বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়, “এই ধরনের মন্তব্য কেবল কিছু ব্যক্তির ব্যক্তিগত মতামত। এর সঙ্গে ইরান সরকারের কোনও সরকারি অবস্থানের সম্পর্ক নেই।”

টোলের তথ্যকে সরাসরি খারিজ করে দিল ইরান
শেষ আপডেট: 23 March 2026 17:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী (Hormuz Pronali)-তে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করতে চাইছে ইরান। তাই বিদেশি জাহাজ পারাপারের জন্য ২ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৮.৮ কোটি টাকা) টোল দিতে হবে - এমন নীতি চালু করেছে দেশটি। সেই তথ্যকে সরাসরি খারিজ করে দিল ইরান (Hormuz shipping fee controversy)। তেহরানের দাবি, এই ধরনের খবর সম্পূর্ণ “ভিত্তিহীন” (Iran Hormuz transit fee denied)।
সোমবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ ভারতে অবস্থিত ইরান দূতাবাস একটি পোস্টে জানায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলির কাছ থেকে ২ মিলিয়ন ডলার নেওয়ার যে দাবি উঠেছে, তার কোনও ভিত্তি নেই।
বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়, “এই ধরনের মন্তব্য কেবল কিছু ব্যক্তির ব্যক্তিগত মতামত। এর সঙ্গে ইরান সরকারের কোনও সরকারি অবস্থানের সম্পর্ক নেই।”
এই প্রতিক্রিয়া আসে কয়েক দিন আগে প্রকাশিত একটি রিপোর্টকে কেন্দ্র করে। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, একটি বেসরকারি তেলবাহী সংস্থাকে নিরাপদে হরমুজ পারাপারের অনুমতি পেতে ২ মিলিয়ন ডলার 'টোল' দিতে হয়েছে ইরানকে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়, ইরান নাকি তাদের জলসীমার মধ্য দিয়ে একটি ‘নিরাপদ’ শিপিং করিডর তৈরি করেছে, যেখানে অনুমোদিত জাহাজগুলিকে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। এমনকি, একাধিক দেশ যেমন ভারত, পাকিস্তান, ইরাক, মালয়েশিয়া ও চিন - তেহরানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে জাহাজ চলাচলের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে বলেও দাবি করা হয়।
এই প্রক্রিয়ায় ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর কিছু আধিকারিক নাকি একটি প্রাথমিক জাহাজ-রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থাও তৈরি করেছে ‘অনুমোদিত’ জাহাজগুলির জন্য।
ভারতের সাফাই: ‘ফেক নিউজ’
এই বিতর্কে ভারতের নাম জড়ানো নিয়েও তৎপর দিল্লি। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনও ভারতীয় তেলবাহী জাহাজ ইরানকে টাকা দিয়ে হরমুজ পার হয়েছে, এমন দাবি সম্পূর্ণ ভুয়ো।
Fake News Alert!
Please stay alert against such false and baseless claims and posts on social media! pic.twitter.com/GugIoBhihE— MEA FactCheck (@MEAFactCheck) March 23, 2026
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের ফ্যাক্ট-চেক হ্যান্ডল সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে সতর্ক করে বলেছে, “Fake News Alert! এই ধরনের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন পোস্ট থেকে সতর্ক থাকুন।”
যুদ্ধের প্রভাব: তেলবাজারে আগুন
ইরান-আমেরিকা সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে পড়তেই হরমুজ প্রণালী এখন এই যুদ্ধের সামরিক ও অর্থনৈতিক, দুই ক্ষেত্রেই কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বিশ্ব বাজার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ - সবই এখন এই জলপথকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে।
সংবাদ সংস্থা AFP-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের পদক্ষেপ কার্যত হরমুজ প্রণালীতে একপ্রকার ‘অঘোষিত অবরোধ’ তৈরি করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের দামে।
গত এক মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৫ ডলার ছাড়িয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কাই এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে এই ফি-বিতর্ক কেবল তথ্য-যুদ্ধের অংশই নয়, এটি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, বিশ্ব জ্বালানি অর্থনীতি এখন কতটা অনিশ্চয়তার মধ্যে দাঁড়িয়ে রয়েছে।