Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

পারমাণবিক চুক্তিতে আপস নিয়ে আলোচনার ইঙ্গিত, বদলে ওয়াশিংটনের আন্তরিকতা চাইছে ইরান: সূত্র

ফেব্রুয়ারির শুরুতে ওমানে পরোক্ষ বৈঠকে বসেছিল আমেরিকা ও ইরান। তাখ্‌ত-রাভানচি জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার জেনেভায় দ্বিতীয় দফার আলোচনা হবে।

পারমাণবিক চুক্তিতে আপস নিয়ে আলোচনার ইঙ্গিত, বদলে ওয়াশিংটনের আন্তরিকতা চাইছে ইরান: সূত্র

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 15 February 2026 17:21

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পারমাণবিক কর্মসূচি (nuclear programme) নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি (Iran US nuclear deal)-র পথে আপসের ইঙ্গিত দিল ইরান (Iran)। তবে শর্ত একটাই, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে রাজি হয়, তবেই আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব। সামরিক হুঁশিয়ারি ও আঞ্চলিক উত্তেজনার আবহে (Middle East tension) এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।

বিবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী মাজিদ তাখ্‌ত-রাভানচি বলেন, “ওরা (আমেরিকা) চুক্তি চাইছে কি না, সেটা প্রমাণ করার দায়িত্ব এখন আমেরিকার।” তিনি জানান, ওয়াশিংটন আন্তরিক হলে আলোচনার পথ (US Iran talks) খুলে যেতে পারে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রসঙ্গ এলে ইরানও তার পারমাণবিক কর্মসূচির সীমা নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত।

অন্যদিকে, আমেরিকার তরফে অভিযোগ, দীর্ঘদিনের এই আলোচনায় ইরানই অগ্রগতিতে দেরি করছে। মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও (Marco Rubio) শনিবার বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) চুক্তির পক্ষেই থাকলেও ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছনো “খুবই কঠিন”।

ট্রাম্প আগেই সতর্ক করেছেন, ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রুখতে চুক্তি সম্ভব না হলে সামরিক হামলাও হতে পারে। ইতিমধ্যেই ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে আমেরিকা।

ওমানের পর জেনিভায় পরবর্তী দফা আলোচনা

ফেব্রুয়ারির শুরুতে ওমানে পরোক্ষ বৈঠকে বসেছিল আমেরিকা ও ইরান। তাখ্‌ত-রাভানচি জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার জেনেভায় দ্বিতীয় দফার আলোচনা (US Iran talks Geneva) হবে।

প্রথম দফার বৈঠক “মোটামুটি ইতিবাচক” হলেও এখনই ফলাফল নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। ট্রাম্পও ওমানের আলোচনা ইতিবাচক বলেই উল্লেখ করেছেন।

ইরান ইতিমধ্যেই তাদের ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে, যা নমনীয়তার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই মাত্রার ইউরেনিয়াম প্রায় অস্ত্র তৈরির স্তরের কাছাকাছি, ফলে তা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যদিও ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।

তবে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তোলা হবে, না আংশিক শিথিল করা হবে, এই প্রশ্নে ইরান এখনও স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি।

২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির মতোই আবারও ইউরেনিয়াম বাইরে পাঠানো হবে কি না, সে বিষয়েও এখনই কিছু বলতে চাননি তাখ্‌ত-রাভানচি। উল্লেখ্য, সেই সময় রাশিয়া (Russia) ১১ হাজার কেজি নিম্নমাত্রার ইউরেনিয়াম গ্রহণ করেছিল এবং এবারও সেই প্রস্তাব দিয়েছে।

‘জিরো এনরিচমেন্ট’ নিয়ে অচলাবস্থা

আলোচনার অন্যতম বড় বাধা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ। আমেরিকার দাবি ছিল, ইরান পুরোপুরি এই প্রক্রিয়া বন্ধ করুক। কিন্তু তাখ্‌ত-রাভানচি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “জিরো এনরিচমেন্ট এখন আর আলোচনার বিষয় নয়।”

প্রসঙ্গত, এটি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত, যেখানে তিনি বলেছিলেন, “আমরা কোনও এনরিচমেন্টই চাই না।”

ইরানের মতে, সম্পূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির অধীনে তাদের অধিকার লঙ্ঘন। এছাড়াও, ইরান জানিয়ে দিয়েছে যে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এই আলোচনার অংশ হবে না, যদিও ইজরায়েল (Israel) ও আমেরিকার তরফে এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার চাপ রয়েছে।

যুদ্ধের আশঙ্কা, বাড়ছে আঞ্চলিক উদ্বেগ

ট্রাম্প মাঝে মধ্যেই ইরানে শাসন পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলেছেন। তবে তাখ্‌ত-রাভানচি আমেরিকার সামরিক উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে সতর্ক করেন, নতুন যুদ্ধ হলে তা “সবার জন্য ভয়াবহ” হবে।

ইরান আগেই জানিয়েছে, সংঘাত হলে ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলি লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন সেনা ওই অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে, এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিস্থিতি হলে “খেলার নিয়মই বদলে যাবে”।

এই পরিস্থিতিতে কাতার-সহ একাধিক আঞ্চলিক শক্তি কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। তাখ্‌ত-রাভানচির কথায়, “যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রায় সর্বসম্মত মত রয়েছে এই অঞ্চলে।”

ভঙ্গুর আস্থা, তবু আশার আলো

এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এখনও অত্যন্ত অনিশ্চিত। ইরানের অভিযোগ, আলোচনার মাঝেই ইজরায়েল হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করেছে, গত জুনের হামলার উদাহরণ তুলে তারা এই অভিযোগ করেছে। এছাড়াও, আমেরিকার অবস্থান বারবার বদলাচ্ছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তেহরান।

তবুও আশা ছাড়ছে না ইরান। জেনিভার বৈঠকের আগে তাখ্‌ত-রাভানচি বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। তবে অপর পক্ষকেও আন্তরিকতা দেখাতে হবে।”


```