে। বিশেষ বাহিনী ও নিয়মিত পদাতিক সেনার যৌথ অংশগ্রহণে হানা বা আক্রমণ চালানোর পরিকল্পনাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।
Iran’s Army released footage of its elite commandos, declaring it is ready to confront and defeat American soldiers.
Follow: https://t.co/mLGcUTS2ei pic.twitter.com/gIdaV4W8lI— Press TV 🔻 (@PressTV) March 31, 2026
এই পরিস্থিতির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছে গিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম বৃহৎ উভচর আক্রমণকারী জাহাজ। প্রায় সাড়ে তিন হাজার সেনা ও নৌসদস্য নিয়ে এই জাহাজ ওই অঞ্চলে প্রবেশ করেছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, একদিকে ইরানের কড়া বার্তা, অন্যদিকে আমেরিকার সামরিক প্রস্তুতি - এই দুইয়ের সংঘাতে সেখানকার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। যদিও পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, তবুও বর্তমান পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সে দিকেই নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।