ভারতের জন্য বড় উদ্বেগ অপরিশোধিত তেলের দাম। দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশ তেল আমদানি নির্ভর। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে মুদ্রাস্ফীতি, বাণিজ্য ঘাটতি এবং টাকার বিনিময় হারের ওপর।

ছবি - এআই
শেষ আপডেট: 4 March 2026 11:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার সকালে মার্কেট খুলতেই বড়সড় ধাক্কা খেল দেশের শেয়ারবাজার (Sensex Crashed)। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অস্থিরতা (US Israel Iran Conflict) ও অপরিশোধিত তেলের দামের হঠাৎ বৃদ্ধিতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চাপে তৈরি হয় আতঙ্ক, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে সূচকে।
সকাল ৯টা ৩৪ মিনিটে বিএসই সেনসেক্স (BSE Sensex) ১,৭২০.৮৯ পয়েন্ট বা ২.১৪ শতাংশ নেমে দাঁড়ায় ৭৮,৫১৭.৯৬-এ। একই সময়ে নিফটি ৫০ (Nifty 50) পড়ে যায় ৫২১.৭০ পয়েন্ট, সূচক নেমে আসে ২৪,৩৪৪.০০-এ। বাজার খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই লগ্নিকারীদের প্রায় ৯.৩ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ উবে যায়।
যুদ্ধের আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে চাপ
এই তীব্র পতনের নেপথ্যে রয়েছে আমেরিকা এবং ইরানের ক্রমবর্ধমান সংঘাত (Iran Israel War)। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে - এই আশঙ্কাতেই ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।
ওয়াল স্ট্রিটে আগের রাতে পতনের পর এশিয়ার বাজারেও তার প্রতিফলন দেখা যায়। আন্তর্জাতিক বাজারের সেই দুর্বলতার ছায়া পড়ে ভারতীয় বাজারেও।
তেলের দাম বাড়ায় ভারতের দুশ্চিন্তা
ভারতের জন্য বড় উদ্বেগ অপরিশোধিত তেলের দাম। দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশ তেল আমদানি নির্ভর। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে মুদ্রাস্ফীতি, বাণিজ্য ঘাটতি এবং টাকার বিনিময় হারের ওপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে প্রকৃত সমস্যা তৈরি হবে। মুদ্রাস্ফীতি বাড়া, মুদ্রার দুর্বলতা এবং প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার সম্ভাবনাই বাজারের বড় চিন্তা। এর প্রভাব পড়তে পারে কর্পোরেট আয়ে। তবে সংঘাত তিন-চার সপ্তাহের মধ্যে থেমে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলেও মনে করছেন তাঁরা।
একই সঙ্গে অনুমান, অদূর ভবিষ্যতে বাজারে ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে। নিফটি যদি ২৪,৫০০-এর উপরে স্থির থাকতে না পারে, তা হলে সূচক ২৪,০০০ থেকে ২৩,৫৫০ পর্যন্ত নামার ঝুঁকি রয়েছে।
বড় পতন একাধিক শেয়ারে
নিফটি ৫০–এর অধিকাংশ শেয়ারেই সকালে বিক্রির চাপ দেখা যায়। লারসন অ্যান্ড ট্যুব্রো (Larsen & Toubro) প্রায় ৬.৯৭ শতাংশ পড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। টাটা স্টিল (Tata Steel), শ্রীরাম ফাইনান্স (Shriram Finance), ইন্টার গ্লোব এভিয়েশন (InterGlobe Aviation) এবং আদানি পোর্টস (Adani Ports)-এর শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যায়।
এখন বাজারের নজর থাকবে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি ও তেলের দামের গতিপ্রকৃতির দিকে। আগামী কয়েক দিনে বিনিয়োগের মনোভাব অনেকটাই নির্ভর করবে এই দুই বিষয়ের ওপর।