এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আগেই সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছিলেন, শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছে ইরানের যুদ্ধজাহাজে আঘাতের জন্য আমেরিকাকে 'মূল্য' দিতে হবে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 5 March 2026 14:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত মহাসাগরে ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার (US Submarine Attack On Iran Ship) কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ হল। ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে, উত্তর উপসাগরীয় এলাকায় একটি মার্কিন তেলবাহী জাহাজে (Attack On US Tanker) তারা আঘাত হেনেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের উত্তেজনা (US-Israel Iran Conflict) আরও বেড়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আগেই সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছিলেন, শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছে ইরানের যুদ্ধজাহাজে আঘাতের জন্য আমেরিকাকে 'মূল্য' দিতে হবে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর (Hormuz) মধ্য দিয়ে যাতায়াত করা জাহাজগুলির চলাচল তাদের নজরদারির মধ্যে থাকবে। এই ঘোষণাকে সংঘাতের বড়সড় বিস্তার হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই সংঘাতে ইরানে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি প্রাণ হারিয়েছেন ছয় জন মার্কিন সেনাও।
এর আগেই আমেরিকার একটি সাবমেরিন শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের কাছে ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেয়। ফলে সংঘাতের ক্ষেত্র ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ডুবে যাওয়া ইরানি জাহাজটি ভারতের বিশাখাপত্তনম থেকে দেশে ফিরছিল। গত মাসে দুটি নৌ-মহড়ায় অংশ নেওয়ার পর জাহাজটি ইরানে ফিরছিল বলে জানা গেছে। সেই সময়েই মার্কিন সাবমেরিনের আঘাতে জাহাজটি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিস্ফোরণের পর জাহাজটির পেছনের অংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা সমুদ্রে ডুবে যায়।
এই ঘটনায় অন্তত ৮৭ জন ইরানি নাবিকের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। জাহাজটির অধিনায়ক ও কয়েক জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সহ মোট ৩২ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এখনও ৬০-এরও বেশি নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে আমেরিকার প্রতিরক্ষা সচিব সাংবাদিকদের বলেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজকে মার্কিন সাবমেরিন ডুবিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী এই ঘটনাকে সমুদ্রে সংঘটিত এক ভয়াবহ আক্রমণ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ভারতের নৌবাহিনীর অতিথি হিসেবে থাকা একটি জাহাজকে কোনও সতর্কতা ছাড়াই আন্তর্জাতিক জলসীমায় আঘাত করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের নৌঘাঁটি ও ড্রোনবাহী জাহাজ লক্ষ্য করেও হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। পাল্টা ইরান বিভিন্ন দেশে আমেরিকা ও তাদের মিত্রদের ঘাঁটি, দূতাবাস এবং জ্বালানি অবকাঠামোর দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে খবর। ফলে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত দ্রুতই আরও বিস্তৃত ও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।