এই ঘটনার আগে ইরানের নৌবাহিনী সরাসরি আমেরিকাকে সতর্ক করেছিল। জানানো হয়েছিল, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কনের উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং এটি যদি ইরানের সীমার মধ্যে ঢোকে, তাহলে সেটিকে টার্গেট করা হতে পারে।

মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কন
শেষ আপডেট: 25 March 2026 18:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হুঁশিয়ারির (Iranian navy warning to US) এক ঘণ্টার মধ্যেই পদক্ষেপ (US Iran tensions)। মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কন (USS Abraham Lincoln)-কে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি, আব্রাহাম লিঙ্কনের দিকে একটি ক্রুজ মিসাইল ছোঁড়া হয়েছে (Iran missile target USS Abraham Lincoln)। তবে এই দাবি এখনও নিশ্চিত করা যায়নি এবং আমেরিকার তরফেও তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
ইরানের সেনাবাহিনীর জনসংযোগ শাখা জানিয়েছে, উপকূলভিত্তিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন যুদ্ধজাহাজের দিকেই ছোড়া হয়।
হুঁশিয়ারির পরেই পদক্ষেপ
এই ঘটনার আগে ইরানের নৌবাহিনী সরাসরি আমেরিকাকে সতর্ক করেছিল। জানানো হয়েছিল, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কনের উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং এটি যদি ইরানের সীমার মধ্যে ঢোকে, তাহলে সেটিকে টার্গেট করা হতে পারে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার শাহরাম ইরানি বলেন, মার্কিন এই বিমানবাহী রণতরী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় এলেই তা আঘাত হানতে সক্ষম। তিনি আরও দাবি করেন, জাহাজটির উপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে।
আমেরিকাকে কড়া বার্তা
ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্তাদের বক্তব্যেও স্পষ্ট হয়েছে কড়া অবস্থান। খতম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি বলেন, একসময় আমেরিকা যে “কৌশলগত শক্তি”র দাবি করত, তা এখন “কৌশলগত পরাজয়ে” পরিণত হয়েছে।
এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার ৪৮ ঘণ্টার 'আলটিমেটাম' থেকে সরে এসেছেন। জানা গিয়েছে, ইরান পাল্টা সতর্ক করেছিল, তাদের উপর হামলা হলে গোটা অঞ্চলের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিকাঠামোয় পাল্টা আঘাত হানা হবে।
জোলফাকারি ট্রাম্পের মন্তব্যেরও কড়া জবাব দেন। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, গত দু’দিনে দুই দেশের মধ্যে “গঠনমূলক আলোচনা” হয়েছে। তবে ইরানের তরফে সেই দাবি পুরোপুরি খারিজ করা হয়েছে। তেহরানের এক সূত্র জানিয়েছে, কোনও আনুষ্ঠানিক যোগাযোগই হয়নি।
‘চুক্তি নয়, পরাজয়’, ইরানের বার্তা
জোলফাকারির কথায়, “বিশ্বের তথাকথিত সুপারপাওয়ার যদি এই পরিস্থিতি থেকে বেরোতে পারত, তাহলে এতদিনে বেরিয়ে যেত। নিজের পরাজয়কে চুক্তি বলে চালাবেন না।”
তিনি আরও বলেন, এখন বিশ্বে দু’টি পক্ষ, “সত্য” এবং “মিথ্যা”, আমেরিকার আশ্বাসে আর কেউ বিশ্বাস করবে না। এমনকি মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিভাজন নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি।
ইরানের দাবি, এখন আর আগের মতো পরিস্থিতি ফিরবে না। জ্বালানি বাজার, বিনিয়োগ - সবকিছুই বদলে গিয়েছে এবং এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এখন ইরানের সামরিক শক্তির উপর নির্ভর করছে।
শেষ বার্তায় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের চিন্তা পুরোপুরি পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত আগের অবস্থায় ফেরা সম্ভব নয়।