প্রতিরক্ষা দফতর জানায়, নিহত চারজনের বয়স ছিল ২০ থেকে ৪২ বছরের মধ্যে। তাঁরা ডেস মইন্স-ভিত্তিক ১০৩তম সাসটেইনমেন্ট কমান্ডের সদস্য ছিলেন, যা সেনাবাহিনীর বিশ্বব্যাপী রসদ ও সরবরাহ ব্যবস্থার অংশ।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 4 March 2026 11:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে (US-Israel Iran Conflict) নিহত প্রথম মার্কিন সেনাদের (US Army) মধ্যে চারজনের পরিচয় প্রকাশ করল মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর। একই সঙ্গে আমেরিকান প্রশাসনের আশঙ্কা - সংঘাত যত বাড়বে, ততই বাড়তে পারে সেনাদের প্রাণহানি।
শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত মোট ছ’জন মার্কিন সেনার (US Army Death) মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চারজন ছিলেন আইওয়া অঙ্গরাজ্যের এক সংরক্ষিত সেনা ইউনিটের সদস্য। গত রবিবার কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবার একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন আছড়ে পড়লে তাঁদের মৃত্যু হয়।
প্রতিরক্ষা দফতর জানায়, নিহত চারজনের বয়স ছিল ২০ থেকে ৪২ বছরের মধ্যে। তাঁরা ডেস মইন্স-ভিত্তিক ১০৩তম সাসটেইনমেন্ট কমান্ডের সদস্য ছিলেন, যা সেনাবাহিনীর বিশ্বব্যাপী রসদ ও সরবরাহ ব্যবস্থার অংশ।
নিহত সেনারা হলেন - ক্যাপ্টেন কোডি এ. খর্ক (৩৫), ফ্লোরিডার উইন্টার হেভেনের বাসিন্দা; সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস নোয়া এল. টিটজেন্স (৪২), নেব্রাস্কার বেলভিউ; সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস নিকোল এম. আমর (৩৯), মিনেসোটার হোয়াইট বেয়ার লেক; এবং সার্জেন্ট ডেকলান জে. কোডি (২০), আইওয়ার ওয়েস্ট ডেস মইন্সের বাসিন্দা। ৭৯তম থিয়েটার সাসটেইনমেন্ট কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল টড আরস্কিন এক বিবৃতিতে নিহতদের পরিবার ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও শ্রদ্ধা জানান।
নিহতদের অধিকাংশেরই বিদেশে কাজের অভিজ্ঞতা ছিল। খর্ক ২০১৮ সালে সৌদি আরবে (Saudi Arab), ২০২১ সালে কিউবার (Cuba) গুয়ানতানামো উপসাগরে এবং ২০২৪ সালে পোল্যান্ডে দায়িত্ব পালন করেন। আমর ২০১৯ সালে কুয়েত (Kuwait) ও ইরাকে (Iraq) ছিলেন। টিটজেন্স ২০০৯ ও ২০১৯ সালে দু’বার কুয়েতে দায়িত্ব পালন করেন। কোডি ২০২৩ সালে সংরক্ষিত বাহিনীতে যোগ দেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবং শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তারা আগেই সতর্ক করেছিলেন, ইরান পাল্টা হামলা চালালে আরও মার্কিন সেনার মৃত্যু হতে পারে। মার্কিন সামরিক কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, ইরান এখনও পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে পাঁচ শতাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দুই হাজারের বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।
প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ, যৌথ প্রধানদের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান জন র্যাটক্লিফ এবং বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও আইনপ্রণেতাদের এক গোপন বৈঠকে পরিস্থিতির ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করেন। সেখানে জানানো হয়, ড্রোন হামলা পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নাও হতে পারে।
কুয়েতের যে ভবনে হামলা হয়, সেটি কংক্রিটের সুরক্ষা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা ছিল, তবে ছাদ ছিল অরক্ষিত। হামলার আগে সতর্কবার্তা বেজেছিল কিনা, তা স্পষ্ট নয়।
এদিকে আবার জানা গেছে, মার্কিন বাহিনীর কাছে আরও ১০ দিন অভিযান চালানোর জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যায় ক্ষেপণাস্ত্র মজুত নেই। পেন্টাগন ট্রাম্পকে সতর্ক করেছে যে যুদ্ধ দীর্ঘ সময়ে টানলে মার্কিন মিসাইল (Pentagon Warns Of Low Missile Stock) ও যুদ্ধাস্ত্রের মজুত পুনরায় ভরাট করতে বিপুল খরচ হতে পারে। যদিও মঙ্গলবার ট্রাম্প দাবি করেছেন যে আমেরিকার কাছে যে পরিমাণ অস্ত্র মজুত আছে, তা দিয়ে চিরকাল যুদ্ধ চালানো সম্ভব।
কিন্তু সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইন্টারসেপ্টর মিসাইল- যা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র আটকাতে ব্যবহৃত হয়, সেগুলির দ্রুত ঘাটতি দেখা যেতে পারে। ইতিমধ্যেই মার্কিন অস্ত্রভান্ডারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ কিছুটা ফুরিয়ে এসেছে, বিশেষত ইজরায়েল ও ইউক্রেনকে বিপুল পরিমাণ সামরিক সহায়তা দেওয়ার পর।