মার্কিন-ইজরায়েল যৌথ হামলায় ইরানে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পর পুরো আরবদুনিয়া উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই হামলার পাল্টা জবাবে ইরান তেল আবিব, আমেরিকান ঘাঁটি এবং উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।

কুয়েতের গুলিতে ধ্বংস হল মার্কিন যুদ্ধবিমান
শেষ আপডেট: 3 March 2026 08:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘর্ষের (Iran-Israel-US conflicts) চতুর্থ দিন। সময় যত গড়াচ্ছে, পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। মার্কিন-ইজরায়েল হামলার (US-Israel Strikes) প্রতিশোধে আরবদুনিয়ার দিকে হাত বাড়িয়েছে ইরান (Iran)। ছোড়া হচ্ছে মিসাইল, পরপর বিস্ফোরণে কেঁপে উঠছে এলাকা। এরমধ্যেই কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুল সিদ্ধান্তে 'সহযোগী' দেশ আমেরিকার যুদ্ধবিমান গুলি করে নামিয়ে দেওয়া হল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি 'এফ-১৫ ই' যুদ্ধবিমান (US F15E Jets Shot Down) গুলি করে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) সোমবার রাতে জানিয়েছে, এটি সম্পূর্ণ ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা ভুলবশত ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা (Kuwait Friendly Fire Incident)।
CENTCOM আরও জানিয়েছে, প্রতিটি বিমানে দু’জন করে মোট ছ'জন পাইলট ছিলেন। তাঁরা সবাই সময়মতো ইজেক্ট করে নিরাপদে নেমে আসেন এবং পরে সকলকেই উদ্ধার করা হয়েছে। প্রত্যেকের অবস্থা স্থিতিশীল। কুয়েত সরকারও ঘটনাটি স্বীকার করেছে এবং মার্কিন বাহিনী তাদের সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে।
এর আগে কুয়েত শুধু জানিয়েছিল, 'বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে।' পরে স্পষ্ট হয় যে সেগুলো কুয়েতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুলিতেই নষ্ট হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি F-15E যুদ্ধবিমান আকাশে ঘুরতে ঘুরতে নীচে পড়ে আসছে। সেটির পিছনের অংশে আগুন জ্বলতেও দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর দু'জন পাইলটকে যুদ্ধবিমান থেকে ইজেক্ট করতে দেখা যায়।
মার্কিন-ইজরায়েল যৌথ হামলায় ইরানে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পর পুরো আরবদুনিয়া উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই হামলার পাল্টা জবাবে ইরান তেল আবিব, আমেরিকান ঘাঁটি এবং উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।
হামলার প্রথম দিনেই নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই, যা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে। সোমবার সকাল থেকে উপসাগরীয় বিভিন্ন শহরে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ শোনা গেছে। জেরুজালেমেও হামলার সতর্কতা শোনা যায় এবং ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে ইজরায়েল দাবি করেছে।
ইরানি ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের তেলের জায়ান্ট সৌদি আরামকোর রাস তানুরা রিফাইনারি সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়েছে। এটি সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ বেড়েছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে হিজবুল্লাহর যুদ্ধে যোগ দেওয়া। গত ৭২ ঘণ্টায় হামলা–পাল্টা হামলার মাত্রা দ্রুত বেড়েছে। বিভিন্ন দেশে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কয়েক ঘণ্টা বন্ধ ছিল, পাশাপাশি একটি বিলাসবহুল হোটেলেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানা হয়। অপরদিকে ইরান অভিযোগ করেছে, মার্কিন-ইজরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মিনাব শহরের একটি স্কুলে ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছে, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।